রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮

English Version

হেপাটাইটিস-বি, ন্যাসভেক ও ডা. স্বপ্নীল…

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭--- তখন মধ্যাহ্ন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, ভিসি বিল্ডিংয়ের সামনে । আমরা দু’জন। জানি না, তিনি কোথায় বসেন? ফোন করতেই, প্রাণখোলা হাসি। বললেন- আমি গাড়িতে, আসছি…। আপনি ডি-ব্লকের,  ৫ তলার, … নম্বর রুমে বসুন। ওটা আমার রুম।

সেখানে গেলাম, দুজন। রুম তালাবদ্ধ। এবার? দাঁড়িয়ে থাকলাম, কিছুক্ষণ। রবিবার দুপুরে। এরপর একজন মধ্যবয়সী এলেন। রুম খুললেন, ডাক্তারের। ছাড়লেন, এসি। আমরা বসলাম। মুগ্ধ হলাম, রুমের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনে। দেখলাম, হৃদয় প্রশান্ত হওয়া কিছু ছবি।

ডা. মামুন-আল-মাহতাব। মধ্যবয়সী। সুদর্শন। স্বপ্নের মতোনই মায়াবী ডাক নাম তাঁর- স্বপ্নীল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আব্দুল আলীম চৌধুরীর জামাতা।

মেধাবী এই চিকিৎসকের সাফল্যে অবাক বাংলাদেশ। কথা বলেন, দ্রুত। অথচ হৃদয়ছোঁয়া। অসম্ভব আন্তরিকতায় ভরা কণ্ঠ। জানালেন- বিস্তারিত, সব।

সাক্ষাতকার : তাপস রায়হান, ছবি: এস এম আওয়াল ।

আমারহেলথ ডটকম: আপনি এবং আপনার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকের মূল সাফল্যটা আসলে কী? (এমন প্রশ্ন শুনে তিনি হাসলেন। বললেন-)

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: সহজ কথায় বলি- পৃথিবীতে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফেজ- থ্রির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, আমরা ছাড়া কেউ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি। ইমিউন থেরাপীর মাধ্যমে আমরাই প্রথম এটা করেছি, বি-ভাইরাসকে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়েছে।

ড. ফজলে আকবর ছিলেন, আমাদের টিম প্রধান। তিনিই প্রথম দেখালেন- হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউন থেরাপী ডেভেলপ করা যায়। রিসার্চের মূল বিষয়টাই ছিল,  হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউন থেরাপী ডেভেলপ করা যায়, কী যায় না? তিনি তাঁর প্রকাশনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন- এই যে ‘সারফেস এন্টিজেন’ আর ‘কোর এন্টিজেন’ মানবদেহে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এই দুটোকে এক করে সম্ভবত বি-ভাইরাসের বিরুদ্ধে মনে হয়, কাজ করবে? এবং এর ফলে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসকে ‘নির্মূল’ করা সম্ভব।

আমারহেলথ ডটকম: আমরা কি সাধারণ কথায়, একে ‘নির্মূল’ করাই বুঝবো?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: ড. আকবর তার ল্যাবে, ইঁদুরের ‍ওপর প্রয়োগ করে, এই কাজ করেছেন। প্রথমে আমরা ১৮ জন মানুষের শরীরে ওষুধটা প্রয়োগ করে দেখেছি যে, ওষুধটা সেভ না আনসেভ।

ফেজ- ১ দেখা হয়েছে, ওষুধটা কার্যকরী কিনা, নিরাপদ কীনা? ফেজ- ২তে দেখা হয়েছে, ওষুধটা কীভাবে কাজ করে। ফেজ- ৩তে দেখা হয়েছে, কোনটা ভালো কাজ করে। আমরা দেখেছি, ন্যাসভেকের কোন সাইড এফেক্ট নেই ।

আমারহেলথ ডটকম: আপনি বলতে চাইছেন, এই ওষুধের কোন সাইড এফেক্ট নেই?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: না, ন্যাসভেকের কোন সাইড এফেক্ট নেই । মুখে খাওয়ার ওষুধ ৮-৯ বছর ব্যবহার করতে হয়। ইনজেকশন, সেগুলো ১বছর ব্যবহার করতে হয়। ন্যাসভেক মাত্র ৬ মাস ব্যবহার করতে হয়। আমরা গবেষণায় দেখেছি, ন্যাসভেকে লিভারের ডিজিস প্রগ্রেস করে না বরং ইমপ্রুভ করে।

আমারহেলথ ডটকম:  মানে, আপনারা একটি ‘টিম’ কাজ করেছেন?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: অবশ্যই। আর ড. ফজলে আকবর ছিলেন আমাদের টিম লিডার।

আমারহেলথ ডটকম: বাংলাদেশে কি এই ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: না। ফিজিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। কমার্শিয়ালি শুরু হয় নি।

আমারহেলথ ডটকম: কোন সমস্যা আছে?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: একটা ওষুধ কমার্শিয়ালি শুরু করতে গেলে কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কেউ একটা কনসেপ্ট দিলে, সেটা প্রমাণ করতে হয়। প্রাণিদেহে, মানবদেহে প্রয়োগ করতে হয়। দেখতে হবে, সেটা কাজ করে কী না? নিরাপদ কী না? এবং প্রচলিত অন্যান্য ওষুধের তুলনায় ভাল কাজ করে কী না? বা একই কাজ করে কী না? এরপরতো সেটা ওষুধ হবে? পুরোটাই একটা টিম ওয়ার্ক। আমরা প্রথমে ফেজ-১,২ সম্পন্ন করেছি। এরপর ফেজ-৩ করেছি। দেখেছি, ইন্টারফেরন এর চেয়ে ন্যাসভেক ভাল কাজ করে।

আমারহেলথ ডটকম: ওষুধটা কি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব:  একটা ওষুধের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২টি মিটিং লাগে। একটা হচ্ছে, ট্যাকনিক্যাল সাব কমিটি আরেকটা ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি। তবে ন্যাসভেকের জন্য ৪টা মিটিং হয়েছে। ইতোপূর্বে আমার জানামতে, কোন ওষুধ রেজিস্ট্রেশনের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কোন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়নি।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন করতে পারে না। বাংলাদেশে ন্যাসভেক এর জন্য ৪টা মিটিংয়ে, প্রায় ২০০/২৫০ লোকের স্বাক্ষর আছে এই বলে যে- এটা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া যেতে পারে।

আমারহেলথ ডটকম: আপনাদের এই ডিসকভারিতে ‘সরকার’ কোন ভূমিকা রাখতে পারে?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: না। এটা ওপেন মার্কেট ইকোনমির দেশ। ওটা কমিউনিস্ট দেশে হতে পারে। আমাদের দেশে সম্ভব না। আমাদের সরকার শুধু দেখবে,  নাগরিকের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেন বিষয়টা না যায়। আমরা যে গবেষণা করেছি, তা যেন নাগরিকের স্বার্থের বিরুদ্ধে না যায়।

আমারহেলথ ডটকম: আপনার সন্তুষ্টি নিয়ে কিছু বলবেন?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: শুধু আমার না, আমাদের সন্তুষ্টি একটাই, জীবনে হয়তো একটা সুযোগ আসতেও পারে- ওষুধটি প্রেসক্রাইব করার। এই বলে প্রশান্তি পাব যে, ওষুধটির ব্লকপ্রিন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

আমারহেলথ ডটকম: ‘স্বপ্ন’ নিয়ে ?

ডা. মামুন-আল-মাহতাব: (হাসতে হাসতে বললেন) আসলে আমার স্বপ্নতো শুধু ডাক্তারি করার। তবে, লিভার ক্যান্সার নিয়েও আমরা কাজ শুরু করবো। এ বিষয়ে, বিএমআরসি থেকে অনুমোদনও নিয়েছি। কে, কী বললো- সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি আমার কাজ করে যাবো। দেখা যাক…!

…ডা. মামুন-আল-মাহতাব (স্বপ্নীল)-এর স্বপ্ন খুঁজে পাবে, বাস্তবতার আলো- যেখানে কথা বলবে, মা-নু-ষ। যাঁরা কেবলি ভালবাসে স্বপ্ন দেখতে, স্বপ্ন দেখাতে-ভালবাসতে।

সর্বাধিক পঠিত খবর

ত্বকে ফোসকা পড়লে কি করবেন?

খালি পেটে এক কোয়া রসুন!



হলুদ কমাবে যেসব রোগের ঝুঁকি

ঔষুধি গুণে ভরপুর থানকুনি পাতা

যৌনরোগ 'এমজি' হতে পারে পরবর্তী মরণব্যাধি


জোঁক চিকিৎসায় সুস্থ ১৫০ রোগী