মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০

English Version

আমিরাতে করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিলেন বাংলাদেশি

No icon ফার্মাসিউটিক্যালস

ডেস্ক রিপোর্ট, ২৭ জুলাই, ২০২০: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে যেসব প্রতিষ্ঠান তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করেছে, তেমন একটি পরীক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ রাহাত আহমেদ রাফি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভ্যাকসিন নিজের দেহে নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় কয়েক হাজার মানুষের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এটির কার্যকারিতা ও কতটুকু নিরাপদ, সেটা যাচাই করা হয়। রাফি বলছেন, ‘আমার ভয় লাগেনি। মানুষ তো মরণশীল, আজ হোক কাল হোক মারা যেতে হবে। এর মধ্যে মানুষের কল্যাণের জন্য যদি কিছু করতে পারি, সেটাই আমার সার্থকতা।’

চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের সঙ্গে যৌথভাবে আবু ধাবির স্বাস্থ্য অধিদফতর ও গ্রুপ-৪২ নামের একটি কোম্পানি এই পরীক্ষা শুরু করেছে। এর আগে চীনে এই ভ্যাকসিন প্রথম ও দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা হয়। দুইশর বেশি দেশের নাগরিক থাকায় তৃতীয় দফার পরীক্ষার জন্য আবুধাবিকে বেছে নিয়েছেন গবেষকরা।

আবুধাবি এবং আল আইন শহরে পরীক্ষায় অংশ নিতে সাত হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী নাম তালিকাভুক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে সেদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। সবমিলিয়ে ১৫ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা করানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দেশটিতে প্রথম টিকা নিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান।

তাদেরই একজন বাংলাদেশি ২৬ বছর বয়সী তরুণ রাহাত আহমেদ রাফি। তিনি বলছেন, ‘আমি রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এখানকার করোনা টেস্টিং সেন্টারে গত দুই মাস ধরে কাজ করছি। আমার দায়িত্ব যারা টেস্ট করাতে আসবেন, তার নাম-ঠিকানা কম্পিউটারে তালিকাভুক্ত করা।’

 

রাফি বলছেন, ‘যখন জানতে পারলাম যে, করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী চাওয়া হচ্ছে, তখন আমিও ইন্টারনেটে নাম তালিকাভুক্ত করি। এরপর কয়েকদিন পরে আমার স্বাস্থ্য পরীক্ষা, করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ জুলাই তারিখে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছি। ২১ দিন পরে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেবে।’

তিনি জানান, আবু ধাবিতে বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে স্বেচ্ছাসেবী চাওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর যাদের শরীরে গুরুতর কোনো রোগ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদেরকেই ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য বাছাই করা হচ্ছে। এদের মধ্যে স্থানীয় মানুষজনই বেশি।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার হালকা মাথা ঘোরানো ছাড়া অন্য কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে রাহাত আহমেদ রাফি।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেয়ার পর থেকেই প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, বর্তমানে কেমন লাগছে, সেটা জানতে চাইছেন। তারা সবসময় আমাদের ফলোআপে রাখছেন। তিনদিন পরপর তাদের অফিসে গিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বলেছেন।’

আগামী এক বছর এভাবে তাদের ফলোআপে রাখা হবে বলে আবু ধাবির স্বাস্থ্য অধিফতর থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে। আপাতত তাকে অন্যদের থেকে আলাদা থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিনি ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে তার জানা নেই বলে জানান রাহাত আহমেদ।

সর্বাধিক পঠিত খবর


ঘর থেকেই বেশি ছড়াচ্ছে করোনা: গবেষণা





মা'কে হারালেন সাদিয়া ইসলাম মৌ