মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

English Version

হাওড়াঞ্চলে স্বল্প ওজনের শিশুর জন্ম বেড়েছে

No icon শিশু কর্নার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: সুনামগঞ্জের হাওড়পাড়ের গ্রামে আগস্ট মাসে জন্ম লামিয়ার। বাড়িতে জন্ম হলেও সমস্যা দেখা দিলে পরদিনই তাকে নিতে হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তার ওজন মেপে দেখেন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম, মাত্র দুই কেজি। এ ছয় মাসে লামিয়ার ওজন কিছুটা বেড়েছে। তার পরও লিকলিকে শরীর দেখে এখনো তিন মাসের শিশুই মনে হয় তাকে।

কম ওজনের বিষয়ে জানতে চাইলে লামিয়ার নানি বলেন বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর জামাই কর্মহীন হয়ে পড়ে। সরকারের দেয়া ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকায় চারজনের সংসার চালাতে হয়েছে। নিজেরা যা খেয়েছি, গর্ভবতী মেয়েকেও তা-ই খেতে হয়েছে। বাড়তি কোনো খাবার দেয়া সম্ভব হয়নি।

মায়ের এ অপুষ্টিই লামিয়ার কম ওজনের জন্য দায়ী বলে জানান চিকিৎসকরা। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে।

এবারের বন্যায় হাওড়ে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। কর্মও হারিয়েছেন অনেকে। এর প্রভাব পড়েছে পুষ্টির ওপর। মায়েদের পুষ্টিকর খাবারের অভাবে স্বল্প ওজনের শিশুর জন্ম আগের চেয়ে বেড়েছে।

হাওড়ে স্বল্প ওজনের শিশু জন্মের হার বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সংরক্ষিত তথ্যেও। সেখানকার তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের এপ্রিলের বন্যার পর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নিয়েছে ৩ হাজার ৯৯০টি শিশু। এর মধ্যে ২ হাজার ৭ জনই স্বল্প ওজনের। অর্থাৎ এ সময়ে শুধু হাসপাতালেই ৫০ শতাংশের বেশি শিশু স্বল্প ওজন নিয়ে জন্মেছে। বন্যার আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এ হার অনেক বেশি।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মগ্রহণ করে ২ হাজার ৯১০টি শিশু। এর মধ্যে কম ওজনের শিশুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩। অর্থাৎ বন্যার আগের ছয় মাসে জেলাটির হাসপাতালে জন্ম নেয়া শিশুর ৩৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল স্বল্প ওজনের। এ হারও স্বল্প ওজনের শিশুর জাতীয় হারের চেয়ে অনেক বেশি। ন্যাশনাল লো বার্থ ওয়েট সার্ভে ২০১৫ অনুযায়ী, দেশে স্বল্প ওজনের শিশু জন্মের হার ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতে, জন্মগ্রহণের সময় আড়াই থেকে চার কেজি ওজনকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। জন্মের পর নবজাতকের ওজন আড়াই কেজির কম হলে তাকে স্বল্প ওজনের শিশু বলে। স্বাভাবিক ওজনের শিশু জন্মদানে গর্ভাবস্থায় মায়েদের সাধারণ সময়ের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হয়। সে খাবার হতে হবে অবশ্যই পুষ্টিসমৃদ্ধ। এর ব্যত্যয় ঘটলে স্বল্প ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

সর্বাধিক পঠিত খবর


কিডনী ড্যামেজের লক্ষণ সমূহ

ডিনার দেরিতে করা মানেই ক্যান্সার!



বুকের ব্যথার কারণ সমূহ

জন্ডিসের কারণ ও প্রতিকার


পেটের চর্বি থেকে মুক্তির উপায়