শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০

English Version

করোনা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রস আধানম গ্যাবরিয়েসুস এর মিডিয়া ব্রিফিং

No icon সারা দেশের খবর

স্বাস্থ্যডেস্ক, ০৪ এপ্রিল ২০২০: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর হিসেবে সারা বিশ্বে এ যাবত করোনায় আক্রান্ত দশ লক্ষাধিক এবং প্রাণ হানি হয়েছে পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক মানুষের।

আমরা জানি, এটি স্বাস্থ্য সংকটের চেয়েও বেশি কিছু।

আমরা এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সজাগ রয়েছি।

এই অবস্থায় আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে অনেক ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ এমনকি দেশ বড় সংকটের মুখে পড়েছে।

তবে, আমরা যৌথভাবে জীবন ও জীবীকা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।

ক্ষণিকের জন্য হলেও, দেশগুলো তাদের মানুষের কষ্ট লাগবে, সামাজিক কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানাদির সমন্বয়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিছু দেশ জনগণের ঋণ মওকুফ করে অর্থনৈতিক সংকট থেকে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংক এর যৌথ সহযোগী উদ্যোগ।

কিন্তু অবশেষে, আমাদেরকে অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে, এই মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যেই বিষয়ে হু আগেই নির্দেশনা প্রদান করেছে। এ যেমন - আক্রান্ত ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করা, আলাদা করে রাখা, প্রতিটি আক্রান্তের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

যদি দেশগুলো হঠাৎ করেই তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তাহলে প্রলম্বিত  অর্থনৈতিক প্রভাব মারাত্মকভাবে সারা পৃথিবীতে পড়বে এবং সবাই খতিগ্রস্থ হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যা কেবল জীবন বাঁচানোর জন্যই নয় বরং দীর্ঘ মেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য।

দেশগুলোর জন্য তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমতঃ

আমরা দেশগুলোর প্রতি আহবান জানাই যাতে তারা মূল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জোর দেয়। পাশাপাশি রুগী খুজে বের করা, পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া, কন্টাক্ট ট্রেসিং করা, তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়াও যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।

দ্বিতীয়তঃ

দেশগুলো যেম তাদের মূল স্বাস্থ্যসেবার মান ঠিক রাখে। অর্থাত স্বাস্থ্য সহযোগীদের বেতনাদি ও মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির যা অপরিহার্য, ঠিক রাখে।

তৃতীয়তঃ

স্বাস্থ্যসেবা দানকালে সব রকমের অর্থনৈতিক বাঁধা দূর করা।

যদি কেউ অর্থ সংকট নিয়ে চিকিৎসা ব্যতীত বাড়ি ফিরে যায়, তাহলে সে একা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং পুরো জাতির অপূরনীয় ক্ষতি করবে।

অনেক দেশ আছে যারা, রোগীর বীমা না থাকা সত্বেও, এমনকি অন্য দেশের নাগরিক বা নাগরিকত্ব না দেখেই ফ্রি করোনা পরীক্ষা এমনকি চিকিৎসা নিশ্চিত করছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে, কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা ও চিকিৎসা ফ্রি করা উচিৎ।

এছাড়াও যারা খুব অসহায় এমন লোকদের বাড়িতে অর্থ পৌছানোও সরকারের দায়িত্বে কর্তব্য।

এটি বিশেষ করে যারা শরনার্থী, অভ্যন্তরীন বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন, বাড়িহীন বা প্রবাসী।

এই পেন্ডেমিক অন্যান্য রোগ যেমন - পলিও নিয়ে করা চলমান কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

অপনারা নিশ্চই অবগত আছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পলিও নির্মূলে সফলতা অর্জন করেছি।

অনেক দূরবর্তী এলাকায় শিশুদের নিকট এর টীকা পৌছানোর ব্যবস্থা করেছি।

স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাক করে যাচ্ছেন।

  এ ঝুঁকি কমাতে ও প্রতিরোধ যোগ্য রোগের জন্য দেশগুলোকে আমরা সম্ভব সব ধরনের সাহায্য করব।

অপরিহার্য স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে দেশগুলোর জন্য হু দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তাছাড়া, এ সংকট মোকাবিলা নিয়েও রয়েছে নির্দেশনা।

(সংক্ষেপিত)

কার্টেসিঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সর্বাধিক পঠিত খবর




করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই