amarhealth.com
দেশেই ক্যান্সার চিকিৎসায় তৈরি হচ্ছেন ‘চিকিৎসা পদার্থবিদ’রা - দেশেই ক্যান্সার চিকিৎসায় তৈরি হচ্ছেন ‘চিকিৎসা পদার্থবিদ’রা -
Sunday, 29 May 2016 11:53 am
Reporter : এস এম আউয়াল
amarhealth.com

amarhealth.com

স্বাস্থ্য ডেস্ক — ২৯ মে, ২০১৬: জার্মানপ্রবাসী চিকিৎসা পদার্থবিদ ড. গোলাম আবু জাকারিয়া। বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায়। বাংলাদেশে চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা বিষয়টি শুরু হয়েছে তাঁর হাত ধরে। ক্যান্সার চিকিৎসায়ও রয়েছে তাঁর ভূমিকা। পাশাপাশি জার্মানিতে বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য পেয়েছেন ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১৩’।

বর্তমানে তিনি জার্মান কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ হাসপাতাল গুর্মাচবাকের চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ড. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি প্রথমবারের মতো গণবিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা বিষয় চালু করতে সম্মত হন। এরপর থেকে প্রতিবছর তিন থেকে চারবার বাংলাদেশে আসেন তিনি। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শেখান চিকিৎসা পদার্থবিদ্যার নানা বিষয়। এবার বাংলাদেশে এসে গণবিশ্ববিদ্যালয় শাখা শুভসংঘের বন্ধুদের সঙ্গে এক আড্ডায় বসেছিলেন এই কৃতী শিক্ষাবিদ। শুভসংঘের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশে চিকিৎসা পদার্থবিদ্যার হালচাল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।  

সেই স্কুলজীবন থেকেই অঙ্ক ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলো ছিল আমার প্রিয়। রাজশাহী বোর্ডের অধীন ১৯৭০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পর পদার্থবিদ্যা পড়ার ঝোঁক পেয়ে বসে। বাড়ি থেকে বলা হলো ডাক্তারি বা প্রকৌশল পড়ার জন্য। ঠিক করলাম তড়িৎ প্রকৌশলী হব। ভর্তি হয়ে বুয়েটে এক বছর লেখাপড়াও করেছি। স্বাধীনতার পর জার্মানির বৃত্তি পেয়ে সেই আবার ফিরে এলাম পদার্থবিদ্যায়। জার্মানিতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকার সময় মুলিকুলার বায়োলজির ফাদার হিসেবে পরিচিত জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান পদার্থবিদ মাক্স ডেলব্রুকের এক বক্তৃতা শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল।

তিনি বলেছিলেন, ‘পদার্থবিদদের এখন পরমাণু বোমা গবেষণা বাদ দিয়ে মেডিসিনে আসা উচিত।’ আমার এই পেশায় আসার হয়তো বা এটাও একটা কারণ। চলে এলাম চিকিৎসা পদার্থবিদ্যায়। চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা মানুষের রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যেসব যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়, তা থাকে চিকিৎসা পদার্থবিদদের তত্ত্বাবধানে। আমাদের ছাত্ররা চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা পড়া শেষ করে বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার আর টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে একটি টিমে ক্যান্সার চিকিৎসা করছেন। এ ছাড়া মেডিসিনের অন্যান্য বিষয়েও চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা আপন স্থান করে নিয়েছে।

গত ১৪ বছরের অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আজকের মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এই বিভাগ বাংলাদেশে চিকিৎসা পদার্থবিদ তৈরির সূতিকাগৃহ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশের প্রায় সব হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জার্মান সরকারের খরচে প্রায় ২০ জন ছাত্র ও শিক্ষককে স্যান্ডউইচ প্রোগ্রামের আওতায় মাস্টার ডিগ্রি ও ট্রেনিং করানো হয়। বাংলাদেশের সব ক্যান্সার রোগীকে সুচিকিৎসার আওতায় যদি আনা যেত, তবে প্রায় ৮০০ জন চিকিৎসা পদার্থবিদের দরকার হতো। এর জন্য বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা কোর্স চালু করা দরকার।

বাংলাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এই দুই খাতের সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে অধিক অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান করার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতে হবে। উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো—দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা। বাংলাদেশের সোনালি ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা একটি সুস্বাস্থ্য ও