বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

English Version

বায়ুদূষণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে গাড়ির ওপর শুল্কারোপ

No icon আমার পরিবেশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১৭ অক্টোবর’ ১৯: বায়ুদূষণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে গাড়ির ওপর শুল্কারোপ চায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। আগামী অর্থবছর থেকে নতুন এই পদ্ধতি কার্যকরের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদফতর সার্বিক বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করছে। আগামী বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশসহ প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত করে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সংসদীয় কমিটি বায়ুদূষণ তথা কার্বন নিঃসরণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে গাড়ির ট্যাক্স নির্ধারণে সুপারিশ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টিকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাসহ সংসদীয় কমিটির একাধিক সদস্য জানান, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে কার্বন নিঃসরণের মাত্রার ওপর গাড়ির ট্যাক্স আরোপ করা হয়। এতে করে বেশি কার্বন নিঃসরণে দায়ী গাড়ির সংখ্যা কমানো সম্ভব হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে দেশেও সুফল মিলবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের প্রচলিত পদ্ধতিতে ইঞ্জিনের শক্তির (সিসি) ভিত্তিতে ট্যাক্স নির্ধারণ চলমান থাকলে কার্বন নিঃসরণের দায়ে উন্নত দেশগুলোতে বাতিল করে দেওয়া গাড়িগুলো অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে এখানে চলে আসবে। ফলে দেশ একটি পর্যায়ে গিয়ে ‘ডাম্পিং স্টেশন’-এ পরিণত হবে। এ কারণে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে কার্বন নিঃসরণের ভিত্তিতে করারোপের সুপারিশ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে যানবাহনের আমদানি শুল্ক ও বার্ষিক কর উভয় ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতিতে করারোপের পক্ষে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণে দায়ী যানবাহনগুলো যাতে কমানো যায় সে-জন্য সংসদীয় কমিটি এ সুপারিশ করেছে। আগামী অর্থবছর থেকে যাতে এটি বাস্তবায়ন করা যায় সে-জন্য দ্রুত প্রস্তাবনা তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছি। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে এনবিআরের কাছে পাঠিয়ে দেবে।’

এই পদ্ধতিতে ট্যাক্স নির্ধারণের যুক্তি তুলে ধরে সাবের হোসেন বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এই পদ্ধতিতে গাড়ির ট্যাক্স নির্ধারণ হয়। দেশে এটা চালু হলে বেশি দূষণকারী গাড়িগুলো ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি এ খাতে সরকারের রাজস্ব আয়ও তুলনামূলক বাড়বে বলে মত দেন তিনি।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “প্রতিবছর বাজেটে একটি ফোকাস পয়েন্ট থাকে। বাজেটকে বিশেষ নামে আখ্যায়িত করা হয়। যেমন আমরা দেখেছি ‘জেলা বাজেট’, ‘ডেল্টা বাজেট’। আমরা চাই আগামী বাজেট হবে ‘গ্রিন বাজেট’।” এতে পরিবেশের দিকগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরউল আলম বলেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদফতরকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন ধরনের গাড়ি কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, তারা যাচাই করে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। পরে ট্যাক্স নির্ধারণের জন্য সেটা প্রস্তাবনা আকারে এনবিআরকে পাঠানো হবে জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত খবর

গাড়িতে চড়লে বমি ভাব জেনে নিন সমাধান



লিভার পরিষ্কার রাখে ৩টি খাবার



হঠাৎ বিকট শব্দ, ঝরে গেল সাত শিশুর প্রাণ

আলসারের লক্ষণগুলো জেনে নিন