amarhealth.com
ক্যানসার মুক্তির অভিজ্ঞতা জানালেন রাকেশ
Monday, 11 Nov 2019 12:11 pm
Reporter :
amarhealth.com

amarhealth.com

আমার বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক ও প্রযোজক রাকেশ রোশন এখন ক্যানসার মুক্ত। ২০১৮ সালে তাঁর গলায় ‘স্ক্যামাস সেল কার্সিনোমা’ নামের ক্যানসার ধরা পড়ে। তখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। কিছুদিন তাঁকে না জানিয়েই চিকিৎসা চলে। তারপর কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গলায় একটি সার্জারির পর এখন তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। জানিয়েছেন, ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধের পর শিগগিরই তিনি ‘কৃষ’ সিরিজের নতুন ছবি ‘কৃষ ফোর’-এর কাজ শুরু করবেন।

এদিকে ক্যানসার থেকে রেহাই পেলেও এত দিন এই কঠিন রোগ নিয়ে কিছুই বলেননি রাকেশ রোশন। এবার স্পট বয়কে বললেন, ‘গলায় একটা ছোট গুটির মতো উঠেছিল। আমাদের পারিবারিক ডাক্তার আমাকে রোগের কথা কিছুই জানায়নি। শুধু কিছু ওষুধ খেতে দিয়েছিল। আমার কোনো ব্যথা বা চুলকানিও ছিল না।’

তারপর একদিন কেমোথেরাপি শুরু আগে ডাক্তার রাকেশ রোশনকে তাঁর ক্যানসারের কথা জানালেন। কিন্তু কেমো চলা পর্যন্ত কাউকে জানানো হয়নি। রাকেশ রোশন বলেন, ‘২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর আমার বাড়িতে থার্টি ফার্স্টের পার্টি হয়। আমার বন্ধুরা আসে। তখনো ওরা কেউ জানত না যে আমার ক্যানসার। তখনো আমি সাহসী ছিলাম। আশাবাদী ছিলাম। মোটেও ভেঙে পড়িনি।’

কখন ভেঙে পড়লেন? রাকেশ রোশন বললেন, ‘যেদিন ডাক্তার বললেন, জীবন বাঁচানোর জন্য আমার জিহ্বা কেটে ফেলা প্রয়োজন, সেদিন সত্যি সত্যি ভেঙে পড়েছিলাম। জিদ করে বলেছিলাম, যা-ই হয় হোক, জিহ্বা কাটব না। পরে অবশ্য আর জিহ্বা কাটতে হয়নি। একটা সার্জারির পর আমাকে দুই মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এরপর আবারও নানা পরীক্ষার পর তাঁরা আমাকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা দেন।’

‘কোয়ি...মিল গ্যায়া’, ‘কহো না...পেয়ার হ্যায়’, ‘কৃষ’, ‘কয়লা’, ‘করণ অর্জুন’সহ আরও অসংখ্য ছবির এই পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের প্রত্যেককেই কম-বেশি শারীরিক অসুস্থতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। সুনয়নার (মেয়ে) ক্যানসার ছিল। হৃতিকের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হলো। তারপর আমার ক্যানসার হলো। তবে আমি এসব নিয়ে কখনো অভিযোগ করিনি। আমি হতাশাবাদী নই। লড়াই করা, বেঁচে থাকা বড় কথা। ক্যানসার কেবল একটা নাম, বড় নাম।’

অন্যদিকে গত ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে বলিউড তারকা হৃতিক রোশন বাবা রাকেশ রোশনের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি বরাবরই জীবনের ছাত্র। জীবন আমাকে বারবার শিখিয়েছে। তবে জীবনের আগে আমার শিক্ষক বাবা। ধন্যবাদ বাবা, আমাকে সেই শিক্ষা দেওয়ার জন্য। যে শিক্ষা আমাকে কোনো ক্লাস, বই, বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারত না। তুমিই আমাকে আরও ভালো বাবা, ভালো বন্ধু আর ভালো মানুষ হতে শিখিয়েছ। তাই আজ আমার সন্তানেরা আমার দিকে তাকিয়ে তা-ই ভাবে, যা আমি তোমার দিকে তাকিয়ে ভাবি।’

এর আগে বাবা রাকেশ রোশন ক্যানসার মুক্ত হওয়ার পর বাবার সঙ্গে একটা ছবি দিয়ে হৃতিক রোশন লিখেছেন, ‘আমার জানা মতে, তিনি এই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ। প্রাথমিক পর্যায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তাঁর লড়াই দেখে আমি অনুপ্রাণিত।’