শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

English Version

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবায় ৮০০ বাংলাদেশি

No icon সুসংবাদ

স্বাস্থ্যসেবার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বাংলাদেশি নারী অভিবাসীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখছেন একদল বাংলাদেশি নিবেদিতপ্রাণ সেবক-সেবিকা। রাজ্য সরকারের অর্থ তহবিলে পরিচালিত বাংলা হোম হেলথ এইডস এজেন্সি হয়ে এসব স্বাস্থ্যসেবীরা অবদান রাখছেন নগরীর প্রতিটি এলাকায়।

মূলত এসব স্বাস্থ্যসেবীদের কাজ হচ্ছে হাসপাতাল বা ইন্স্যুরেন্স সার্টিফায়েড রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া। ওষুধ সেবন, খাবার খাওয়ানোসহ ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা তাদের কাজ। এসব কাজ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবীদের তেমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বা উচ্চতর প্রশিক্ষণের দরকার হচ্ছে না। নিজের বা স্বজনদের পরিবার থেকে পাওয়া মানবসেবার ব্রত বা স্বজনদের সেবার মনোবৃত্তিই এখানে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র দু-এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব স্বাস্থ্যসেবীরা ভালো আয় করার পাশাপাশি সুনাম কুড়াচ্ছেন নিউইয়র্কে। সেবার বিনিময়ে এসব স্বাস্থ্যসেবীরা পাচ্ছেন ঘণ্টায় ১৪ ডলার, যা ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি।

দায়িত্বশীলরা বলছেন, আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবার হিমালয় ছুঁয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা আবু জাফর মাহমুদ বলেন, ২০১১ সালের মার্চ মাসে বাংলা হোম হেলথ এইডস এজেন্সি যাত্রা শুরু করে। ওই সময় সেবার মনোবৃত্তি নিয়ে এগিয়ে আসা মাত্র ২৭ জন নারী-পুরুষ এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়। পাঁচ বছরের মাথায় সেবক-সেবিকার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০০।কীভাবে এল এ ধরনের সেবার চিন্তা, এমন প্রশ্নে আবু জাফর মাহমুদ বলেন, আমেরিকায় সব জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়। পশ্চিমা এ সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন তাদের সব থাকার পরও কেউ নেই। বয়স কিংবা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দিনে দিনে একা হয়ে যান তারা। সরকার সেসব মানুষের কথা ভাবে। স্বাস্থ্যসেবার এ খাতে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে আমেরিকার একমাত্র বাংলাদেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম লেখায় বাংলা হোম হেলথ এইডস এজেন্সি।

জাফর মাহমুদ জানান, বাংলাদেশিরা যুগের পর যুগ নিজের পরিবারের লোকজন বা অসুস্থদের সেবা করতে অভ্যস্ত এমন চিন্তায় মাথায় রেখে কার্যক্রম শুরু করে । এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা হয়। প্রথমদিকে কমসংখ্যক লোকজনের সাড়া মিললেও এখন বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবীর সংখ্যা ৮০০। তারা নগরীর পাঁচ ব্যুরোর ৮০০ রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।কি ধরনের সেবা দেন এমন প্রশ্নে আবু জাফর মাহমুদ বলেন, রোগী নির্ধারণ করে হাসপাতাল, ডাক্তার, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ওয়ার্কার ও ইন্স্যুরেন্স। এরপর স্বাস্থ্যসেবীরা তাদের সেবা দেওয়ার জন্য বাড়িতে বা হাসপাতালে গিয়ে থাকেন।

একাকী রোগীদের ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়া করানোর কাজ করেন এসব স্বাস্থ্যসেবীরা। যেসব রোগীর ভাষা জ্ঞান কম তাদের রোগের বিষয়গুলো জেনে নিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসব কাজের জন্য স্বাস্থ্যসেবীরা ঘণ্টায় ১৪ ডলার করে পান রাজ্য সরকার থেকে। ওভার টাইম করলে নিয়ম অনুযায়ী বাড়তি মজুরিও পান স্বাস্থ্যসেবীরা।এ খাতে কীভাবে বাংলাদেশিরা এত সুনামের অধিকারী হচ্ছেন এমন প্রশ্নে বাংলা হোমস হেলথ এইডস এজেন্সির প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশিরা হলো সেবার জাতি, তারা জানে কীভাবে মানুষকে সেবা দিতে হয়। আদিকাল থেকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরিবারের রোগী ও বয়স্কদের সেবা দিতে অভ্যস্ত। এটা বাঙালিরা শিখে আসেন পরিবার থেকে।

শিক্ষাই এখানে কাজে লাগাচ্ছেন বলেই তারা সফল হচ্ছেন এবং আমাদের সুনাম সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৩৮ জন করে সেবক-সেবিকা বাংলা হোমস হেলথ এইডস এজেন্সি তৈরি করতে পারছেন বলে জানান তিনি।প্রশিক্ষণ নিতে কি দরকার বা নতুন ইমিগ্রান্টরা এ ধরনের সুযোগ নিতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নে আবু জাফর মাহমুদ জানান, স্বাস্থ্যসেবীর কাজ করতে হলে এক মাসের প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিরা এ প্রশিক্ষণ রপ্ত করেন। পরে তারা পরীক্ষার কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে পেয়ে যান সেবা দেওয়ার সনদ। সে সনদ নিয়ে আসলেই বাংলা হোম হেলথ এইডস এজেন্সি তাদের কাজের ব্যবস্থা করে থাকেন।

আবু জাফর মাহমুদ বলেন, আমরা যখন বাংলা হোম হেলথ এইডস এজেন্সি শুরু করি তখন মনোবল ছিল লক্ষ্যে পৌঁছানোর কিন্তু এত দ্রুত যে স্বাস্থ্যসেবায় বাঙালিরা এমন সাফল্য পাবে, তা ভাবতেও পারিনি।তিনি জানান, প্রতিদিন নতুন করে প্রবাসীরা যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবীর সংখ্যা ৮০০ থেকে কবে যে হাজার হাজার হবে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তারা

সর্বাধিক পঠিত খবর







করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই