রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

English Version

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ ও প্রতিকার

No icon অামার ডাক্তার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ জুলাই’১৮: এডিস নামক এক ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়। বর্ষা এবং A. Aegypti ভাইরাসটির ৪টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকার আছে যার একটি প্রকারের সংক্রমণ সাধারণত সেই প্রকারের বিরুদ্ধে জীবনভর প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়, কিন্তু অন্য প্রকারগুলোতে স্বল্পমেয়াদে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়। পরবর্তীতে অন্য প্রকারের সংক্রমণ হলে সেটি প্রবল জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।

আবার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে।

রোগ লক্ষণ: একজন ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। সাথে নিম্নের লক্ষণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে।

তীব্র মাথা ব্যথা

চোখের পিছনের দিকে তীব্র ব্যথা

জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

মাংসপেশী অথবা হাড়ে ব্যথা (এজন্য অন্য নাম: হাড় ভাঙ্গা জ্বর)

হামের মতো র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়

নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে

রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ করে যাবে।

লক্ষণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ছোট বাচ্চা ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়।

জটিলতা: সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যেই জ্বরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। তবে যদি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

তীব্র পেট ব্যথা ও ক্রমাগত বমি

ত্বকে লাল দাগ

নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে

বমির সাথে রক্ত আসলে

কালো বা আলকাতরার মত পায়খানা হলে

ত্বক ফ্যাকাশে, ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেতে হলে

শ্বাসকষ্ট হলে।

প্রতিরোধ: এ রোগের কোনো টিকা নেই। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য -

জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশকী ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখবেন।

দিন ও রাতের আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারী ব্যবহার করুন।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

চিকিৎসা: এই রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই রোগ লক্ষণগুলোর উপর চিকিৎসা দেয়া হয়।

রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।

প্রচুর পানি পান করতে দিন।

স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিন।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে।

ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ দিন।

রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এজাতীয় ওষুধ দিবেন না।

ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা যায়।

সর্বাধিক পঠিত খবর

পিসিওএস ও বন্ধ্যাত্ব

দরকার শুধু একটা চামচ! বোঝা যাবে কিডনি ...

জেনে নিন জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ


অসুস্থ কিডনির লক্ষণ



একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ!

আকন্দের যত ঔষুধী গুণ

রাতে কলা খাওয়া কি ঠিক?