বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

English Version

দেশে বায়ুদূষণের প্রভাবে অ্যাজমা বেড়েছে ২৪ গুণ, সিওপিডি ৫০

No icon সারা দেশের খবর

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১০ ডিসেম্বর’১৯: বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অ্যাজমা, সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমুনারি ডিজিজ) ও এআরআই (অ্যাকিউট রেসপেইরেটরি ইনফেকশন) রোগ। বায়ুদূষেণের কারণে হতে পারে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও লাং ক্যান্সার।

গত ৫ বছরের ব্যবধানে অ্যাজমা আক্রান্তের হার বেড়েছে ২৪ গুণ এবং এ রোগে মৃত্যু হার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। একইভাবে সিওপিডি আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ এবং মৃত্যু হার বেড়েছে ১৯ গুণ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসযন্ত্রে মারাত্মক সংক্রমণের পাশাপাশি আরও নানা প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা বা স্ট্রোক ৪০ শতাংশ এবং লাং ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ। তবে সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর এনসিডিসি অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, এখানে দুটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। একটি হলো- প্রিভেনশন, অপরটি কিউর। স্বাস্থ্য ও সেবা এ দুটিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা দেয়া স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ। কিন্তু দেশের সামগ্রিক পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বায়ুদূষণের বিষয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করব।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুপ) ডা. আয়েশা আক্তার জানান, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ গত ৫ বছরে অত্যাধিক বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে দেশে বিভ্ন্নি ধরনের অ্যাজমায় আক্রান্ত হন ৩৩২৬ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয় ৫৬ জনের। ২০১৬ সালে আক্রান্ত হন ২২ হাজার ৮৩ জন ও মৃত্যু হয় ১০৯ জনের। ২০১৭ সালে সালে আক্রান্ত হন ৬৩ হাজার ৬০৮ জন ও মৃত্যু হয় ৩২৮ জনের। ২০১৮ সালে আক্রান্ত হন ৭৭ হাজার ৭২২ জন ও মৃত্যু হয় ৬১৪ জনের। চলতি বছর ডিসেম্বর শেষ না হতেই এ রোগে আক্তান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮০৬ জন ও এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জনের।

অর্থাৎ মাত্র ৫ বছরেই বায়ুদূষণের কারণে অ্যাজমা আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং মৃত্যু হার বেড়েছে ১০ শতাংশেরও বেশি।

একইভাবে সিওপিডিতে ২০১৫ সালে আক্রান্ত হন ১৬১০ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয় ৩১ জনের। ২০১৬ সালে আক্রান্ত হন ৮৮০৪ হাজার জন ও মৃত্যু হয় ২০৬ জনের। ২০১৭ সালে সালে আক্রান্ত হন ৩২ হাজার ৪০৮ জন ও মৃত্যু হয় ৬৮৫ জনের। ২০১৮ সালে আক্রান্ত হন ৭৭ হাজার ৭২২ জন ও মৃত্যু হয় ৬১৪ জনের। চলতি বছর ডিসেম্বরের ১০ দিনের মধ্যে এ রোগে আক্তান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮০৬ জন ও এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জনের।

অর্থাৎ মাত্র ৫ বছরেই সিওপিডিতে আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যু হার বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এছাড়া চলতি বছর এআরআই-এ আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ২২০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

আলমগীর কবীল বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ দূষণের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। সনাতনী ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। রাস্তায় মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। সারা বছর রাস্তাঘাট খুড়ে কাজ না করে, সমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব উন্নয়ন কাজ হচ্ছে ও যারা বাড়ি করছেন তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ দূষণ করতে না পারে। এ বিষয়ে সকলের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবেশ অধিদফতরকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত খবর



ঘর থেকেই বেশি ছড়াচ্ছে করোনা: গবেষণা


মা'কে হারালেন সাদিয়া ইসলাম মৌ