মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯

English Version

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ও প্রতিরোধের উপায়

No icon আমার ডাক্তার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০৬ আগস্ট  ১৯: বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বর মহামারী আকার ধারণ করেছে। যদিও ডেঙ্গু প্রাণঘাতি রোগ নয় তার পরও সম্প্রতি বেশ কিছু রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তবে আশার কথা হলো সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মমাফিক চললে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন আমরা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ও এর প্রতিরোধের উপায় জেনে নিই ও সচেতন হই।

ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম । ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হল-

-রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।

-নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

-শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়।

-প্রস্রাব কমে যায়।

-হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের  মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালান-কোঠায় তারা বাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

-বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

- -ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে। একুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।

-এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে রোগীকে কোনো মশা কামড়াতে না পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর হয়তো বা নির্মূল করা যাবে না। এর কোনো ভ্যাক্সিনও বের হয় নাই, কোনো কার্যকরী ওষুধও আবিস্কৃত হয় নাই। ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনও আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গুজ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

সর্বাধিক পঠিত খবর




আঁচিল দূর করবেন যেভাবে

স্ট্রোকের প্রাথমিক তিন লক্ষণ



পিত্তথলিতে পাথর লক্ষণ ও করণীয়


ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করবেন যেভাবে