google-site-verification=pleBAPcUT-HwHq3xSe6nAu868BfTgpgJAuvqe5HWCsM

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

English Version

সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ শিশু

No icon শিশু কর্নার

ডেস্ক রিপোর্ট, ৮ আগস্ট, ২০২০: সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুরা অজানা মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনজন শিশুর একজন বা প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। অর্থাৎ এসব শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। ইউনিসেফ ও পিওর আর্থ প্রকাশিত এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ ধরনের প্রথম প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব শিশুর প্রায় অর্ধেকের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়।

বাংলাদেশে আনুমানিক তিন কোটি ৫৫ লাখ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি, যা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে চতুর্থ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেছেন, সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের জীবনভর শিক্ষাগ্রহণে অসমর্থ করে তোলাসহ তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে বড় হওয়ার পর তাদের আয়ের সক্ষমতাও প্রভাবিত হয়। বিপজ্জনক ধাতব বর্জ্য ও সিসার দূষণ এবং এর কারণে শিশুদের ক্ষতিজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ।

ইন্সটিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স ইভাল্যুয়েশনের তথ্যানুসারে, সিসার বিষক্রিয়ায় বিশ্বে যেসব দেশে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং এ দেশের জনসংখ্যার প্রত্যেকের রক্তে সিসার উপস্থিতির গড় হার ৬ দশমিক ৮৩ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটার, যা সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বিশ্বে ১১তম। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশে মসলায় উচ্চ মাত্রায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হলুদের মান নির্দেশক হিসেবে রং ও ওজন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত লিড ক্রোমেট শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমানভাবে রক্তে সিসার মাত্রা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। এক সমীক্ষা অনুসারে, কিছু পণ্যে সিসার উপস্থিতি জাতীয় সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে ৫০০ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসার ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে আইকিউ হ্রাস পাওয়ায় অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়, তা দেশের জিডিপির ৫ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং জীবনে পাওয়া সুযোগগুলোর সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুরা পরবর্তী জীবনে কিডনি নষ্ট হওয়ার এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিসহ ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করে। শৈশবকালের সিসাজনিত বিষক্রিয়ার শিকার হওয়া শিশুদের জীবনভর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে সিসাজনিত বিষক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা রাখে সিসা-এসিড ব্যাটারিগুলোর অনানুষ্ঠানিক ও নিম্নমানের পুনর্ব্যবহার। যা ২০০০ সালের পর থেকে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তিন গুণ বেড়েছে। যানবাহনের মালিকানা বৃদ্ধির পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বিষয়ক নিয়মকানুন ও অবকাঠামোগত ঘাটতি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহারে ভূমিকা রাখে।

সর্বাধিক পঠিত খবর


জ্বর কেমন হলে বুঝবেন করোনার লক্ষণ


নায়ক ফারুকের অবস্থার আরো অবনতি

করোনাই শেষ মহামারি নয়: ডব্লিউএইচও




রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিনে সুস্থ হচ্ছেন অনেকেই