বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

English Version

ডিএনএর ক্রমবিন্যাস বিরল রোগ নির্ণয়ে ‘বিপ্লব’ আনবে

No icon সুসংবাদ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১২ জুন’ ১৯: জিনোম সিকোয়েন্সি বা ডিএনএ-এর ক্রমবিন্যাসের মাধ্যমে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ নির্ণয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যাবে বলে জানিয়েছেন ক্যামব্রিজের একদল গবেষক। আশার কথা, অজানা বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ জানতে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী বছর থেকেই ব্রিটেনের অসুস্থ শিশুদের ডিএনএ’র ক্রমবিন্যাস বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করে চিকিত্সা শুরু করা যাবে। এডেনব্রুক হাসপাতাল ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় করা হচ্ছে এই গবেষণাটি।

জিনোম সিকোয়েন্সি বা ডিএনএ-এর ক্রমবিন্যাস হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন মানুষের দেহে থাকা সকল জেনেটিক কোডকে একের পর এক বিন্যস্ত করা এবং অনুসন্ধান করা হয়। এর মাধ্যমে জানা সম্ভব ডিএনএর কোথাও কোনো অসামঞ্জস্য ঘটেছে কিনা। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে গবেষকরা দেখতে পান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা প্রতি চার জন শিশুর একজন জেনেটিক ডিজ-অর্ডার বা জিনগত-বৈকল্যের শিকার। এ প্রকল্পে কাজ করার সময় গবেষকেরা দুই তিন সপ্তাহের মধ্যেই জিনোম ক্রমবিন্যাস করে দিতে পেরেছেন এবং তার ভিত্তিতে শিশুর চিকিত্সায় যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটেছে।

এই প্রকল্পের নাম ছিল ‘নেক্সট জেনারেশন চিলড্রেন বা পরবর্তী প্রজন্মের শিশু’। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিশু এবং তাদের বাবা-মা উভয়েরই জিনোম ক্রমবিন্যাস করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেখা হয়েছে শিশুর জিনোমে কোথাও কোনো ত্রুটি ঘটেছে কিনা। প্রকল্পের অধীনে এডেনব্রুক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ৩৫০টি শিশুর জিনোম ক্রমবিন্যাস করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশ শিশুরই মাতৃগর্ভে আসার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিনগত ত্রুটি ঘটেছে। অর্থাত্ বাবা বা মায়ের ত্রুটি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিনগত ত্রুটি ঘটেছে।

এই প্রকল্পের প্রধান ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল জেনেটিক্স ও নিউরো ডেভেলপমেন্টের অধ্যাপক লুসি রেমন্ড বলেন, এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো জিনোম ক্রমবিন্যাস করে একটা অর্থপূর্ণ ফল জানা সম্ভব। ২০২০ সাল থেকে পুরো ইংল্যান্ডে জেনোমিক মেডিসিন সার্ভিস চালু হবে। কোনো শিশুর রোগ ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না এমন কোনো রোগ নিয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি হলে তার জন্য জিনোম ক্রমবিন্যাস সেবা পাওয়া যাবে।

গত বছর, গুরুতর অবস্থায় মিলি-মেইকে নামের একটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার বাবা-মাকে জিনোম ক্রমবিন্যাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঐ জিনোম ক্রমবিন্যাসের ভিত্তিতেই তার ওষুধে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। যা কিনা শিশুটির সুস্থ হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সূত্র: বিবিসি

সর্বাধিক পঠিত খবর

জয়েন্টে ব্যথা বাড়ায় যে ৩ খাবার




লিচু খাওয়ার পর ভারতে ৫৩ শিশুর মৃত্যু

ডায়াবেটিস দূরে রাখতে খান জাম