রবিবার, ৩১ মে ২০২০

English Version

রাজধানীজুড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট

No icon আমার পরিবেশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক — ১৯ মে, ২০১৬: গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীজুড়ে বাড়ছে পানির চাহিদা। নগরবাসীর পানি সরবরাহকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসা পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। যেটুকু সরবরাহ করছে তাতেও দুর্গন্ধ-ময়লা। ফলে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ।

তবে বরাবরের মতোই ওয়াসা বলছে, নগরবাসীর দাবি সঠিক নয়। মালিবাগ, পশ্চিম কাজীপাড়া, দক্ষিণখান, মেরুল বাড্ডা, মৌচাক, রামপুরা, নাখালপাড়া, ধানমণ্ডি, মানিকনগর, গোপীবাগ, টিকাটুলী, অভয় দাস লেন, কে এম দাস লেন, স্বামীবাগ, যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন, বনগ্রাম, মৈশুন্ডি, খিলগাঁও, বাসাবো, তিলপাপাড়া, গোড়ান, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ এলাকায় পানি সংকটের পাশাপাশি পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা দেখা গেছে। বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

মালিবাগের দিনের বেলায় মোটামুটি যেটুকু পানি পাওয়া যায় রাত হলেই তাতে গন্ধ-ময়লা আবর্জনা বেড়ে যায়।

পুরান ঢাকার বাসিন্দারা জানান, পানি সমস্যা এক দিনের না। বছরের প্রায় সময়ই আমরা এ সমস্যায় ভুগি। এখন ড্রেনের পানিতে যেমন গন্ধ লাইনের পানিতেও ঠিক একই গন্ধ। পানির লাইন থেকে স্যুয়ারেজের ময়লা আসে। তাই লাইনের পানি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি। জারের পানি কিনে খাই। গোসল করি দুই দিনে একবার।

ওয়াসা সূত্র জানায়, পানি সংকটের অন্যতম কারণ লাইনের সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ। এ জন্য চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এতে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় পানির সংকট বেড়ে গেছে। এ ছাড়া চোরাইপথে ওয়াসার পাইপ ফুটো করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানির লাইন সংযুক্ত করায় সে স্থানে ভালো করে জোড়া লাগানো হয় না। ফুটো করা স্থান দিয়ে ময়লা-আবর্জনা লাইনে গিয়ে পানি নষ্ট হয়। সে কারণেই পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা দেখা দেয়।

পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াসার শতকরা ২২ শতাংশ পানি ঢাকা আশপাশের নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম মৌসুমে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এতই দূষিত থাকে, তা সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করা হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া পানি বিশুদ্ধ করতে অনেক সময় ওয়াসা অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকে। যে কারণে পানিতে গন্ধ পাওয়া যায়।

ওয়াসা বলছে, সংস্কার কাজ শেষ হলে রাজধানীবাসী দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে। বর্তমানে তাদের পানি ব্যবস্থাপনায় অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ২২৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ২৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত খবর




করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই