শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

English Version

দেশে শহরের ৮২% শিশু নির্যাতনের শিকার

No icon শিশু মনস্তত্ত্ব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: দেশের শহরাঞ্চলের ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু অভিভাবকদের দ্বারা মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ শিশু মানসিক আগ্রাসনের শিকার। আর সাধারণ শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে তীব্র শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেইন। বিবিএসের মহাপরিচালক আমীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইদুয়া বেগবেদে।

সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর, পৌরসভাসহ শহরাঞ্চলের ২১ হাজারের বেশি ১-১৪ বছর বয়সী শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিবিএস ও ইউনিসেফ। ‘চাইল্ড ওয়েল-বিয়িং সার্ভে ইন আরবান এরিয়াজ অব বাংলাদেশ ২০১৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের লালন-পালন, বেড়ে ওঠা বা সঠিকভাবে শিক্ষিত করে তোলার জন্য শারীরিক শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ অভিভাবক। জরিপটি পরিচালিত হয়েছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়ে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে রাজশাহী বিভাগীয় শহরের শিশুরা, ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে কম নির্যাতনের শিকার হয় রংপুরে, সেখানে এ হার ৮০ শতাংশ। অন্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে বরিশালে ৮০ দশমিক ৬, চট্টগ্রামে ৮৩ দশমিক ৬, ঢাকায় ৮১ দশমিক ৬, খুলনায় ৮৩ দশমিক ৩ ও সিলেটে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ।

সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় সবচেয়ে বেশি বস্তি এলাকায়, ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ; অন্য এলাকায় ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া পৌর শহরে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে শহরাঞ্চলের মধ্যে মেয়েশিশুদের তুলনায় ছেলেশিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের হার ৮৪ ও মেয়েদের ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর এসব শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয় ৫-৯ বছর বয়সীরা, ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ; আর ১-২ বছরের ৭১ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেয়া ১২ হাজার ১৬৭ জন অভিভাবকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি সমর্থন করেন কিনা? ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ অভিভাবক মনে করছেন, শিশুদের লালন-পালন, বেড়ে ওঠা বা সঠিকভাবে শিক্ষিত করে তোলার জন্য শারীরিক শাস্তির প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগের অভিভাবকদের মধ্যে। সেখানকার ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ অভিভাবক শারীরিক শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এদিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রংপুর, সেখানে এ সংখ্যা ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলের ২৬ শতাংশ শিশু খর্বকায় ও ২০ শতাংশ স্বল্প ওজনের। প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ৮৬ শতাংশ; বস্তিতে এর পরিমাণ ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাচ্ছে ৬৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

সর্বাধিক পঠিত খবর

পিসিওএস ও বন্ধ্যাত্ব

দরকার শুধু একটা চামচ! বোঝা যাবে কিডনি ...

জেনে নিন জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ


অসুস্থ কিডনির লক্ষণ



একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ!

আকন্দের যত ঔষুধী গুণ

রাতে কলা খাওয়া কি ঠিক?