শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

English Version

এই বৈশাখে ত্বকের সুরক্ষা

No icon আমার ডাক্তার

৫ মে, ২০১৬: অাদিকাল থেকে মানুষ বিশ্বাস করে আসছে যে, বয়স বেড়ে গেলেই শরীরের ত্বকে ভাঁজ পড়ে এবং সে বুড়িয়ে যায়। কিন্তু বয়সের চেয়ে বিশ্বাসঘাতক যে জিনিসটা মানুষের ত্বককে বেশি করে বুড়িয়ে দিচ্ছে সেটা হলো সূর্যালোক। হ্যাঁ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অল্পবয়সী যে কারো ত্বকের দারুণ ক্ষতি করে তাকে বৃদ্ধে রূপান্তরিত করে ফেলছে। ত্বকে শুধু ভাঁজ পড়াই নয়, ত্বককে বিবর্ণ করে তোলে এবং ত্বকের ক্যান্সার ঘটায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। ত্বকের কোষগুলো মরে গিয়ে ত্বক হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য। ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে বিজ্ঞানীরা আজ ওঠে-পড়ে লেগেছেন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রতিহত করতে আবিষ্কার করেছেন সানস্ক্রিন ক্রিম এবং একমাত্র সানস্ক্রিন ক্রিমই এখন পারে এ গ্রীষ্মে আপনার ত্বককে কোমল, পেলব ও মোহনীয় করে তুলতে। সানস্ক্রিন সম্পর্কে পুরনো ধারণা বাতিল করুন বেশির ভাগ লোক মনে করে সানস্ক্রিন ক্রিম শুধু গ্রীষ্মের প্রখর রোদে বের হওয়ার আগে মেখে বের হতে হয়। কিন্তু এ ধারণাটি এখন ভ্রান্তে পরিণত হয়েছে। সব ঋতুতেই আপনাকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে যদি সত্যিই আপনি ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে চান। উৎকৃষ্ট সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এ কথা অনেকবার আপনি শুনে থাকবেন যে, যখন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন সেই সানস্ক্রিনে সানপ্রোটেকশন ফ্যাক্টর যেন কমপক্ষে ১৫ থাকে। অর্থাৎ ১৫-এর নিচে সানপ্রোটেকশন ফ্যাক্টর থাকলে তা ত্বকের কোনো কাজে আসে না। বাজারে অনেক ধরনের সানস্ক্রিন রয়েছে। এর কোনোটিতে সানপ্রোটেকশন ফ্যাক্টর বা এসপিএস ৩০, কোনোটিতে ৪৫, এমনকি ৬০ও রয়েছে। কিন্তু আপনার জন্য প্রযোজ্য কোনটি? কীভাবে বুঝবেন কোন সানস্ক্রিনটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে? সানস্ক্রিন ব্যবহার করার আগে আপনাকে জানতে হবে এসপিএফ অর্থ কী? এটার অর্থ হলো রোদে থাকার ফলে আপনার ত্বক পুড়ে যাওয়ার আগে এ পদার্থটি কতক্ষণ আপনার ত্বকে স্থায়ী থাকে? এটা হলো এমনি এক পদার্থ যা মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রতিহত করে। একটি এসপিএফ লোশন বা ক্রিমের গুণগত অর্থ হলো অরক্ষিত অবস্থায় আপনার ত্বক যেটুকু রক্ষা পেতে পারে এসপিএফ ১৫ লোশন বা ক্রিম আপনার ত্বককে তার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি রক্ষা করে। তেমনি এসপিএফ ৮ সানস্ক্রিনটি ৮ গুণ বেশি সময় রক্ষা করে। আপনার ত্বকের রঙ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি আপনি দেখতে ফর্সা হন এবং রোদে ১০ মিনিট কাটালেই ত্বক পুড়ে যায় তাহলে আপনি যদি এসপিএফ ১৫ সানস্ক্রিনটি মাখেন সে ক্ষেত্রে আপনি সহজেই ১৫০ মিনিট রোদে থাকতে পারবেন। সানস্ক্রিনটি ১৫০ মিনিট ধরে আপনার ত্বককে রক্ষা করবে। আর যদি রোদে ২০ মিনিট কাটালে আপনার ত্বক লাল হয়ে ওঠে তাহলে এ সানস্ক্রিনটি আপনাকে ৩০০ মিনিট অর্থাৎ পাঁচ ঘণ্টা ধরে রক্ষা করবে। এসপিএফ কেবল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ‘বি’-এর বেলায় প্রযোজ্য। নাজুক ত্বকের লোকজনের জন্য এসপিএফ ১৫ হলো উৎকৃষ্ট সানস্ক্রিন। এটা প্রায় ৯৫ শতাংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ‘বি’-কে প্রতিহত করে। কালো ত্বকের লোকদের জন্য এসপিএফ ৮ থেকে ১২ যথেষ্ট। কারণ কালো ত্বকের লোকদের শরীরে মেলানিন নামক যে রঞ্জক পদার্থ থাকে সেটাই প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে। আর এ কারণেই এশিয়ার অধিবাসীদের ত্বকের ক্যান্সার কম হয়। কিন্তু কালো ত্বক ফেটে যায় ও ত্বকে দাগ হয়। তাই ত্বকের কুঞ্চন রোধ করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এখানে ঋতু কোনো বিষয় নয়। সব ঋতুুতেই সানস্ক্রিন সমান প্রযোজ্য। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ এসপিএফ ৩০-এর ওপরে যাওয়ার কোনো বিশেষ কারণ খুঁজে পান না। এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিন ৯৭ শতাংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ‘বি’-কে প্রতিহত করে। উচ্চমাত্রার এসপিএফ ত্বককে সুরক্ষা করে বটে কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর রাসায়নিক উপাদানগুলো ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।

সর্বাধিক পঠিত খবর





করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই