মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭

English Version

ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে …

No icon হেলথ টিপস

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১৬ জুন ২০১৭: ফলের রাজা আম খেতে পছন্দ করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়াই ভার। নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার গুণে সুস্বাদু এই ফলটি কিন্তু আমাদের সকলেরই প্রিয়। তবে শুধু আম নয়, এর পাতাও কিন্তু সমান উপকারী। এতে ভিটামিন সি, এ ও বি, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ প্রভৃতি নানা উপাদান রয়েছে।

আসুন আজ জেনে নেই ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে আম ও আম পাতা কী ভূমিকা রাখে ?

আম পাতার গুণাগুণ: আম পাতা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে এক চমৎকার ওষুধ। কচি আম পাতায় ট্যানিনস নামক অ্যান্থোসায়ানিডিন থাকে, যা ডায়াবেটিকের প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া কমাতে সাহায্য করে আম পাতা। তাই নিয়মিত এটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কচি আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো রাখতে পারেন। আবার গরম পানিতে সেদ্ধ করে চায়ের মতো পান করতে পারেন অথবা তাজা পাতা পানিতে ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে সকালে এ পানি ছেঁকে নিয়ে এ পানি পান করতে পারেন।

ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আম পাতার আছে আরও বিশেষ কিছু গুণ। আমপাতা রক্তচাপ কমাতে সাহাস্য করে। আম পাতার চা পান করলে সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমতে সাহায্য করে। এছাড়া আম পাতার আছে পোড়া ক্ষত নিরাময়ের আশ্চর্য ক্ষমতা।

আম পাতা গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া যারা অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে সকালে পান করলে কিডনির শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

ডায়াবেটিক রোগীরা আম কম খান: আম এমন একটি ফল যা কম-বেশি সবারই প্রিয়, কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় তাই বেশি আম খেলে যাদের ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।

চিকিৎসকরা বলেছেন, পাকা আমে রয়েছে নানা ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। আবার রয়েছে উচ্চমাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেড ও গ্লাইসেমিক। তাছাড়া পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয় উপাদান থাকার কারণে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আর এখন বাজারে নানান ধরনের আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েও কারো সন্দেহ নেই। কিন্তু আম পাতাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি যা আনেকেই জানেন না। আম পাতা ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর।

এবার জেনে নিন আম পাতার নানা ওষুধি গুণ সম্পর্কে-

উচ্চ রক্তচাপ কমায়: উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে আম পাতা। এতে হাইপোট্যান্সিভ নামে এমন এক উপাদান রয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে নিয়মিত আম পাতার চা পান করলে পরিবর্তনটা নিজেই টের পাবেন।

ক্লান্তি দূর করে: উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কারণে যারা ঘুমাতে পারেন না, তাদের জন্য ভালো ঘরোয়া ওষুধ এই আমপাতা। এজন্য গোসলের আগে কয়েকটি আম পাতা পানিতে দিয়ে রাখুন। দেখবেন গোসলের পর শরীর কেমন শান্ত এবং সতেজ হবে।

উদ্বিগ্নতা কমায়: আম পাতা ভেজানো পানি ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে খেলে শান্ত বা স্থির হতে সাহায্য করে। যেহেতু আম পাতায় রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে তাই এটি উদ্বিগ্নতা দূর করতেও খুব ভালো কাজ করে।

কিডনি ও পিত্তথলির পাথর দূর করে: আম পাতার চা কিডনি ও পিত্তথলির পাথর ভাঙ্গতে ও তা দেহ থেকে বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। পাথর অপসারণের জন্য এক গ্লাস পানিতে আম পাতা চূর্ণ মিশিয়ে পান করুন।

মাড়ির সমস্যায়: আম পাতার ছাই দাঁত ব্যথা কমতে সাহায্য করে। আম পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

শ্বাসকষ্ট দূর হয়: ঠাণ্ডা, হাঁপানি ও অ্যাজমায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্যও আম পাতা উপকারী। আমপাতা ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে মধু যুক্ত করে খেলে কাশি দূর হয়।

ডায়রিয়া ঠেকায়: রক্ত আমাশয় ঠেকাতে আম পাতার জুরি মেলা ভার। এ পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিনে দু-তিনবার খেলে ডায়রিয়া দূর হয়।

আঁচিল নিরাময়ে: আঁচিল নিরাময়ে পরিপক্ক আম পাতা পুড়িয়ে কালো করে গুঁড়া করে নিন। এতে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্টের মত তৈরি করে আঁচিলের উপরে লাগালে আঁচিল দূর হবে। আঘাত প্রাপ্ত স্থানে রক্ত বন্ধ করার জন্যও এই পেস্ট ব্যবহার করা যায়। এছাড়া পোড়া ক্ষত সারাতে আম পাতা পোড়ানো ছাই ক্ষততে লাগালে ত্বকে স্বস্তি মেলে।

পেটের জন্য ভালো: গরম পানিতে কয়েকটি আম পাতা ছেড়ে দিয়ে সারারাত ঢেকে রাখুন। সকালে ওই পানি ছেঁকে পান করুন কয়েক দিন। এতে পেট পরিষ্কার হবে।

সতর্কতা: বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করলেও আম পাতার চায়ে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। পাতায় আম গাছের আঠা বা কষ আছে কিনা তাও দেখে নিন। তা না হলে এই কষ শরীরে প্রবেশ করলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার এই কষ ত্বকে লাগলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হন এবং ক্ষতির হাত থেকে বাঁচুন।

 

সর্বাধিক পঠিত খবর



দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নীরব বিপ্লব হয়েছে-

লিভারে চর্বি কমানোর উপায়

আপনি কিডনি রোগে আক্রান্ত নয় তো?


হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে জেনে নিন

কিভাবে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?