বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

English Version

ক্যান্সার চিকিৎসায় আলো দেখাবেন বাংলাদেশী গবেষক

No icon তারকা স্বাস্থ্যকথা

ডা. অপূর্ব পন্ডিত: ০৭ মার্চ ’১৮: ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্যে কিউবার ভ্যাক্সিন ইতোমধ্যেই চিকিৎসাক্ষেত্রে জাগিয়েছে আশার আলো। অদূর ভবিষ্যতে পুরো পৃথিবীতে প্রচলিত ক্যামো, রেডিও থেরাপির জায়গা দখল করে নেবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং জাত ভ্যাক্সিন। রোজওয়েল পার্ক ক্যানসার ইনস্টিটিউট বাফেলো নিউইয়র্ক এর ক্যান্সার গবেষক  ডা. এ.এন.এম নাজমুল হাসান খান এমনটিই বিশ্বাস করেন।

তিনি ক্যান্সার নিয়ে আরো অনেক গবেষণায় সম্পৃক্ত আছেন বলেই, তাঁর গবেষণাকে নিজ দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মুখে আশার আলো ফোটাতে ইতোমধ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। ক্যান্সার বিষয়ে আমারহেলথ ডটকম’র নিয়মিত আয়োজন ‘হেলথটক’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন ক্যান্সার গবেষক ডা. খান।

আমারহেলথ ডটকম’র রিপোর্টার বিবি ফাতেমা খাতুন এর সঞ্চালনায় সোমবারের ‘হেলথটক’ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে রয়েছে আমারহেলথ ডটকম এর বিশেষ প্রতিবেদন।

আমারহেলথ ডটকম: আপনি একজন জ্যেষ্ঠ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। তাই আপনার কাছে জানতে চাই, ক্যান্সার কি?

ডা. খান: মানুষের শরীরের কোষ বা সেল এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই ক্যান্সার। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে একটি সেল থেকে অনেকগুলো সেল বৃহদাকারে জন্ম নিয়ে হতে পারে ক্যান্সার।

আমারহেলথ ডটকম: ক্যান্সারের নতুন কি চিকিৎসা এসেছে?

ডা. এ.এন.এম নাজমুল হাসান খান: ক্যানসারের বেশ কিছু প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, যেমন: অপারেশন, ক্যামোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ইত্যাদি। কিন্তু এছাড়াও বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রক্রিয়াধীন যেমন- ইমিউনোথেরাপি, পার্সনালাইজড মেডিসিন ইত্যাদি। ইমিউনোথেরাপি হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার সেল প্রতিরোধ বা হত্যা করা। এছাড়াও ইমিউনোথেরাপি’র সহায়তায় পার্সনালাইজড মেডিসিন নামক উদ্ভাবন এর মাধ্যমে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, রোগির শরীরে কোন ধরনের জেনেটিক ত্রুটির ফলে এটি হচ্ছে। এমনকি কোন চিকিৎসা ঐ ব্যক্তির জন্য কার্যকর হবে। 

আমারহেলথ ডটকম: আপনি ডেভেলপিং ক্যান্সার ট্রিটম্যান্ট নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি আপনার কোন কাজটি সফলতা লাভ করেছে?

ডা. খান: আমার কাজগুলো সব সাধারণত প্রি-ক্লিনিক্যাল। প্রি-ক্লিনিক্যাল বলতে আমি, চামড়ার বিভিন্ন মডেল সিস্টেমের কাজ করে যাচ্ছি। সহজ করে বলতে গেলে, সেই সাথে রয়েছে রক্তের সেলের ক্যান্সার বিষয়ে কাজ। এছাড়াও মেলানোমা নামক একধরনের স্কিন ক্যান্সার নিয়েও আমি কাজ করেছি। গত পাঁচ বছর ধরে আমি যুক্ত আছি ওভারিয়ান ক্যান্সার সম্পর্কিত কাজের সাথে। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি এবং এর কোন চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এ রোগে মৃত্যুর প্রধান কারণ, রোগিরা চূড়ান্ত পর্যায়ে ডাক্তারের নিকট আসেন। রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হওয়ায়, চিকিৎসা ও অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন স্ক্রিনিং টুলস, কিন্তু সেটা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সেই টুলস ডেভেলপ করা আমার কাজ। এছাড়া, ওভারিয়ান ক্যান্সার নিরাময়ে ইমিউনোথেরাপি’র কাজটিও আমি বর্তমানে করে যাচ্ছি। 

আমারহেলথ ডটকম: ক্যান্সার হয়েছে কি না সেটা কিভাবে নির্ণয় করা যায়? এ রোগ থেকে মুক্তির উপায় কি?

ডা. খান: বেশ কিছু টুলস বা যন্ত্রপাতি রয়েছে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে যে, ক্যান্সার হয়েছে কি না। এছাড়াও নতুন সংযোজিত সিস্টেমও রয়েছে যেমন: জেনেরিক টেস্টিং, এর মাধ্যমেও জানতে পারবেন ক্যান্সার হয়েছে কি না। নানা কারণে ক্যান্সার হতে পারে যেমন- জেনেটিক বা বংশগত, পরিবেশগত, ভাইরাসগত, খাদ্যাভ্যাসগত এবং রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে । সুতরাং আমাদের উচিৎ যথাসম্ভব ক্যান্সার হওয়ার কারণগুলো এড়িয়ে চলা। ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষার জন্য রয়েছে সেলফ এক্সাম, মেমোগ্রাফি, স্কিন টেস্ট ইত্যাদি। যদি আমরা এগুলো নিয়মিত গুরুত্বের সাথে মেনে চলি, তাহলে এ মরণব্যাধি থেকে আমরা অনেকাংশে মুক্তি পেতে পারি। আমরা যদি প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে পারি যে ক্যান্সার হয়েছে, তাহলে নিরাময় অনেকটা সম্ভব। তবে, স্টেজ-৩, ৪ এ চলে গেলে তখন আসলে অধিকাংশ সময়ই করার তেমন কিছুই থাকে না। এজন্য দরকার জনসচেতনতা। রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে, অবশ্যই ক্যান্সার চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া।

আমারহেলথ ডটকম: আপনি দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে আছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন তার পিছনে পেশাগত কোন কারণ আছে কি?

ডা. খান: আমি এসেছি মায়ের সাথে দেখা করতে। তাছাড়াও আমি চাই এ দেশের মানুষ সঠিক ক্যান্সার চিকিৎসা গ্রহণ করুক। আর সে লক্ষ্যেই এখানে একটি সেন্টার ফর পার্সনালাইজড মেডিসিন এবং ইমুনোথেরাপি চালু করা। যাতে উন্নত বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সঠিক ক্যান্সার চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। নিউইয়র্ক এর টেকনলোজিকে বাংলাদেশে সমন্বয়ের মাধ্যমে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হবে বলে আমি মনে করি। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগির মৃত্যুর অন্যতম কারণ পার্শ্বপ্রতিক্রয়া। সুতরাং এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে প্রচলিত থেরাপি – সার্জারি, ক্যামো থেরাপি, রেডিও থেরাপি- থেকে বেরিয়ে এসে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। এতে আমরা শুরুতেই রোগ নির্ণয় করে তার যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবো। 

সর্বাধিক পঠিত খবর

ফলে স্টিকার থাকার কারণ



সায়াটিকার ব্যথা ও চিকিৎসা




ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বন্ধে করণীয়