শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

English Version

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ২ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১

No icon হেলথ ক্রাইম

স্বাস্থ্য ডেস্ক — ২১ মে, ২০১৬: শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূর স্তন কেটে ফেলার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় শ্রীবরদী উপজেলা হাসপাতালের সাবেক আরএমও ও বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের ডাক্তার মো: শরিফুল ইসলাম শরীফকে গ্রেফতার করছে শেরপুরের ডিবি পুলিশ।

পুলিশ ভোক্তভূগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানাযায়, স্তনের ফোড়াকে টিউমার বলে ভয় দেখিয়ে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভূতনীকান্দা গ্রামের দুই সন্তানের জননী গৃহবধূর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে স্তন কেটে ফেলেন চিকিৎসক ডা: শরীফুল ইসলাম শরীফ। ওই চিকিৎসক শ্রীবরদী উপজেলার লঙ্গরপাড়া গ্রামের মৃত কছর আলীর ছেলে। গত নভেম্বর মাসে শ্রীবরদী শহরের শান ক্লিনিকে চিকিৎসক শরীফকে স্তনের ফোড়া দেখাতে যান ওই গৃহবধূ।

এসময় চিকিৎসক তার স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহরা এলাকার কুণ্ডু প্যাথলজিতে পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় ফোড়াকে টিউমার চিহ্নিত করে তাতে ক্যানসার রয়েছে বলে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসক শরীফ ১১ নভেম্বর রোগীর স্বামী সোলায়মান মিয়ার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার আইচ ক্লিনিকে ভর্তি করান।

সেখান থেকে গৃহবধূকে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন। ওই সময় গৃহবধূর স্বামীর কাছ থেকে আরও ৩৫ হাজার টাকা নেয়া হয় বলে গৃহবধূর স্বামী দাবী করেন। পরে প্রথমে ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস ও ঢাকা মেডিকেলে বায়োপসি করানো হলে উভয় রিপোর্টেই স্তনে কোনো ক্যান্সার নাই বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে গতবছর ২৯ ডিসেম্বর শেরপুর সিআর আমলি আদালতে দুই চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগে কর্মরত ডা: শরীফুল ইসলাম শরীফ ও ময়মনসিংহের কুণ্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা: কে. কে. কুন্ডুকে আসামী করে একটি নালিশি মামলা করেন গৃহবধূর স্বামী সোলায়মান।

আদালত মামলাটি সরাসরি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহন করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীবরদী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি আদেশের ৫ দিন পর ৩ জানুয়ারি রেকর্ড করা হয়। এর পর থেকে প্রকাশ্যে ডা: শরিফ ঘুরে বেড়ালেও এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চালালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছিলোনা। এরপর থেকে বিষয়টি শেরপুরের বিভিন্ন মহলের আসে এবং দায়ী ডাক্তারকে গ্রেফতারের দাবীতে মানব বন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।

অবশেষে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ডা: শরীফকে শেরপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি অফিসে রাখে। তবে এখনও ময়মনসিংহের কুণ্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা: কে. কে. কুন্ডুকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।


 

সর্বাধিক পঠিত খবর


চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হলো রেনিটিডিন



শিশু দ্রুত লম্বা হবে যেসব খাবারে