বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

English Version

করোনাভাইরাস: মা-মেয়ের যে মুহূর্ত দেখে কাঁদছে বিশ্ব (ভিডিও)

No icon স্পট লাইট

স্বাস্থ্য ডেস্ক- ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০: করোনা আতঙ্কে কাঁপছে চীন। সংস্পর্শেও মারণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা প্রবল। তা সত্ত্বেও দায়িত্ব থেকে পিছু হটার কথা ভাবতেও পারেন না এক নারী নার্স। কারণ, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই যে তার ব্রত অসুস্থকে সুস্থ করে তোলা। তাই আতঙ্ককে দূরে সরিয়ে করোনা আক্রান্তের সেবায় ব্রতী তিনি। দিনরাতের অধিকাংশ সময় যে কীভাবে কেটে যাচ্ছে, তা বুঝতেই পারছেন না। নাওয়া-খাওয়াও প্রায় ভুলতে বসেছেন।

এই পরিস্থিতিতে মেয়ের সঙ্গেও দূরত্ব বেড়েছে তার। করোনা যদি মেয়ের শরীরে বাসা বাঁধে, এই আতঙ্কে সন্তানের কাছে যাচ্ছেন না। হাজারও ব্যস্ততার মাঝে মেয়েকে কাছে না টেনে থাকতে পারতেন না যে মা, তিনি আজ হাসপাতালের চার দেওয়ালে বন্দি।

এত কাছে থেকেও ছুঁয়ে দেখতে পারছে না। মায়ের জন্য আনা খাবার যে হাতে তুলে দেবে সেই সুযোগও নেই। শুধু মাত্র কয়েক হাত দূর থেকে হাসপাতালে মাকে দেখে আসা ছাড়া, আর কোনও উপায় নেই মেয়ের। আলিঙ্গন তো দূরের কথা।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পর থেকে চীনের একাধিক শহরের নিয়মিত কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়েছে। বিধি-নিষেধ শুধু সেখানকার বাসিন্দাদেরই করা হয়নি। হাসপাতালে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের বাড়ি যাওয়া এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় চীনের ঝোকৌয়ের এক হাসপাতালে লি হাইয়ান নামে এক নার্সের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তার ছোট্ট মেয়ে। মেয়েকে কাছে পেয়েও বুকে টেনে নিতে পারেননি মা। মেয়েও মাকে এসে জড়িয়ে ধরতে পারেনি। ওই মুহূর্তের ভিডিও ক্যামেরা বন্দি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাচ্চাটি তার মাকে কাঁদতে কাঁদতে প্রশ্ন করছে কবে আবার সব আগের মতো হবে মা?

সে বলছে, ‘মা আমি তোমাকে অনেক মিস করছি।’

উত্তরে মা বলছেন, ‘আমি দৈত্যর (করোনা ভাইরাস) সঙ্গে লড়াই করছি। তাদের মেরেই আবার ফিরে আসবো। তখন বাড়ি ফিরে যাবো।’

একথা বলার পরই অঝোরে কাঁদতে থাকেন মা-মেয়ে। এরপর দূর থেকে আলিঙ্গনের ভঙ্গিমায় হাত বাড়ান মা। মেয়েও দেখে তাই করে। এরপর একটি বাটিতে খাবার রেখে চলে যায় মেয়ে। আর চোখের পানি মুছতে মুছতে খাবারের বাটি হাতে তুলে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে যান মা।

সর্বাধিক পঠিত খবর







মাত্র ৫শ টাকায় করোনা টেস্ট কিট