শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

English Version

উন্নয়নের রোল মডেল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৬৪দিন
:
১১ঘণ্টা
:
৩৯মিনিট
:
৫৬সেকেন্ড
No icon স্পট লাইট

স্বাস্থ্য ডেস্ক- ০৩ জানু’২০: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনকের কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেটি এখন বাস্তবে রুপ নিয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য সেক্টরে ভিসন ২১-২১ বাস্তবায়ন সমাপ্ত করেছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল।

এই হাসপাতালের অধীনে একটি ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য তথ্য সিস্টেম (এইচআইএস) এর বিকাশ এবং রোগীদের ই-স্বাস্থ্য রেকর্ড তৈরির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ই-সেবা নিশ্চিত করণে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে Passive Optical Fiber Local Area Network এবং Application Data Center স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে শুরু হয়েছে ই-টিকেট, ই-প্রেশক্রিপশন, ই-টেন্ডার, ই-রেন্ট।

হাসপাতালের সকল কার্যক্রম ক্লোজ সাকিট ক্যামেরায় মনিটরিং করা হয়। ই-স্বাস্থ্য রেকর্ডগুলি রোগির জন্য নির্ভরযোগ্য, সুরক্ষিত এবং বিশ্বাসযোগ্য। এটি রোগীদের দক্ষ এবং কার্যকর চিকিৎসার মান উন্নত করে। উদাহরণস্বরূপ, বেশিরভাগ সময় রোগিরা তাদের স্বাস্থ্যের ইতিহাস যেমন: মেডিসিন ডাক্তারের সাথে শেষ অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ সহ সর্বশেষ পরীক্ষার রেকর্ডগুলির তারিখ ভুলে যায়। এছাড়াও ভ্রমণের সময় লোকেরা তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ হতে পারে। সাধারণত: এমতাবস্থায় কেউ তাদের সাথে চিকিৎসার রেকর্ড বহন করেন না। এই পরিস্থিতিতে, কখনও কখনও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা দানকারিদের পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য ইতিহাস পর্যবেক্ষণ না করে অবিলম্বে সঠিক চিকিৎসা সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই, যদি ই-হেলথ রেকর্ড পাওয়া যায়, স্বাস্থ্য চিকিৎসকগণ ই-স্বাস্থ্য রেকর্ডগুলির সাথে সংযোগ করতে পারেন এবং রোগির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পারেন।

বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলির ডিজিটালাইজেশনের জন্য ই-স্বাস্থ্য রেকর্ড চালু করার সময় এসেছে যা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়িয়ে তুলবে ।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের এই ডিজিটাল সেবা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম। ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে হাসপাতালের বহিঃ বিভাগের পাশাপাশি আন্তঃ বিভাগ কর্মক্রাম শুরু হয় এবং বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। চালু হয় ২৪ ঘন্টা জরুরী সেবা। ল্যাবরেটরীর কার্যক্রমও বর্ধিত হতে থাকে।

বর্তমান উপ-পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু রায়হান এর যোগ্য নেতৃত্বে অনেক প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলা করে, জাতির জনকের কন্যা জনগনকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার যে ওয়াদা করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করেছে ২৫০ শয্যা টিবি হাসপতাল শ্যামলী।

এখানে প্রতিদিন নতুন পুরাতন মিলিয়ে বহিঃ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন চার শতাধিক রোগি। রয়েছে আলাদা এ্যাজমা ও সি.ও.পি.ডি সেন্টার, সেখানে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা প্রদান করেন। টিবি রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য বক্ষব্যাধি রোগেরও চিকিৎসা দেয়া হয়। টিবি রোগে আক্রান্ত প্রসুতি ও গাইনী রোগীদের চিকিৎসায় আছেন বিশেষজ্ঞ গাইনী ও প্রসূতি চিকিৎসক।

আন্তঃ বিভাগে বর্তমান ১৩০ জনের বেশি রোগী ভর্তি আছেন। আন্তঃ বিভাগে যক্ষামুক্ত ও যক্ষাযুক্ত আলাদা পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, এসি এবং নন এসি কেবিন আছে। এইচডিইউ কার্যক্রম পূর্ণভাবে আইসিইউ কার্যক্রম আংশিকভাবে চালু হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে রোগীদের জন্য চালু রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যেমন- ১. ফাইবার অপটিক ব্রোঙ্কোস্কপি। ২. স্পাইরোমেট্রি। ৩. এক্সরে, ইসিজি, ৪ডি আলট্রাসনোগ্রাম। ৪. কফ পরীক্ষা, জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা। ৫. প্যাথলজীক্যাল ও বায়োক্যামিস্ট্রি সহ আরো অনেক পরীক্ষা। ৬. সিটি স্ক্যান ও ব্লাড  ট্রান্সফার কার্যক্রম অচিরেই শুরু হবে। রোগীদের সুবিধার্থে বয়েছে অনুসন্ধান কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা, সেবা সম্পর্কিত অডিও এনাউন্সমেন্ট, রোগীদের মোটিভেশনের জন্য রয়েছে আলাদা মোটিভেশন রুম ও অডিও ভিডিও ডিসপ্লে। আরও রয়েছে দুস্থ রোগীদের জন্য সমাজ কল্যাণ সেবা সুবিধা।

এভাবেই সুদক্ষ মেধাবী ও সুযোগ্য উপ পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু রায়হান এর নেতৃত্বেই প্রতিদিন উন্নয়নের পথে একটু একটু করে হেঁটে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল হিসেবে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত হচ্ছে এই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল।

সর্বাধিক পঠিত খবর





বিষধর সাপ থেকে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস!




করোনার ওষুধ আবিষ্কার, বাজারে ছাড়ার অনুমতি