বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

English Version

দেশে শহরের ৮২% শিশু নির্যাতনের শিকার

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৬৪দিন
:
১১ঘণ্টা
:
৩৯মিনিট
:
৫৬সেকেন্ড
No icon শিশু মনস্তত্ত্ব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: দেশের শহরাঞ্চলের ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু অভিভাবকদের দ্বারা মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ শিশু মানসিক আগ্রাসনের শিকার। আর সাধারণ শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে তীব্র শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেইন। বিবিএসের মহাপরিচালক আমীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইদুয়া বেগবেদে।

সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর, পৌরসভাসহ শহরাঞ্চলের ২১ হাজারের বেশি ১-১৪ বছর বয়সী শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিবিএস ও ইউনিসেফ। ‘চাইল্ড ওয়েল-বিয়িং সার্ভে ইন আরবান এরিয়াজ অব বাংলাদেশ ২০১৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের লালন-পালন, বেড়ে ওঠা বা সঠিকভাবে শিক্ষিত করে তোলার জন্য শারীরিক শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ অভিভাবক। জরিপটি পরিচালিত হয়েছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়ে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে রাজশাহী বিভাগীয় শহরের শিশুরা, ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে কম নির্যাতনের শিকার হয় রংপুরে, সেখানে এ হার ৮০ শতাংশ। অন্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে বরিশালে ৮০ দশমিক ৬, চট্টগ্রামে ৮৩ দশমিক ৬, ঢাকায় ৮১ দশমিক ৬, খুলনায় ৮৩ দশমিক ৩ ও সিলেটে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ।

সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় সবচেয়ে বেশি বস্তি এলাকায়, ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ; অন্য এলাকায় ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া পৌর শহরে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে শহরাঞ্চলের মধ্যে মেয়েশিশুদের তুলনায় ছেলেশিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের হার ৮৪ ও মেয়েদের ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর এসব শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয় ৫-৯ বছর বয়সীরা, ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ; আর ১-২ বছরের ৭১ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেয়া ১২ হাজার ১৬৭ জন অভিভাবকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি সমর্থন করেন কিনা? ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ অভিভাবক মনে করছেন, শিশুদের লালন-পালন, বেড়ে ওঠা বা সঠিকভাবে শিক্ষিত করে তোলার জন্য শারীরিক শাস্তির প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগের অভিভাবকদের মধ্যে। সেখানকার ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ অভিভাবক শারীরিক শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এদিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রংপুর, সেখানে এ সংখ্যা ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলের ২৬ শতাংশ শিশু খর্বকায় ও ২০ শতাংশ স্বল্প ওজনের। প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ৮৬ শতাংশ; বস্তিতে এর পরিমাণ ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাচ্ছে ৬৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

সর্বাধিক পঠিত খবর







করোনার ওষুধ আবিষ্কার, বাজারে ছাড়ার অনুমতি


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে করণীয়

মোবাইল থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস!