শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯

English Version

এখন ওষুধেও মরছে না মশা

No icon সারা দেশের খবর

স্বাস্থ্য ডেস্ক ০৯ জুলাই’১৯: বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা ১৪ মাস আগে বলেছিলেন, মশার ওষুধ কার্যকারিতা হারিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ছিটানো ওষুধে মশা মরছে না। সব জেনেও কর্তৃপক্ষ মশা মারার ওষুধ পরিবর্তনে পদক্ষেপ নেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওষুধ অকার্যকর হওয়ার কথা সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিকল্প ওষুধের সুপারিশ করেনি। তাই আগের ওষুধই ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যদি এখনই ওষুধ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে নতুন ওষুধ ব্যবহার করতে অন্তত ছয় মাস লাগবে।

সংশ্লিষ্ট গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা শহরে বহু বছর ধরে মশা মারতে একই ওষুধ বা কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, এত দিনেও ওষুধ পরিবর্তন করার পদক্ষেপ না নেওয়ার অর্থ সরকার বৈজ্ঞানিক তথ্য অস্বীকার করছে, না হয় জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্বহীন মনে করছে। জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবহেলা ও উদ্যোগহীনতা ক্ষমার অযোগ্য।

সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিবছরই মশার ওষুধ ছিটান। কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই ধরনের ওষুধ তাঁরা ব্যবহার করেন। পূর্ণাঙ্গ মশা ও মশার লার্ভা মারার জন্য যথাক্রমে এডাল্টি সাইট ও লার্ভা সাইট ব্যবহার করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে তাঁরা ১৯ কোটি টাকার ওষুধ কিনেছিলেন। উত্তর সিটি করপোরেশন কিনেছে ১৮ কোটি টাকার ওষুধ।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু ওষুধে মশা মরছে না এ বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ওষুধ পরিবর্তন করা হবে, নতুন ওষুধ কেনা হবে। এ ব্যাপারে আইসডিডিআরবি, আইইডিসিআর ও পরিবেশবিদদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি সভা ডাকা হয়েছে।’

রাজধানীর মশা মারতে দুই সিটি করপোরেশন বিদায়ী অর্থ বছরে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করার পরও কমছে না মশা। ফলে বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

গত পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। এরমধ্যে দুজন মারা গেছেন।

ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দুই সিটি করপোরেশনকেই দায়ী করছে নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, নগর কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো মশার ওষুধ ছিটায় না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, তারা পূর্ণ বয়স্ক মশা নিধনে প্রতি এক লিটার কেরোসিনের সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পারমেথ্রিন, শূন্য দশমিক দুই শতাংশ টেট্রামেথ্রিন এবং শূন্য দশমিক এক শতাংশ এস-বায়োঅ্যালাথ্রিন মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে ছড়িয়ে দেন।

১০ লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার টেমিফস নামে একটি ওষুধ মিশিয়ে তা মশার লার্ভার প্রজননস্থলে ছিটানো হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পূর্ণ বয়স্ক মশা মারতে এক লিটার কেরোসিনের সঙ্গে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ পারমেথ্রিন, শূন্য দশমিক দুই শতাংশ টেট্রামেথ্রিন এবং শূন্য দশমিক দুই শতাংশ অ্যালেথ্রিন মেশায়।

গত ১০ বছর ধরে মশা নিধনে এই ওষুধ ব্যবহার করে আসছে দুই সিটি করপোরেশন। নোকন লিমিটেড থেকে মশার ওষুধ সংগ্রহ করে ডিএনসিসি। আর ডিএসসিসিকে মশা মারার ওষুধ সরবরাহ করে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড।

গবেষণার ফলাফল দেখে পূর্ণ বয়স্ক মশা নিধনের জন্য ওষুধ পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। মশা মারতে পারমেথ্রিনের পরিবর্তে ম্যালাথিয়ন ও ডেল্টামেথ্রিন ব্যবহার করতে বলেছে তারা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, ওষুধ পরিবর্তনের চিন্তা করছেন তারা।

তিনি বলেন, “আমরা এই ওষুধ কেনার আগে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করি। সেই টেস্টে কিন্তু আমরা ওষুধের কার্যকারিতা কখনোই কম পাই নাই।

“তারপরও যেহেতু অভিযোগ আছে, অনেকদিন ব্যবহারের কারণে রেজিস্টেন্স ডেভেলপ করেছে। আইসিডিডিআরবির কাছে আমরা ডকুমেন্ট চেয়েছি। এটা যদি প্রমাণিত হয় ওষুধে কাজ হচ্ছে না আর বাজারে যদি অল্টারনেটিভ থাকে, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নাই।”

সর্বাধিক পঠিত খবর








পিঠের মেদ দ্রুত কমানোর তিন উপায়