রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০

English Version

করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর ‘প্রমাণও আসছে’, বললো ডব্লিউএইচও

No icon ফার্মাসিউটিক্যালস

ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ জুলাই, ২০২০: বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর ‘প্রমাণ’ যে আসতে শুরু করেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা স্বীকার করল। ৩২টি দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন হালনাগাদ করার আহ্বান জানানোর পর জাতিসংঘের এ সংস্থার তরফ থেকে স্বীকারোক্তি এল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল প্রধান ড. মারিয়া ফন কেরকোভে জেনিভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে বা বাতাসে ভাসমান ভাইরাল কণার মাধ্যমে সংক্রম ঘটাতে পারে কি না সেই সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বরাবরই বলে আসছে, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির সময় শ্বাসতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসা ভাইরাল জলকণা থেকেই মূলত এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তবে অপেক্ষাকৃত বড় কণাগুলো ভারী হওয়ায় দ্রুত নিচে পড়ে যায়।

কিন্তু ২৩৯ জন বিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লেখা খোলা চিঠিতে প্রমাণসহ দেখিয়েছেন, বাতাসে ভেসে থাকা একেবারে ক্ষুদ্র ভাইরাসবাহী কণা থেকেও মানুষ শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। তাদের ওই চিঠি সোমবার ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালেও প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে সই করা ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর কেমিস্ট হোসে হিমেনেস বলেন, এই ‘প্রমাণগুলোর’ কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকার করুক, সেটাই তারা চেয়েছেন।

 

“এটা মোটেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আক্রমণ করা নয়। এটা একটা বৈজ্ঞানিক বিতর্ক। আমাদের মনে হয়েছে, এটা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিৎ, কারণ বহুবার আলোচনা হলেও তারা আমাদের প্রমাণগুলো শুনতে অস্বীকার করে আসছিল।”

মঙ্গলবার জেনিভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্রিফিংয়ে এ সংস্থার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বেনেদেত্তা আলেগ্রানজি বলেন, “করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর প্রমাণ আসছে, কিন্তু বিষয় হল, সেগুলো নিশ্চিত কিছু নয়।  

“সেখানে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশে, আবদ্ধ জনাকীর্ণ ঘরে, যেখানে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেখানে বায়ুবাহিত সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

“তবে এসব প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।”

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিজ্ঞানীদের ওই চিঠির খবর প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, এ ভাইরাস যদি সত্যিই বাতাসে বাহিত হয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়াতে পারে, বিশেষ করে সেসব জায়গায়, যেখানে অবাধে বাতাস চলাচল নেই, কিন্তু মানুষের সমাগম বেশি, তাহলে ভাইরাস ঠেকানোর পরিকল্পনাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।

সেক্ষেত্রে মাস্ক পরতে হবে ঘরের মধ্যেও। সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানার পরও আবদ্ধ জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের এন ৯৫ মাস্ক পরে নিতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নার্সিং হোম, বাসাবাড়ি আর অফিসে এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ার কুলারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে, বসাতে হবে বাতাস বিশুদ্ধ করার শক্তিশালী ফিল্টার। এমনকি ঘরের ভেতরে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ভাইরাসবাহী অতিক্ষুদ্র কণাগুলো ধ্বংস করতে অতিবেগুনী রশ্মিও ব্যবহার করতে হতে পারে।

গত ২৯ জুন প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যেও বলা হয়েছে, কেবল তখনই এ ভাইরাস বাতাস বাহিত হয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে যদি ভাইরাল জলকণা বা ড্রপলেটের আকার ৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট হয় (১ মাইক্রন = ১ মিটারের ১ মিলিয়নতম ভাগ)।

আর কেবল তখনই আবদ্ধ পরিবেশে বায়ু চলাচলের সুবিধা বা এন ৯৫ মাস্ক পরার কথা ভাবা উচিৎ বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মহামারীর শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তাদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনায় প্রাথমিক সুরক্ষাবিধি হিসেবে ঘন ঘন হাত ধোয়ার কথা জোরেশোরে বলে আসছে।

অথচ কোনো বস্তুর উপরিতল থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার প্রমাণ খুব বেশি নেই। (যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এখন বলছে, কোনো কিছুর উপরিতল এই ভাইরাস ছড়াতে সামান্য ভূমিকাই রাখে।)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে পৃথিবীর সব দেশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তাদের স্বাস্থ্যবিধি তৈরি ও কার্যকর করে আসছে। সংক্রমণ এড়াতে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মও চালু হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে। এখন করোনাভাইরাস বাতাসে বাহিত হয়ে সংক্রমণ ছড়ালে সেই নিয়মও আর খাটবে না।

সর্বাধিক পঠিত খবর


ঘর থেকেই বেশি ছড়াচ্ছে করোনা: গবেষণা



মা'কে হারালেন সাদিয়া ইসলাম মৌ