রবিবার, ৩১ মে ২০২০

English Version

আম বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত রাজশাহী : জমতে শুরু করেছে আমের হাট-বাজার

No icon সারা দেশের খবর

স্বাস্থ্য ডেস্ক — ২৬ মে, ২০১৬: সুস্বাদু গোপালভোগ আম দিয়ে জমতে শুরু করেছে আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহী অঞ্চলের আমের বাজার। ইতোমধ্যে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার জমে উঠেছে গোপালভোগ আমে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার থেকে দুই হাজার চারশ’ টাকায়। প্রাথমিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ মে বাজারে আম আসার কথা ছিল।

তবে আমচাষি এবং ব্যবসায়ীরা অপুষ্ট ও রাসায়নিক মিশ্রিত আম বাজারে না আনার অঙ্গীকার করায় শেষ পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে না দেয়ায় গাছে আম পেকে যাওয়ায় তিন-চার দিন আগে থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে। তবে আর সপ্তাহ খানিক অপেক্ষার পর পাওয়া যাবে ক্ষীরসাপাত (হিমসাগর) এবং লখনা আম। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগেই পাওয়া যাবে রাজশাহীর বিখ্যাত ল্যাংড়া। অবশ্য রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ফজলি বাজাওে পাওয়া যাবে জুন মাসের শেষ দিকে।আম্রপলিসহ আশিনা আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে জুলাই মাসের দিকে।

এদিকে, এরই মধ্যে আম বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুতুতি সম্পুন্ন করেছে পুরো রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীরা। টার্গেট কোটি টাকার বাণিজ্য। তবে রাজশাহীর আমের সুনাম ধরে রাখতে মরিয়া জেলা প্রশাসন। কেমিক্যাল রোধে রয়েছে বাড়তি নজরদারি। এ নিয়ে কমতি নেই প্রচারণার। বাজারে ফরমালিনমুক্ত আম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মে মাসের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়। গত তিন-চার দিন থেকে বাজারে যে আম উঠতে শুরু করেছে, তাতে এখন পর্যন্ত ফরমালিন মেশানের প্রমাণ পায়নি প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের প্রত্যাশা, এ বছর শতভাগ ফরমালিনমুক্ত রাজশাহীর আম খেতে পারবে দেশের মানুষ। চলতি আমের মওসুমে একটি ঝড় আর মাত্রাতিরিক্ত খরায় কিছুটা ক্ষতি হলেও এখন যে পরিমাণ আম গাছে ঝুলছে তাতে ভালো ফলন আশা করা যায়। আম বাগান জুড়ে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। বাগানে বেড়েছে ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও। আম ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাঙ্গা আম সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবহৃত উপকরণের ব্যবসা। টুকরি, ক্যারেট, খড়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী মজুদ শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে টুকরি তৈরির ধুম। তবে প্লাস্টিকের ক্যারেট চলে আসায় কিছু হলেও আগের চেয়ে ভাড়া পড়েছে এ কর্মযজ্ঞে। পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় টুকরি বাদ দিয়ে ক্যারেটেই ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন জানান, এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রায় মাঝামাঝি। আগাম জাতের আম পাকার উপযুক্ত সময়। এখন বাজারে যে গোপালভোগ আম পাওয়া যাচ্ছে, তা পুরোপুরি পুষ্ট।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই গোপালভোগ জাতের আম প্রায় শেষ হয়ে যাবে। দু’এক দিনের মধ্যে খিরসাপাত ও লখনা জাতের আম বাজারে আসবে। এসব জাতের আমও এরই মধ্যে পাকার উপযোগী হয়েছে। বাঘা উপজেলার আমচাষি আশরাফুল ইসলামের দাবি, রাজশাহীর অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও আমচাষি আমে কোনো ধরনের কেমিক্যাল মেশান না।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান জানান, দুয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে গত বছর আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। কাজেই এখন থেকে আমরাই আমে কেমিক্যাল রোধে মাঠে থাকব বলে প্রশাসনের কাছে অঙ্গীকার করেছি। জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন জানান, আমে ফরমালিন কিংবা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য না মেশানোর ব্যপারে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রশাসন নানা ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

এবার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে অপুষ্ট আম না পাড়ার অঙ্গীকার করেছেন। কোনো আমেই ফরমালিন কিংবা ক্ষতিকারক কোনো ধরনের রাসায়নিক না মেশানোর অঙ্গীকার করেছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা কড়া নজরদারি রেখেছি। এখন পর্যন্ত বাজারে বিক্রির জন্য যে আম উঠেছে, তাতে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক জানান, মৌসুম শুরুর আগেই গাছ থেকে অপুষ্ট আম পেড়ে রাসায়নিক দিয়ে তা পাকানো এবং পচন রোধে ফরমালিন ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানান, এখন পর্যন্ত আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা কথা রেখেছেন। এখন প্রাকৃতিক নিয়মেই আগাম জাতের আম পাকতে শুরু করেছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ৮ বছরের ব্যবধানে রাজশাহীতে আমের আবাদ বেড়েছে ৮ হাজার ৭২৯ হেক্টের জমি, আর উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। ফল গবেষণা কেন্দ্রের সূত্র মতে, এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল আসে প্রচুর। রোগ-বালাইও খুব একটা দেখা যায়নি। এ বছর রাজশাহীর ১৬ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত খবর




করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই