শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭

English Version

সুন্দর জীবনের জন্যই মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হবে-

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

ভিসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুগ্ধছোঁয়া মুখচ্ছবি তাঁর! এক আবেগী, কাব্যমুহূর্ত! কী অসাধারণ, সহজ-সরল ভঙ্গীতে কথা বলেন। দ্রুত,স্পষ্ট উচ্চারণে। কখনও চলিত, কখনও কথ্য আবার কখনও বা আদি-অকৃত্রিম ভাষায়। তাঁর কণ্ঠ উচ্চারিত কিছু শব্দ যেন টাঙ্গাইল, ঘাটাইল, ভবনদত্তের মৃত্তিকাছোঁয়া- যেখানে তিনি জন্মেছিলেন, সেই ১৯৫৫ সালের ১২ মার্চ।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। অসহ্য ব্যস্ততা তাঁর। কে জানে, কীভাবে সামলে নিচ্ছেন এতো সব! দেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়- বিএসএমএমইউ। আর এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপাচার্য তিনি।

২  এপ্রিল, রবিবার। মধ্যদুপুর। প্রায় শ’খানেক মানুষ তাঁর অপেক্ষায়। তিনি নেই। অত:পর এলেন। ডাকলেন ভিতরে। বসলেন, পাশের বোর্ডরুমে। অবাক করে বললেন- তোমাদের সময় ১০ মিনিট। বললাম- আমারহেলথ ডটকম দেশের মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ে আপনার কাছে অনেক কিছু জানতে চায়। জানাতে চায় বিশ্বকে। সেখানে ২০ মিনিটও লেগে যেতে পারে। নিঃশব্দে হাসলেন। বললেন- বলো? আমরা শুরু করলাম।

সাক্ষাতকারঃ তাপস রায়হান, ছবিঃ এস এম আউয়াল

আমারহেলথ ডটকম: আমাদের দেশের মানুষ কি স্বাস্থ্য সচেতন?

ডা. কামরুল হাসান খান: যতোটা প্রয়োজন, ততটা না। তবে আগের চেয়ে কিন্তু মানুষ অনেক বেশি সচেতন। এটা দিন দিন বাড়ছে। অনেক কাজ হচ্ছে। এটা আরো বাড়বে। গ্রামাঞ্চলেও মানুষ এখন ডাক্তার পাচ্ছে। এখন আর ঢাকায় আসতে হচ্ছে না তাদের। সবচেয়ে বড় কথা- চিকিৎসার ডিসেন্ট্রালাইজেশন হয়েছে। খেয়াল করে দেখবা, অনেক কাজ হচ্ছে। আগে মানুষকে এ বিষয়ে বলতে হতো। এখন হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। চিকিৎসার সুযোগ কিন্তু বাড়ছে। যেভাবে কাজ হচ্ছে, এতে মানুষের সুযোগটাও বাড়ছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছে। কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক-এ যাচ্ছে। এর মানে হচ্ছে, মানুষের মধ্যে নিজেকে সুস্থ রাখার বোধটা দিন দিন বাড়ছে।

আমারহেলথ ডটকম: এর সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্কটাতো গুরুত্বপূর্ণ?

ডা. কামরুল হাসান খান: অবশ্যই। দেশে শিক্ষার হারতো দিন দিন বাড়ছে। ফলে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতাটাও বাড়ছে। এখন কিন্তু এটা বাড়ছে। শিক্ষা মানে কী? এর মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের চর্চা করবে। নতুন নতুন জ্ঞান আহরণ করবে। এর মধ্য দিয়েই মানুষ সচেতন হয়। মানুষ স্বাস্থ্য, সমাজ, রাজনীতি এবং সুন্দর জীবনের জন্যই সচেতন হবে। এর জন্য দরকার, বাস্তবসম্মত পারিবারিক সুন্দর পরিকল্পনা। তাহলে কিন্তু জীবনে হতাশার পরিমানটা কম হয়। উপার্জনের চেয়ে স্বপ্ন বেশি হলেই হতাশা বেশি হয়।

আমারহেলথ ডটকম: একজন চিকিৎসকের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে কিছু বলবেন?

ডা. কামরুল হাসান খান: চিকিৎসকের সামাজিক দায়বদ্ধতা কিন্তু সীমাহীন। আমাদের শিক্ষায় বলা আছে, চিকিৎসক হচ্ছেন- একজন সোশ্যাল লিডার। সামাজিক নেতা। রোগ প্রতিরোধ করাও চিকিৎসকের দায়িত্ব। সত্যি বলতে কী, চিকিৎসকের কিন্তু সমাজ এবং মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাটা জানতে হয়।

আমারহেলথ ডটকম: আমাদের আসলে এ বিষয়ে কী করা উচিত?

ডা. কামরুল হাসান খান: এটা একটা সামাজিক আন্দোলন। মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানাতে হবে। সচেতন করতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। বলতে হবে। আমাদের অদ্ভুত একটা সাইকোলজী আছে। অনেক কিছু ধরিয়ে দিতে হয়। যেমন ধরো-- সেনিটেশন। এখানে আমাদের সাকসেস কিন্তু ৯৯%। আর্সেনিকের বিষয়টা দেখো। মানুষকে জানাতে হবে, বোঝাতে হবে। 

সবশেষে, এই আলোকিত মুক্তিযোদ্ধা বললেন- আমাদের অর্জনগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে- এই দেশটার জন্যেই ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তধোয়া, স্বপ্নের এই বাংলাদেশ নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা যেন বাস্তবায়ন করি। আমরা যে, যেখানে, যে ধরণের দায়িত্ব পালন করছি- তা যেন আন্তরিকভাবে, সঠিকভাবে করি।

  

সর্বাধিক পঠিত খবর

এলার্জি ও অ্যাজমার কারণ আবিষ্কার!



ভুলেও রাতে তরমুজ খাবেন না

একটি ওষুধে ওজন কমবে ১০ কেজি!


বয়স কমিয়ে দেবে সজনে!


শিশু খেতে না চাইলে কি করবেন?

রক্ত সঞ্চালন বাড়ান