সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

English Version

হঠাৎ রেগে যাওয়া মানসিক রোগের লক্ষণ

No icon অামার ডাক্তার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২২ সেপ্টেম্বর’১৮: কিছু কিছু মানুষ পাওয়া যায় যারা হঠাৎ খুব সাধারণ কারণে এমন রেগে যান যে আশপাশের সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন যে তার রেগে যাওয়াটা ঠিক স্বাভাবিক না কিন্তু তিনি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন না। এ মানসিক রোগকে হঠাৎ রেগে যাওয়া বা ইন্টারসিটেন্ট এক্সপ্রেসিভ ডিস অর্ডার বলে। এ রোগের বৈশিষ্ট্য হল :

*ব্যক্তি অধিকাংশ সময় তার রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে অন্যকে আঘাত করে বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করে।

*যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যক্তি রাগ প্রকাশ করছে সে ঘটনার বিচারে ব্যক্তির রাগের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি।

*ব্যক্তি অন্য কোন মানসিক রোগে বা ব্যক্তিত্বের সমস্যায় ভুগছে না কি কোন মাদকের প্রভাবেও এ ধরনের আচরণ করছে না।

কারণ ও প্রকোপ : হঠাৎ রেগে যাওয়া রোগের কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। এ রোগের প্রকোপ সম্পর্কে এখনো তেমন জানা যায়নি তবে এ রোগের প্রকোপ খুব বেশি নয় বলেই ধারণা করা হয়। সাধারণত পুরুষের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অল্প পরিমাণে হলেও মহিলাদের মধ্যে এ রোগ দেখা যায়। বিশষে করে মাসিকের ঠিক আগে আগে অনেক মহিলাকে এই রোগে ভুগতে দেখা যায়।

চিকিৎসা : এ রোগের চিকিৎসার জন্য মনোচিকিৎসা ও ওষুধ এ দু'য়ের প্রয়োগের দরকার হয়। মনোচিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে রাগ নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল শেখানো হয়। এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে আছে : বিভিন্ন ধরনের বিষণ্ণতা বিরোধী ওষুধ ও কার্বামাজোপিন, লিথিযাম, ডাইভেলপ্রো এক্স ইত্যাদি।

বাধ্যতা ধর্মী অসুস্থতা : বাধ্যতা ধর্মী অসুস্থতা কি? এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। এ রোগে কিছু নির্দিষ্ট অস্বস্তিকর চিন্তা ব্যক্তির মনে ঘুরে ঘুরে বার বার আসে। এসব চিন্তা ব্যক্তির নিজের মনেই তৈরি হয়। ব্যক্তি এসব চিন্তা মন থেকে দূরে সরাতে চায় কিন্তু পারে না।

কি ধরনের চিন্তা মনে আসে? বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসে। চিন্তাগুলোকে ৫ ভাগে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়। এগুলো হচ্ছে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের চিন্তা, কোন একটা কাজ ঠিকমত করেও তা করা হয়নি এ ধরনের দ্বিধা, সব কিছু একটা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে সাজানোর ইচ্ছা, কারো ক্ষতি করার ইচ্ছা, অস্বাভাবিক যৌন চিন্তা।

শুধু কি ব্যক্তি চিন্তাই করে? অনেকের মধ্যে চিন্তাটাই থাকে। অধিকাংশ ব্যক্তি এসব চিন্তা থেকে মনকে অন্যদিকে ঘোরাবার জন্য যতগুলো কাজ করে যেমন বার বার হাত ধোয়া, গনণা করা, বার বার পরীক্ষা করা, বার বার তওবা করা, একই কাজ বার বার করা ইত্যাদি। এসবকে বলে কম্পালশান। এগুলোতে আমরা যাকে সূঁচীবাই বলে সে রকম শোনাচ্ছে। হ্যাঁ সূঁচীবাই এ রোগের একটা উপসর্গ। সূঁচীবাইগ্রস্ত রোগী বার বার হাতধোয়া বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত সজাগ থাকে।

এ রোগের কারণ কি? আগে মনে করা হত ছোট বেলায় কঠিন শৃক্মখলা শিক্ষা দেয়ার ফল হিসেবে এ রোগের উৎপত্তি হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ তত্ত্ব প্রমাণিত হয়নি। গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের স্ট্রায়েটাম নামের অংশের গোলমালের ফলে এ রোগের উৎপত্তি হয়।

এ রোগের চিকিৎসা আছে? হ্যাঁ, এ রোগের চিকিৎসা আছে। সাধারণত : ওষুধ ও বিহ্যাভিয়ার থেরাপীর সমন্বয়ে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে আছে : ফ্লুক্সেটিন, সারট্রালিন, ক্লোমিপ্রামিন, ফ্লুভক্সামিন ইত্যাদি। বিহাভিয়ার থেরাপীর ক্ষেত্রে এক্সপোজার এড রেসপন্স প্রিভেনশন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া যায়।

সর্বাধিক পঠিত খবর



শরীরের হাড় ক্ষয় করে যেসব খাবার

শরীরের চুলকানি দূর করার উপায়

শরীরের হাড় ক্ষয় করে যেসব খাবার


বুকে কফ? দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে



ফাইভ জি চালু হতেই মরল কয়েকশ পাখি!