সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

English Version

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নীরব বিপ্লব হয়েছে-

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন

সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নীল, শান্ত, বিস্তৃত জলরাশি। যেন এক মহাসমুদ্র, শীতলস্পর্শ ভরা । গভীর থেকে গভীরতর, আত্মাশুদ্ধ কাব্যগাঁথা । তাঁর উচ্চারিত শব্দাবলী, ছুঁয়ে যায় অন্তরাত্মা। কী অসাধারণ, সহজ-সাবলীল কথার গাঁথুনি।

তিনি একজন। জটিল সময়ের সরল, সাদা মনের মানুষ। ভোর থেকে গভীর রাত। দুরন্ত ছুটে চলা। অবিরাম ব্যস্ততা,ভয়ঙ্কর।

কোন অবসর নেই। এর মাঝেই কথা বলেন, হেসে হেসে। মনে হয়, তিনি বাস করেন অন্য কোন গ্রহে! শুদ্ধ, পবিত্র আত্মার মানুষ ছাড়া ,অমন গঠনে নিজেকে তৈরি করা ভীষণ কঠিন। একজন আলোকিত মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সাংসদ।

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। জন্ম নিয়েছিলেন, ১৯৫১ সালের ১৫ মার্চ, ঢাকাতেই। শরীর-মনের কারিগর। ১৯৭৬ সালে হলেন, ডাক্তার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি।

৪ অক্টোবর, বুধবার। বিএমএ অফিস। রাত সাড়ে ৮টা। তিরিশোর্ধ্ব মানুষ, অধিকাংশই ডাক্তার,তাঁর অপেক্ষায়। তিনি নেই।

আমরা দু’জন। দাঁড়িয়ে আছি নীচে, গাড়ি বারান্দায়। এলেন, রাত ৯টায়। গাড়ির ভিতর থেকে, মিষ্টি হেসে, ইশারা করলেন। গাড়ি থেকে নেমেই বললেন- আর কইয়ো না, আবার ১০ টায় যেতে হবে, জানাযায়। আসো…।

বললেন- বসো, আমি আসতাছি। বসলাম, পাশের রুমে। কানে আসছে, বাজারের মতোন শব্দ। একটু পর একজন এসে বললেন- আসেন। স্যার ডাকতাছে। আমরা বসলাম শীতল এক রুমে। দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। হেসে বললেন- বলো, কী বলতে হবে? শুরু হলো…।

সাক্ষাতকারঃ তাপস রায়হান, ছবিঃ এস এম আউয়াল  

আমারহেলথ ডটকম: প্রথমেই বলুন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেমন?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগের থেকে অনেক ভাল। শুনলে খুশি হবে- ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (হু) থেকে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের একদল প্রতিনিধি এসেছিলেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন। বলেছেন- আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অনেক ভাল। পাশাপাশি তারা এও বলেছেন- জনগণের দোরগোঁড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা পৌঁছে দিতে এই সরকার, আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

আমারহেলথ ডটকম: পার্শ্ববর্তী কোন দেশ?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: তারা বলেছেন, বেশ কয়েকটি দেশের কথা । জানিয়েছেন- ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যব্যবস্থার চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেক ভাল।

আমারহেলথ ডটকম: আপনি কি বলতে চাইছেন, সরকারি পর্যায়ে যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তা জনবান্ধব?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: নিঃসন্দেহে। দেখো, কয়েকদিন আগে আমরা গিয়েছিলাম, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে। তোমরা জানো, এই শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আমি ৩ দিন আগের কথা বলছি। সেখানে, শরণার্থীরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। যে সব মহিলার ডেলিভারি হচ্ছে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছিল, সেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। কলেরা, ডায়রিয়া, জ্বর নাকি মহামারির আকার ধারণ করবে। কই, আমিতো কিছুই দেখলাম না? আমি মনে করি, সেখানে যে সমস্ত চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা কাজটাকে অসম্ভব আপন ভেবেই করছেন। ফলে কোনধরণের স্বাস্থ্যসমস্যার চিত্র আমি দেখিনি। সরকার যদি জনবান্ধব না হতো, তাহলে কি এটা সম্ভব ছিল?

আমারহেলথ ডটকম: বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র কেমন?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: সরকারি হাসপাতালগুলো সেইভাবে আপহোল্ড না করলেও- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ, সোহরাওয়ার্দী, পঙ্গুতে যাও- দেখবে, আমূল পাল্টে গেছে স্বাস্থ্যচিত্র। এসব হাসপাতালে কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তবে, এটা কিন্তু মানতেই হবে যে- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যে স্বাস্থ্যসেবা, সেই সেবা বাংলাদেশের অন্য কোন হাসপাতালে কিন্তু পাওয়া যাবে না। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় দেশের মানুষ সন্তুষ্ট।

আমারহেলথ ডটকম: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায়, আমাদের অগ্রযাত্রা কেমন?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: আমিতো মনে করি, এক্ষেত্রে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। সরকারের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশে যে কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে, সেটা কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটা নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। আমি বিএমএ’র পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে গিয়ে লক্ষ্য করেছি, সেখানে ছোট ছোট কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে যে সেবা দেওয়া হচ্ছে- তা এককথায় অসাধারণ।

আমারহেলথ ডটকম: স্বাস্থ্য-রোগ-চিকিৎসা, এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মূল দায়িত্বটা আসলে কোন পক্ষের?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: জনগণের সচেতনতা অবশ্যই জরুরি। এরপর আসে ডাক্তারের কথা। ডাক্তারতো অবশ্যই নিজের মনে করে, ভালবেসে কাজ করবে এবং তা করছে। সবচেয়ে বড় কথা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমরা সে পথেই অগ্রসর হচ্ছি।

আমারহেলথ ডটকম: খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কি অসুস্থতার বিষয়টা জড়িত না?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: সেটা একটা পর্যায়ে হতে পারে। আমাদের বিষয়টা কিন্তু খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। আমরা ভেজাল ওষুধের কথা বলতে পারি? সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপশি, আমাদের দেশে অনেক কম দামে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। সেটা বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে। কারণ বিদেশে সেই ওষুধই কিনতে হয়, অনেক চড়া দামে।

আমারহেলথ ডটকম: দেশের স্বাস্থ্যচিত্র আমূল পাল্টে দেয়ার যে সমস্ত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: মোটামুটিভাবে সন্তুষ্ট। সময় লাগবে। তবে সময়তো দিতে হবে। এটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। হয়তো আমরা বয়সের কারণে তা দেখে যেতে পারবো না। তবে নিকট ভবিষ্যতে, আমি নিশ্চিত- এই দেশ হবে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

আমারহেলথ ডটকম: শেষকথা ?

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন: বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে আরেকবার দরকার, শেখ হাসিনার সরকার। কারণ যে কাজগুলো অসম্পূর্ণ রয়েছে, তা শেষ করতে হবে।  

সর্বাধিক পঠিত খবর


নাকের পলিপ হওয়ার কারণ ও চিকিৎসা


বাসি রুটির এতো গুণ ?

কতটুকু ভাত খেলে মোটা হবেন না?




শীতে দই খাওয়ার উপকারিতা

গ্যাস সমস্যায় যেসব খাওয়া নিষেধ