শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০

English Version

বাজার থেকে সরেনি নিষিদ্ধ রেনিটিডিন চলছে বিক্রি

No icon হেলথ ক্রাইম

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০৫ অক্টোবর’ ১৯: গ্যাস্ট্রিক-জনিত সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল প্রচলিত ওষুধ রেনিটিডিনে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে ওষুধটি। সেই অনুসারে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশেও ওষুধটির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। একইসাথে বাজার থেকে এই ওষুধ তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওষুধ শিল্প সমিতি। তবুও এখনো বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন।

খুচরা ওষুধ বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি রেনিটিডিন ওষুধ ফিরিয়ে নিয়ে যায়নি। বরং আগের মতোই ওষুধটি বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন করে রেনিটিডিন ওষুধ দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ওষুধের দোকানগুলোতে এখনো বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন। শুধু ট্যাবলেটই নয়, রেনিটিডিনের সিরাপ এমনকি ইনজেকশনও বেশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

খুচরা ওষুধ বিক্রেতারা আরো জানান, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের কাছে কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি। গণমাধ্যমে কিছু প্রতিবেদন দেখলেও সরাসরি তাদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এ দিকে ওষুধ কোম্পানিগুলো নতুন রেনিটিডিনের চালান না দিলেও পুরনো রেনিটিডিন ফেরত নিয়ে যায়নি। আর চাহিদা বেশি থাকায় দোকানগুলোতে সব সময় ব্যাপক পরিমাণ রেনিটিডিন রাখা হতো। সব মিলিয়ে ক্রেতাদের চাহিদানুসারে বাজারে থাকা রেনিটিডিনগুলো হরদম বিক্রি হচ্ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, বাজারে নিবন্ধিত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ২২০ ধরনের রেনিটিডিন ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মাত্রার রেনিটিডিন ট্যাবলেট, সিরাপ ও ইনজেকশন। রেনিটিডিন প্রস্তুতকারী প্রায় প্রতিটি ফার্মা কোম্পানিরই বিভিন্ন মাত্রায় এই তিন ধরনের ওষুধই রয়েছে।

ক্রেতা থেকে শুরু করে ওষুধ প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতারা পর্যন্ত সবাই জানেন ওষুধটি শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) প্রতিবেদন অনুসারে রেনিটিডিনের কাঁচামালে এনডিএম (মেটালো বেটা ল্যাকটামেজ) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এটি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। দূষিত বাতাস থেকে এটি মানবদেহে প্রবেশ করেই মারাত্মক ক্ষতি করে। সে ক্ষেত্রে যদি ওষুধের মাধ্যমে সরাসরি রক্তের সাথে মিশে যায়, তাহলে ক্যান্সারের ফ্যাক্টর বা সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত খবর




করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই