শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

English Version

সমুদ্রসুন্দরী…

No icon আমার পরিবেশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭: জেলিফিশের বেশ দুর্নাম আছে৷ বেশিরভাগ মানুষই একে ঘেন্না করেন, অনেকে আবার ভয়ও পান৷ কিন্তু এই সামুদ্রিক জীবটি আসলে ভয়ঙ্কর সুন্দর৷ এবং সাগরজুড়ে ভেসে বেড়াতে তাদের মস্তিষ্কেরও প্রয়োজন পড়ে না৷এমনকি, জেলিফিশ কর্ষিকা দিয়ে বিষ ঢুকিয়ে শিকারকে মেরেও ফেলতে পারে৷

মস্তিষ্কই নেই? তাতে কি!: প্রায় ৫০ কোটি বছর ধরে সাগরের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে জেলিফিশ৷ কোথায় যাচ্ছে, কোনদিকে যাচ্ছে, তা বোঝার জন্য যে বুদ্ধিটুকু থাকা দরকার, তাও নেই তাদের৷ থাকবেই বা কিভাবে? বুদ্ধির জন্য মস্তিষ্ক তো থাকতে হবে! জেলিফিশের তাও নেই৷ তবে তাদের জটিল স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ছাড়াই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷

সাগরের মেডুসা: গ্রিক পুরাণের এক পিশাচির নাম মেডুসা, চুলের বদলে যার মাথা ভর্তি সাপ৷ জেলিফিশও দেখতে অনেকটা সেরকম৷ মূল শরীর থেকে কিলিবিল করে বের হয়ে এসেছে সাপের মতো কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ৷ এজন্য তাদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে মেডুসোজোয়া৷

হাত-পাওয়ালা ছাতা: আমরা অনেকেই জানি যে, মানুষের শরীরের ৬৩ শতাংশ পানি৷ এবার চিন্তা করে দেখুন, একটা জেলিফিশের শরীরের ৯৯ শতাংশই পানি৷ তাদের শরীরের একটা বড় অংশ দেখতে ছাতার মতো৷ এর সাথে থাকে হাত-পায়ের মতো শত শত কর্ষিকা৷ কিছু কিছু জেলিফিশের ক্ষেত্রে এই কর্ষিকাগুলো কয়েক মিটার লম্বা হয়ে থাকে৷ শিকার ও খাবার আহরণের জন্য জেলিফিশ এই কর্ষিকাগুলো ব্যবহার করে

এই ফিশ, মাছ নয়: নাম জেলিফিশ হলেও, এরা কিন্তু মোটেও ফিশ বা মাছ নয়৷ জীববিজ্ঞানিরা তাদের বিশ্লেষণ করে অন্তর্ভূক্ত করেছেন স্নিডারিয়া পর্বে৷ এই পর্বের অন্যান্য জীবদের মধ্যে আছে প্রবাল এবং এনেমোন নামের এক ধরনের সামুদ্রিক শিকারি ফুল৷

বিষাক্ত সুন্দরী: জলে ভেসে বেড়ানোর সময় রঙিন জেলিফিশকে দেখতে অসাধারণই লাগে৷ কিন্তু এদের অনেকেরই আছে ভয়ঙ্কর কর্ষিকা৷ লায়নস মেইন জেলিফিশ কর্ষিকা দিয়ে বিষ ঢুকিয়ে শিকারকে মেরেও ফেলতে পারে৷ প্ল্যাঙ্কটন, শ্যাওলা, ছোট ছোট কাঁকড়া এবং মাছের পোনা আছে জেলিফিশের খাবারের তালিকায়৷

আগুনের মতো জ্বলুনি: লায়নস মেইন জেলিফিশের সংস্পর্শে মানুষের চামড়ায় আগুনের মতো জ্বলুনি হয়৷ লাল লাল ফোসকাও পড়ে চামড়ায়৷ এই জেলিফিশের বিষ অবশ্য প্রাণঘাতী না৷ কিন্তু বক্স জেলিফিশ বা সি ওয়াসপ জেলিফিশের ক্ষেত্রে তা এতটা জোর দিয়ে বলা যায় না৷ প্রাণিজগতে সবচেয়ে বিষধরদের একটি এই জেলিফিশ৷

স্পেশাল ইফেক্ট: সামান্য এই জেলিফিশেরও আছে অসামান্য ক্ষমতা৷ পেলাগিয়া নকটিলুকা নামের এক ধরনের জেলিফিশ সাগর উত্তাল হলে উজ্জ্বল আলো ছড়ায়৷ এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বায়োলুমিনেসেন্স৷

জেলিফিশও ঘুমায়!: জেলিফিশের কোনো মস্তিষ্ক নেই, নেই কোনো হৃদয়৷ কিন্তু তারপরও তারা ঘুমায়৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যাসিওপিয়া নামের জেলিফিশ দিনের বেশিরভাগ সময়ই সাগরের তলদেশে কাটায়৷ রাতের সময়টা তারা ঘুমিয়ে কাটায় বলেও জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷ এমনকি মানুষের মতোই তাদের জেগে উঠতেও সময় লাগে বেশ কিছুক্ষণ৷

সর্বাধিক পঠিত খবর

ভারতে ভূমিষ্ঠ হল মৎস্যকন্যা !





শীতে দই খাওয়ার উপকারিতা

গ্যাস সমস্যায় যেসব খাওয়া নিষেধ



শিশুর মুখ থেকে বের হলো জীবত কই মাছ!