শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭

English Version

...প্রয়োজন লংটার্ম মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এবং চেয়ারম্যান, 

রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যাল লি:

নিজস্ব প্রতিবেদক: এ যেন ভীষণ সুন্দরের গল্প। মুগ্ধতা ভরা চারপাশ। আমরা হারিয়ে যাই। আলোকিত অতীতে। তিনি বলে যাচ্ছিলেন। অনর্গল। চোখের সামনে যেন ভেসে ওঠে জীবন্ত একাত্তর। মুক্তিযুদ্ধ। টের পাই, কী চমৎকার আত্মবিশ্বাস-দৃঢ়তা। বলছিলেন, উন্মাতাল দিনগুলোর দুঃসাহসিক শব্দগাথা।

এমন সহজ-সরল প্রাজ্ঞজন, সমাজে বিরল। বলা যায়, বেঁচে থাকা ইতিহাস। বাঙ্গালির, বাংলাদেশের। তাঁর সহজীয়া ভঙ্গীর উচ্চারণে আমরা ন্ব্যুজ হই। অবনত হই প্রাজ্ঞতায়- প্রগাঢ় ভালবাসায়।

ডা. সারওয়ার আলী। ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যাল লি:-এর চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ডিরেক্টরস। পাশাপশি বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান, বারডেম হাসপাতালের। ভাইস প্রেসিডেন্ট, ছায়ানট। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেন আমারহেলথ ডটকম-এর সঙ্গে। ১৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে। বারডেম হাসপাতালের বোর্ড রুমে। অনেকক্ষণ। সেই কথোপকথনের আলোকিত বাক্যসমষ্টি নিয়েই এই লেখা। আজ প্রকাশিত হলো সাক্ষাতকারের ১ম পর্ব।

সাক্ষাতকার: তাপস রায়হান, ছবি: আওয়াল হোসেন

আমারহেলথ ডটকম: আপনিতো একসময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন? ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পড়তেন। সেইসময়ের কথা একটু বলবেন?

ডা. সারওয়ার আলী: ১৯৬৩ সালে, পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলন হয়। তখন আমিসহ ৫ জন সহ-সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হই। আরও ছিলেন-- মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, পঙ্কজ ভট্টাচার্য। এরা সবাই বর্তমানে রাজনীতির মানুষ। আমি ছাড়া। বরাবর আমি বৃত্তের বাইরের মানুষ। ’৬৭ সাল পর্যন্ত যুক্ত ছিলাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে। যদিও আমার পড়াশোনা ’৬৫ সালেই শেষ হয়েছিল। আমি মনে করি, ঐ সময়টা ছিল জীবনের স্বর্ণযুগ।

আমারহেলথ ডটকম: মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে জড়ালেন?

ডা. সারওয়ার আলী: ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হবার পরই সিদ্ধান্ত নেই যুদ্ধে যাবার। ১৪ এপ্রিল আমি দেশ থেকে চলে যাই, ভারতের আগরতলায়।

আমারহেলথ ডটকম: আমরা জানি, মুক্তিযুদ্ধে আপনার একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। একটু বিস্তারিত বলবেন?

ডা. সারওয়ার আলী: মূলত: ৩ ধরণের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে আমাকে। প্রথমত: মে মাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার এবং ভারত সরকার উপলদ্ধি করেন, মার্কিন প্রশাসন এবং চীনের নেতৃত্ব পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তখনতো বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত। সে ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থন না পেলে, ভারতের পক্ষে এত বড় ঝুঁকি নেয়া কঠিন হবে। তখন মে মাসে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে, শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল যায়। সেটিই প্রথম বিদেশে প্রতিনিধিদল- বাংলাদেশের। সেই প্রতিনিধিদলের নেতা ছিলেন- প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ। এর বাইরে ছিলেন ন্যাপের মাহাবুব আলী এবং আমি। সম্মেলনে আমরা গণহত্যার বিষয়ে বলি। জানাই যে, আসলে স্বাধীনতা ছাড়া এর সমাধান কোনভাবেই সম্ভব নয়। এরপর সেখান থেকে অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশে যাই। তারপর পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে যাই, অস্থায়ী সরকারের নির্দেশে। সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সরকারি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চান। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে নিশ্চুপ। সেইসময় ভারতের সঙ্গে সোভিয়েত রাশিয়ার একটি মৈত্রি চুক্তি হয়। তখন বিষয়টি ছিল ড্রাফট আকারে। সেখানে আমাদের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যুদ্ধে আমার মূল দায়িত্ব ছিল- মুক্তিযুদ্ধে যারা যেতে চান, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। যদিও আমাকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। এরপর ১৬ ডিসেম্বরে, ঢাকা প্রবেশ করি। যে সম্বর্ধনা পেয়েছি, সেইসময়, তা স্বপ্নের মতোন। তবে- বীর মুক্তিযোদ্ধা, কথাটার আমি পক্ষপাতি না।

আমারহেলথ ডটকম: যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তা কি পূরণ হয়েছে?

ডা. সারওয়ার আলী: মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এটা চলমান। তবে মিশ্র অনুভূতি আছে। বর্তমান সরকারের আমলে কিন্তু অবিশ্বাস্য গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিশু মৃত্যুহার কমেছে। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে অনেক। এটা স্বীকার করতেই হবে- মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। সামাজিক সূচকের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। তবে অসুস্থতার বিষয় হচ্ছে, মানুষের মনোজগতে একটা ধ্বস নেমেছে। আসলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ফলে এই দীর্ঘসময়ে সমাজে বেড়েছে পশ্চাতপদতা, ধর্মান্ধতা। সরকার সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট করছে। একটা লংটার্ম মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন।

আমারহেলথ ডটকম: আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান নিয়ে কিছু বলবেন?

ডা. সারওয়ার আলী: যে কোন স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুটো দিক থাকে। একটা হচ্ছে, তার মান আর অন্যটা, স্বাস্থ্যসেবাটা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে যথেস্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে চিকিৎসার মানের ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। এখন সমাজে লোভের বিস্তৃতি ঘটেছে। এটা ভয়ংকর,সর্বগ্রাসী। (অসমাপ্ত)

 

সর্বাধিক পঠিত খবর

এলার্জি ও অ্যাজমার কারণ আবিষ্কার!



ভুলেও রাতে তরমুজ খাবেন না

একটি ওষুধে ওজন কমবে ১০ কেজি!


বয়স কমিয়ে দেবে সজনে!


শিশু খেতে না চাইলে কি করবেন?

রক্ত সঞ্চালন বাড়ান