শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

English Version

বাড়িতে বসেই তৈরি করা যাবে ওষুধ!

No icon ফার্মাসিউটিক্যালস

স্বাস্থ্য ডেস্ক— ১৬ মে, ২০১৬: 'ফার্মেসি অন ডিমান্ড' নামে এক নতুন প্রযুক্তির পথে চলছে গবেষণা। গবেষকরা সাধারণ রেফ্রিজারেটর আকারের এমন একটি যন্ত্রের বাস্তব রূপ দিতে চলেছেন, যাতে কারখানার বাইরে, এমনকি বাড়িতেও তৈরি করা যাবে ওষুধ। যে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব, সরবরাহ ঘাটতি অথবা প্রস্তুতকারক কারখানা বিকল হয়ে গেলে জীবন বাঁচাবে এই বিশেষ যন্ত্র। যন্ত্রটি দিনে তৈরি করতে পারবে হাজারো ডোজের ওষুধ।

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে পণ্য ছাড়ার আগে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে তারা একটি 'প্রবাহ প্রক্রিয়া' তৈরি করতে চায়, যেন উৎপাদনের কাজগুলো এক স্থানে করা যায়। 'আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক স্থানে উৎপাদনের কাজ করে। এতে উৎপাদনের সময় যায় বেড়ে; এবং পরবর্তীকালে পরিবহন চেইনেও ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু এর একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আমরা এখানে ফার্মাসিউটিক্যালস উপাদানগুলোর একটি ক্ষুদ্রাকার নমুনার রিপোর্ট করেছি।'

ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকরা ডিভাইসটি তৈরি করেছেন। এমআইটির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান মিয়ারসন বলেন, 'একে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি এনার্জি ব্যাকআপ হিসেবে চিন্তা করুন। আমরা শুধু প্রচলিত ওষুধ প্রস্তুত প্রণালী পরিবর্তন করতে চাইছি_ এমনটি নয়, বরং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে।'

ফার্মেসি অন ডিমান্ড ডিভাইসটির আগের মডেলটি ছিল আকারে আরো বড়। তবে নতুন গবেষণায় আকৃতিতে অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে একে সহজে পরিবহনযোগ্য একটি ডিভাইসে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই যন্ত্রটি সুনির্দিষ্ট এক হাজার ডোজ তৈরি করতে পারবে।

গবেষকদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার আরেকটি সুবিধাজনক দিক হচ্ছে_ এক ধরনের ওষুধ একসঙ্গে বিপুল পরিমাণে তৈরি করতে হবে, তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। আর এতে নির্দিষ্ট ওষুধের উৎপাদন খরচও কমিয়ে আনা যাবে। তৈরি করা যাবে প্রয়োজন অনুসারে কম সংখ্যক ওষুধ।

অনেক ক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক ওষুধ সংগ্রহে বেশ বেগ পেতে হয় রোগীদের। তাদের জন্য এই যন্ত্র এক ধরনের সুখবর। কেননা, এই যন্ত্রে স্বল্প সংখ্যক ওষুধ তৈরির সুবিধা থাকায় এবং তা পরিবহনযোগ্য হওয়ায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এসব ওষুধ বাজারে চালু রাখার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হবে নতুন সুযোগ। ফলে রোগীর প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে জোগান দেয়া সম্ভব হবে বিশেষ ওষুধ। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওষুধের মজুদ নিয়েও আর ভাবতে হচ্ছে না। আরো ভালো খবর হলো, বর্তমান যন্ত্রটিকে আকৃতিতে আরো ৪০ শতাংশ ছোট করে আনার উদ্দেশ্যে চলছে গবেষণা।

সর্বাধিক পঠিত খবর







করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই