রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯

English Version

১৬ মার্চ, ১৯৭১ – “মুজিব-ইয়াহিয়ার একান্ত বৈঠক”

No icon স্পট লাইট

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৬ মার্চ’১৯: দিনটি ছিল মঙ্গলবার। উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের ১৫ তম দিন; শেখ মুজিবের সাথে বৈঠকের সাথে মিটিংয়ের জন্যে আগের দিন (১৫ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এসে ঢাকা পৌছেন। ষোল তারিখ সকাল এগারোটায় প্রেসিডেন্ট ভবনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও ইয়াহিয়া খানের বৈঠক সম্পন্ন হয়। ইয়াহিয়া খান পরিষদ স্থগিত করার ক্ষেত্রে তাঁর পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে আলোচনা শুরু করেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে ইয়াহিয়া বলেন যে, “তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে চান”। এর উত্তরে শেখ মুজিব তাঁকে বলেন, “জনগণের যে মনোভাব এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চ তিনি যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তার চেয়ে কম কোন কিছু মেনে নেওয়া সম্ভব না এবং জনগণও সেটা মানবেনা”।

আলোচনাকালেইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের ছয় দফার মৌলিক

দাবীগুলো নীতিগতভাবে মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ও অবিলম্বে সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন এমন ভাব দেখান।

উল্লেখ্য,সেদিনথেকেইপিআর জওয়ানদের অস্ত্র সামরিক কতৃপক্ষ তুলে 

নেয়; যার কারণে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সেদিন বাঙালি ইপিআরদের হাতে অস্ত্র বদলে দীর্ঘ বাঁশের লাঠি ছিল। বৈঠক চলাকালীন সময়ে জনতা প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে জমায়েত হয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে থাকে। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু বলেন, আরো আলোচনা চলবে। বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘরোয়া মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে তখন নিয়মিত সেনা প্রেরণ করা হত অপারেশন সার্চলাইটের জন্যে। এবং এই সৈন্য মোতায়েন বন্ধ করতে ভারত তার আকাশসীমার উপর দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানগামী সকল বিদেশী বিমান উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞাজারি করে।

আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আহসান হাবীব তার ‘'সিতারা–এ–খেদমত’’ খেতাব বর্জন করেন। আন্দোলনের সমর্থনে এদিনে (১৬ মার্চ) যেসব সংগঠন পথে নেমেছিল তারা হলঃ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সার্ভিসেস ফেডারেশন, উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, ব্রতচারী আন্দোলন, স্টেটব্যাংক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ, দেশরক্ষা খাতে বেতনভুক্ত বেসামরিক কর্মচারীদের সভা, ঢাকা জিলা সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড, নোয়াখালি এসোসিয়েশন, চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি, তাঁত শিল্প উন্নয়ন সমিতি, মগবাজার সংগ্রাম পরিষদ, দেশবিভাগে নিযুক্ত বেসামরিক কর্মচারী সমিতি।

অসহযোগ আন্দোলনে সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছিল গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সারাদেশব্যাপী আন্দোলন অব্যাহত থাকে। জয়দেবপুরে জনতার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, ড. জোহা হল, মুন্নুজান হল, যশোর, রংপুর সেনানিবাস এলাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা পিলখানা, ফার্মগেট, রামপুরা, কচুক্ষেত এলাকায় সামরিক বাহিনী অসহযোগ আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতন চালায়।

সর্বাধিক পঠিত খবর







হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



৭ ঘণ্টার কম ঘুম আর নয়!