বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

English Version

শীতের পিঠা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি: শামসুন নাহার

No icon স্পট লাইট

সাইমুন ইসলাম: ২২ জানুয়ারী ২০১৮: আগুনের উত্তাপে বসে পিঠা খাওয়া-এক চিরায়ত বাঙালিয়ানা। ফুটপাতের পিঠা আমাদের স্বাদের যোগান দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা কি স্বাস্থ্যকর? সব বয়সী মানুষ কি তা খেতে পারবে?

এরকম কিছু প্রশ্ন নিয়ে আমারহেলথ ডটকম হাজির হয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিউট্রিশন বিভাগে। নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান শামসুন নাহার বলেন,

শীতের সঙ্গে শীতকালের তৈরী যে পিঠার সব চেয়ে বড় সম্পর্ক  হচ্ছে  শীতে আমাদের শরীরে অনেক এনার্জি,তাপের দরকার হয়। এবং শীতের  পিঠার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা অধিকাংশই মিষ্টি। তার মানে এগুলো সিম্পিল সুগার। খুব অল্পতেই অনেক বেশি এনার্জি দেয়, তাপ শক্তি দেয়।

শীতের সময়ে শীতের মিষ্টি পিঠাগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। এই পিঠা গুলোর স্বাস্থ্যকর দিকগুলো কি?

একই পিঠা ঘরে তৈরি এক রকম, কমার্শিয়ালী এক রকম আর একটা হচ্ছে একবারেই জাংক ফুড যাকে বলি আমরা, রাস্তার পাশে তৈরি হয় যে পিঠাগুলো। তিনটির ভিতর পুষ্টির অসম্ভব পার্থক্য রয়েছে।

প্রথমত ঘরেরটা হেলদি। কারণ সেখানে যে উপাদান যেমন যে তেল,গুড় ব্যবহার করা হয় তা হেলদি। কিন্তু বাজারের রাস্তার পাশে জাংক ফুড সেটাতে প্রতি মুহূর্তে ময়লা পড়ছে। তার উপর যিনি পিঠা তৈরি করছেন তিনিও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলছেন না। এই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার বাইরে রাখা হচ্ছে।

এবং একজন মানুষ যখন ঐ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার খাচ্ছে তার অ্যাবডোমিনাল পেইন হতে পারে, ভমিটিং হতে পারে, ডাইরিয়া হতে পারে এমনকি ডিসেনট্রি, আলসার হতে পারে।

এই দোকানের খাবার গুলোর সমস্যাটা হচ্ছে একটাই। তারা হয়তো অনেক ভালো পরিবেশে খাবারটা তৈরি করছে কিন্তু  সমস্যা হচ্ছে খাবারটার লন্জিভিটি  অর্থাৎ তারা এই খাবারটা দীর্ঘ সময় যেমন সকালে তৈরি করে দুপুর বিকাল  এমনকি রাত পর্যন্ত রাখতে পারে। এটি যেন ভালো থাকে তার জন্য যে প্রিজারভেটিভ রয়েছে তা অস্বাস্থ্যকর।

যেমন চিতই পিঠা বাইরে ফোলানোর জন্য, নরম করার জন্য খাওয়ার সোডা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ঘরে কখনো সোডা ব্যবহার করা হয় না। যাদের হাইপারটেনশন, কিডনীর সমস্যা আছে তাদের জন্য সোডা ক্ষতিকর।

একজন কিডনী রোগী হয়তো ভাবছেন আমিতো চালের গুড়ার খাবার খাচ্ছি, আমার তো সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু ঐ চিতই পিঠাতে যে খাওয়ার সোডা ব্যবহার করা হয়েছে, যে লবণ ব্যবহার করা হয়েছে সেটা তার জন্য খারাপ।

এইভাবে প্রত্যেকটা পিঠারই উপাদানের উপর নির্ভর করে তার সুস্থতা তার ভালো দিক তার খারাপ দিক।

সহজে পাওয়া যায় রাস্তার পাশেরটা। কিন্তু রাস্তার পাশে যারা তৈরি করছে তাদের মধ্যে যদি এই সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়  যেমন খাওয়ার সোডা ব্যবহার করা যাবে না, নিরাপদ পানি ব্যবহার করবে, তাহলে খাবার গুলোর যে ত্রুটি গুলো ছিলো তা ওভারকাম করতে পারা যায়।

দ্বিতীয়ত কমার্শিয়াল যে খাবার গুলো, তেলে ভাজা পিঠাগুলো এমনিতেই দীর্ঘ সময় থাকে তাতে আলাদা করে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করার দরকার নেই। এটা যদি আমরা নিশ্চিত  করাতে পারি তাহলে প্রত্যেকটা পিঠা আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর হবে।

বাসারটাতে আমরা খুব ভালো উপাদান ব্যবহার করি। যার কারনে   এই তিনটি অবস্থার মধ্যে যদি কেউ বাসায় তৈরি করতে পারেন সেইটা তার পরিবারের লোকদের জন্য ভালো। শীতে পিঠা খাওয়াও হলো, স্বাস্থ্যকরও হলো। কোনো রকম অসুখকে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং কোনো অসুখ থাকলে তার প্রকোপ এড়ানো সম্ভব।

একেকটা পিঠার উপাদানের উপর তার পুষ্টিগুণ নির্ভর করে।গুড় বা চিনি থাকলে তার ক্যালরী বেশী এবং তার এনার্জি ভ্যালু ও অনেক বেশী। তাপ উৎপন্ন হয় তাই বেশী শীতে খেলে ভালো লাগে। তেলে ভাজা পিঠারও এনার্জি ভ্যালু অনেক বেশী।

কিছু উপাদান আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যেমন তেলের দাম বেশী। অনেক পুরোনো তেলে যদি পিঠা ভাজা হয় তাহলে ঐ তেলে ভাজা পিঠা খেলে কার্ডিয়াক পেশেন্ট, ব্লাড প্রেসার, হার্টের অসুখ থাকলে, আলসার,অ্যাসিডিটি থাকলে তা আরো বাড়িয়ে দেয়।

শীতের পিঠায় নারকেলের ব্যবহার অনেক বেশী। নারকেল হচ্ছে সম্পৃক্ত ফ্যাট। কিন্তু নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে যারা এটা সহ্য করতে পারবেন না, যারা সব সময় খান না, যারা হঠাৎ করে খেতে চান একটু হিসাব করে খেতে হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত খবর


কিডনী ড্যামেজের লক্ষণ সমূহ

ডিনার দেরিতে করা মানেই ক্যান্সার!



বুকের ব্যথার কারণ সমূহ

জন্ডিসের কারণ ও প্রতিকার



পেটের চর্বি থেকে মুক্তির উপায়