মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

English Version

স্যার ফজলে হাসান আবেদ আর নেই

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২১ ডিসেম্বর’১৯: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজকর্মী স্যার ফজলে হাসান আবেদ আর নেই। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি মানুষটির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশান এরশাদ ও রাজনীতির মাঠের বিরোধী দল বিএনপি।

স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে রাখা হবে। শেষ শ্রদ্ধার পর সেখানে জানাজা হবে তার। এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন ভূস্বামী। তার মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন ওই অঞ্চলের জমিদার।

ফজলে হাসান আবেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ও পরে ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি শেল অয়েল কোম্পানিতে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন। পরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্র্যাক। বর্তমানে তার এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা।

সামাজিক উন্নয়নে তার অসামান্য অবদানের জন্য ফজলে হাসান আবেদ ১৯৮০ সালে র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার মাহবুবুল হক পুরস্কার এবং গেটস ফাউন্ডেশনের বিশ্ব স্বাস্থ্য পুরস্কার লাভ করেন। দারিদ্র্য বিমোচন এবং দরিদ্রদের ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করে।

২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৪ সালে লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল ম্যারিট, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

সর্বশেষ চলতি বছর তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০০১ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। এরপর সংস্খাটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরবর্তী ১৮ বছর। চলতি বছরের মাঝামাঝি অবসরে যান এই কর্মী মানুষটি। এরপর তাকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস চেয়ার মনোনীত করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত খবর










মাত্র ৫শ টাকায় করোনা টেস্ট কিট