বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯

English Version

বিহারে এনসেফ্যালাইটিসে, শিশুর মৃত্যুর কারণ দারিদ্র্য ও অপুষ্টি

No icon শিশু কর্নার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২৪ জুন’১৯: এনসেফ্যালাইটিসে ভারতের বিহার রাজ্যের একাধিক জেলায় ১৫৬ শিশুর মৃত্যুর কারণ লিচু নয়। দারিদ্র্যই শিশু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

কারণ পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় মৃত শিশুরা জন্ম থেকেই অপুষ্টির শিকার। ফলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা না জন্মানোয় সহজেই এদের শরীরে থাবা বসাতে পেরেছ এনসেফ্যালাইটিস এবং একই কারণে রোগের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা ছিল না তাদের।

বিহার সরকার ও একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা সমীক্ষা পরিচালনা করে শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে এমন তথ্যই জানিয়েছে।

বিহারের মুজফফরপুর জেলার ২৮৯টি পরিবারকে ইতোমধ্যে সামাজিক-অর্থনৈতিক জরিপের আওতায় আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮০টি পরিবার রয়েছে দারিদ্র্যসীমার নীচে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই মজুর এবং কোনোমতে রোজের রুটিটুকু তারা জোগাড়ে সক্ষম।

এই পরিবারগুলোর মাত্র ২৯ মেয়ে শিশু প্রধানমন্ত্রীর কন্যা উত্থান যোজনার আর্থিক সহায়তার আওতাভুক্ত। ইন্দিরা আবাস বা প্রধানমন্ত্রীর হাউজিং স্কিম সুবিধা পায় মাত্র ৯০টি পরিবার।

সমীক্ষায় আরো জানা গেছে, অন্ন সংস্থানের জোগান ঠিক মতো না হলেও তাদের সন্তানের সংখ্যা মাথাপিছু প্রতি পরিবারে তিনটি। এদের মধ্যে রেশন কার্ড নেই ৯৬ জনের এবং গত মাসে রেশন পায়নি ১২৪টি পরিবার।

মুজফফরপুরের হাসপাতালে তাদের সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পেয়েছে ১৫৯ টি পরিবার।

কিউলেক্স বিশনুই নামের এক ধরনের মশা এনসেফ্যালাইটিস ছড়ায়। এতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, মাথা ধরার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হলে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে শিশুরা।

এদিকে রাজ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের বেশিরভাগই হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার পরিমান কমে যাওয়ায় মারা গেছে।

রাজ্যের ১৬টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোম (এইএস)। মুজফ্ফরপুর জেলাতেই ১২২টি শিশু মারা গেছে। এছাড়াও ভাগলপুর, বৈশালী, পূর্ব চম্পারণ, সীতামঢ়ী, সমস্তীপুর ও পটনায় মৃত্যুর খবর মিলেছে। অসুস্থ হয়েছে কম করে ৬০০ শিশু।

১৯৭০’এর দশকের শেষের দিকে বিহার ও উত্তর প্রদেশে প্রথম এনসেফ্যালাইটিস শনাক্ত হওয়ার পর এ রোগে কয়েক হাজার শিশু মারা গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা

সর্বাধিক পঠিত খবর








পিঠের মেদ দ্রুত কমানোর তিন উপায়