সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

English Version

রাতে ঘুম না হওয়ার কারণ

No icon অামার ডাক্তার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১৮ অক্টোবর ২০১৭: রাতে ঘুম দেরীতে আসার জন্য আপনার খাদ্যাভাস অনেকখানি দায়ী! অনেকেই জানেন না, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে কী কী খাবার খাওয়া একেবারেই উচিৎ নয়।

রাতের খাবার হতে হয় একেবারেই হালকা ধরণের। যেন খুব সহজেই পরিপাক হয়ে যায়। অনেক বেশি মাত্রার স্নেহ এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে পরিপাক হতে অনেক বেশী সময় প্রয়োজন হয়। যার প্রভাব পড়ে ঘুমের উপর। তাই জেনে রাখুন রাতে প্রশান্তিময় ঘুমের জন্যে ঘুমাতে যাবার আগে কোন খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই উচিৎ নয়।

পানি: প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি। তবে পানি পান করতে হবে সারাদিনে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ার পর পানি পান করা উচিৎ নয়। কারণ সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তবে রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেমন কোন কাজ করা হয় না। ফলে শরীরে ঘাম হয় না। যার ফলে রাতে বেশী পানি পান করলে বা ঘুমানোর আগে পানি পান করলে অনেক বেশী প্রস্রাবের বেগ আসার জন্য ঘুমের ব্যঘাত ঘটে থাকে।

কফি: কফি মূলত পান করা হয় জেগে থাকার জন্য। কফি পান করার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত নার্ভ সিস্টেম এক বেশী কার্যক্ষম থাকে। ক্যাফেইনে অনভ্যস্ত ব্যক্তি যদি রাতে অথবা ঘুমানোর আগে কফি পান করেন তবে রাতে ঘুমাতে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। যেহেতু কফি পান করার পরে প্রায় আট ঘন্টা পর্যন্ত এর প্রভাব থেকে যায়, সেহেতু দুপুরে খাবারে আগেই কফি পান করে ফেলা সবচাইতে ভালো।

ফ্যাট জাতীয় খাদ্য: কিছু খাবার খুব সহজেই পরিপাকযোগ্য হলেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাদ্য পরিপাক হতে অনেক বেশী সময় নেয়। যদিও এমন ধরণের খাদ্য খাওয়ার ফলে অনেক বেশি সময় ধরে পেট ভরা থাকে, তবু এমন ধরণের খাবার রাতে ঘুমের আগে খেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এসিডিক খাবার: অনেক বেশী মশলাযুক্ত এবং এসিডযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে রাতে ঘুমানোর সময় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এমন ধরণের খাবার খাওয়ার ফলে বুকে এবং গলার ভেতরে তীব্র জ্বালাপোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় শুয়ে থাকলে অবস্থা আরও বেশী খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে অসুস্থতায় ভোগা মানুষদের রাতের বেলা এমন এসিডিক খাবার এবং মশলাযুক্ত খাবার খেলে বেশী সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। যে কারণে, এই ধরণের খাবার রাতেরবেলা একেবারেই না খাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধমানের কাজ।

পিৎজা: সন্ধ্যা অথবা রাতের খাবার থেকে পিৎজা বেঁচে যাওয়ার পর বেশীরভাগ মানুষ মধ্যরাতের হালকা খাবার হিসেবে পিৎজা খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই পিৎজা খাওয়ার ফলেই রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। পিৎজাতে ব্যবহৃত চীজ এবং টমেটো সস, এই দুটি উপাদান ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। চীজে থাকা ফ্যাট এবং টমেটো সসের এসিড একসাথে মিশে এমন একটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে যা মারত্মকভাবে ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে দেয়। এছাড়াও এসিডিক খাবার বুকজ্বালা পোড়া তৈরি করে থাকে বলেও এমন ধরণের যে কোন খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।

চকলেট: যদিও চকলেট খেতে দারুণ সুস্বাদু এবং মজাদার, কিন্তু রাতের বেলা চকলেট খাওয়ার ফলে না ঘুমিয়ে থাকা লাগতে পারে! চকলেট, চকলেট কেক কিংবা চকলেট বিস্কুটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চিনি, যা ঘুমে সমস্যা তৈরি করে। চিনি ছাড়াও, চকলেটে উপস্থিত অল্প পরিমাণের ক্যাফেইনও ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে দেয়। চকলেটে থাকা এই ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ঘুম-তাড়ানোর জন্য কাজ করে থাকে। যদিও ভিন্ন ভিন্ন চকলেট বারে ক্যাফেইন এর মাত্রা থাকে ভিন্ন রকমের।

সর্বাধিক পঠিত খবর


নাকের পলিপ হওয়ার কারণ ও চিকিৎসা


বাসি রুটির এতো গুণ ?

কতটুকু ভাত খেলে মোটা হবেন না?




শীতে দই খাওয়ার উপকারিতা

গ্যাস সমস্যায় যেসব খাওয়া নিষেধ