মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭

English Version

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে !

No icon অামার ডাক্তার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১৭ এপ্রিল ২০১৭: যে অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণ ভাব কেড়ে নিচ্ছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে হ্যাঁ, অবাক হলেও সত্য, কিছু বাজে অভ্যাস প্রতিদিন একটু একটু করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস করছে। অনেকেই দেহের গঠন ঠিক রাখার জন্য পরিশ্রম করে। কিন্তু মস্তিষ্কের গঠন ঠিক রাখার জন্য কী করে?

মোবাইল ব্যবহার : আপনার বৈদ্যুতিক গেজেটগুলো, যেমন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার থেকে নির্গত আলোকরশ্মি প্রথমে চোখের রেটিনাকে আক্রমণ করে। আর এ আক্রমণের প্রভাব পড়ে ব্রেনের হরমোনের ওপর। যখন আপনি ঘুমানোর আগে নিজের গেজেটগুলো ব্যবহার করেন, তখন এটি আপনার মস্তিষ্ককে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এটি আপনাকে আরাম করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার পরিবর্তে মস্তিষ্ককে সক্রিয় থাকার সংকেত প্রদান করতে থাকে। এর অধিক ব্যবহার মস্তিষ্কে সুনিশ্চিতভাবে প্রভাব ফেলে।

অনিরাপদ ওষুধ ব্যবহার : সব ওষুধের একটি প্রভাব রয়েছে মস্তিষ্কের ওপর। সুস্থ হওয়ার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ অবশ্যই দরকারি। এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে নেশা বা অন্য কোনো কাজের জন্য ওষুধ গ্রহণ অপ্রয়োজনীয়। এটি দ্রুত আপনার মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করবে। স্মৃতিভ্রম, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত, হতাশা, বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তার মতো সরাসরি প্রভাব ওষুধ ব্যবহারের ফলেই হয়ে থাকে। এর দীর্ঘ ব্যবহারে আপনার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

মানসিক চাপ নেওয়া : করটিসল, মানসিক চাপের ফলে নিঃসৃত একটি হরমোনের নাম, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া মস্তিষ্কের এই চাপ ধীরে ধীরে আপনার মস্তিষ্ককে খেয়ে ফেলছে। যার ফলে ত্বরান্বিত হচ্ছে আপনার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাসের হার। তাই এখনই চাপমুক্ত থাকার পথ খুঁজে বের করুন।

কম পানি পান করা : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সংকোচনের হওয়ার পেছনে পানিশূন্যতার একটি দীর্ঘ ভূমিকা রয়েছে। পানিশূন্যতা মস্তিষ্কের রক্ত চলাচলের গতিকে ব্যাহত করে। মনে রাখবেন, আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলোর প্রধান উপাদান পানি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করা উচিত।

কম ঘুমানো : আপনার শরীরের অন্যান্য কোষের মতো মস্তিষ্কের কোষও নানাবিধ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এই ক্ষতি মস্তিষ্ক পুষিয়ে নেয় আপনার ঘুমের সময়। তাই কম ঘুমের ফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন আপনি। প্রতিদিন কম ঘুমানোর ফলে ভবিষ্যতে আপনার মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। এমনকি যদি আপনি টানা দুদিন ভালোভাবে না ঘুমান, তবে অফিস বা বাসায় আপনার কাজের পরিমাণ কমে যায়।

জাঙ্কফুড : ফাস্টফুডের আরেকটি ইংরেজি নাম জাঙ্কফুড। আর এই জাঙ্কফুড আপনার মস্তিষ্ক এবং হৃদয় দুটির জন্যই ক্ষতিকর। প্রক্রিয়াজাত, মসলাদার জাঙ্কফুড ধীরে ধীরে আপনার মস্তিষ্কের কোষকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

আলস্য : শারীরিক ব্যায়াম যে শুধু শরীরের জন্য ভালো, তা কিন্তু নয়। শারীরিক ব্যায়ামের ফলে অফিস বা বাসায় কাজের ক্ষেত্রে আপনার মস্তিষ্ক আরো ধারালো হয়ে ওঠে। কিন্তু আলস্য আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং এর সংকোচনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

অপুষ্টি : অপুষ্টি আপনার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। শুধু বাঁচার জন্য খেলাম নীতি পরিহার করে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার যোগ করা উচিত। আপনার মস্তিষ্কের ভালোভাবে কাজের জন্য পুষ্টির অধিক প্রয়োজন।

ধূমপান : ধূমপান শুধু যে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে তা কিন্তু নয়, এটি বিপজ্জনক গতিতে আপনার মস্তিষ্কের সংকোচন সাধন করে। এমনকি অ্যালকোহলও আপনার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া সব ধরনের উত্তেজক নেশাজাতীয় দ্রব্য মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

সর্বাধিক পঠিত খবর



দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নীরব বিপ্লব হয়েছে-

লিভারে চর্বি কমানোর উপায়

আপনি কিডনি রোগে আক্রান্ত নয় তো?


হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে জেনে নিন

কিভাবে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?