মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

English Version

কালীগঞ্জে এক সপ্তাহে শতাধিক শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

No icon শিশু কর্নার

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে শিশু ডায়রিয়া । এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু হাসপাতাল ও প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে । আবার হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমানে শয্যা না থাকায় কেউ কেউ নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন ভাইরাস ও আবহাওয়া জনিত কারনে এই রোগ দেখা দিয়েছে । তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই । হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা নিয়েই বাড়ি ফিরছেন ।

এদিকে হঠাৎ ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক আছেন টিএইচএ বাদে মাত্র ২ জন । ফলে চিকিৎসক সঙ্কটের কারনে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়ছে ভোগান্তিতে । চিকিৎসকদের ভাষ্য রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তাদেরকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও রোগী ভর্তি আছেন ৭২ জন । অতিরিক্তরা শয্যা ছাড়াও দ্বিতল ভবনের বারান্দা ও ফ্লোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন । বেশির ভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুসহ সব বয়সী মানুষ । এতোগুলো রোগী সামলাচ্ছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক । হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালটিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে প্রায় শতাধিক । তাছাড়াও অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। শুধু শিশুরাই নয় সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে এটা ভাইরাস জনিত কারনে হচ্ছে। ফলে আক্রান্তদের সুস্থ হতে একটু সময় লাগছে। এখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য খাবার স্যালাইনের ঘাটতি না থাকলে শিরায় প্রয়োগের জন্য কলেরা স্যালাইনের অপেক্ষাকৃত কম রয়েছে।

জানা গেছে, হাসপাতালটিতে মেডিসিন, গাইনী, শিশু, অর্থো, ইএনটি, চর্ম, চক্ষু, সার্জারীসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৩২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছে টিএইচএ বাদে ৪ জন সহকারী ডাক্তার আছেন। এর মধ্যে মেডিসিনে ডাঃ মোঃ মাহাফুজুল আলম সোহাগ ও ডাঃ অরুণ কুমার দাস,  ডাঃ সম্পা মদক,  গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডাঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ কর্মরত রয়েছেন। ডাঃ মোঃ মাহাফুজুল আলম সোহাগ জানান, সেবামূলক খাতে চাকুরির জন্য যত কষ্টই হোক না কেন এটা মেনে নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে এভাবে রাত-দিন দায়িত্ব পালন করতে হলে এক সময়ে তাদের নিজেদেরও রোগী হয়ে যেতে হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা হোসাইন সাফায়েত জানান, সম্প্রতি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপটা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়ে তিনি জানান, এটা উপরি মহলে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি সঙ্কট কেটে যাবে। তাছাড়াও ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে পোষ্টিংকৃত ২ জন চিকিৎসক ডাঃ শারমিন সুলতানা লুবনা ও সুলতান আহম্মেদকে উভয় স্থানে কাজে লাগানো হয়েছে। তারপরও বর্তমানে রোগীর চাপে তাদের পক্ষে হাসপাতাল সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের বাথরুম এবং ব্যাসিন এত অপরিষ্কার দেখলে মনে হবে এই হাসপাতালের কোন অভিভাবক নাই। এই সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি, সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টির আশা করছে সবাই।

সর্বাধিক পঠিত খবর

কিডনি ইনফেকশন প্রতিরোধের উপায়

বুদ্ধিমান সন্তান চেনার উপায়?

কী হয় হিমোগ্লোবিন বেশি হলে ?

মেদ কমান, সুস্থ থাকুন


থাইরয়েডের সমস্যায় যে খাবার খাবেন