শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

English Version

ডিএনএমসি হাঁটা দিবস- ৭ সেপ্টেম্বর

No icon লেখালেখি

ডা. বিমল কুমার আগরওয়ালা।। ৭ সেপ্টেম্বর ‘‘ডিএনএমসি হাঁটা দিবস”। হাঁটার সাথে মানবদেহের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। হাঁটা বিনা দেহ মনের সুস্থতাযেন অচিন্তনীয়। তাইতো সভ্যতার সূচনা লগ্ন হতেই স্বাস্থ্য প্রেমীগন গভীরভাবে অনুভব করেছেন হাঁটার গুরুত্ব। প্রাত: ভ্রমনের প্রথা যেন এহেন মনোভাব থেকেই সৃষ্ট।

হয়তো জিঘাংসু মন জানতে চাইবে তাহলে হাঁটা নিয়ে আজ নতুন করে বলা কেন? হ্যাঁ, হাঁটার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ এজন্যই করতে হচ্ছে যে, আধুনিক নগরায়ণ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা কিংবা উদাসীনতার কারণে হাঁটার মতো উত্তম ব্যায়াম হতে আমরা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছি। অব্যাহত নগরায়ণের ফলে একদিকে মানুষের দৈহিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, অপর দিকে আমাদের জীবনযাত্রায় আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাবের কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতা অর্জন করার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ পাচ্ছে।

শিশুদের কথাই ধরুন। এদের জন্য বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে শহরে, না আছে খেলাধূলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ, বিকালেও না পাচ্ছে এরা খোলামেলা কোনো জায়গা। চারদিকে যেন ইট পাথরে তৈরি বিশাল বিশাল অট্টালিকা। পরিণামে এসব কোমলমতি শিশুদের অবসর সময় কাটছে হয় টিভি বা কম্পিউটারে কিংবা বসে-শুয়ে। ফলে এদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হচ্ছে না যথাযথভাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিশুদের পাঠ-দান কর্মসূচিও বেশ জটিল প্রকৃতির। বই, খাতা ও কলমের বাইরে স্বাস্থ্য বিষয়ে এদের ভাবার কোনো অবকাশই যেন নেই। স্কুল ও কোচিংয়েই চলে যায় দিনের অধিকাংশ সময় যার প্রভাব পড়ছে মায়েদের ওপর। শিশুদের জন্য ছুটাছুটি করতে একদিকে তারা যেমন বাধ্য হচ্ছেন, অপর দিকে বাড়ীতেও সন্তানদের জন্য সময় দিতে হচ্ছে তাদের হোমওয়ার্ক পাঠদানে। স্বাভাবিকভাবেই মা ও শিশুরা স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিণামে ক্রমশ বাড়ছে নানান রোগ।

সুতরাং “রোগ প্রতিকার নয়, বরং প্রতিরোধই শ্রেয়”-এ কথাটি সকলের মনে গেথে দেয়ার লক্ষ্যেই ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আমরা প্রবর্তন করি “ডিএনএমসি হাঁটা দিবস” যাতে হাঁটার গুরুত্ব সম্পর্কে সকলকে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের সচেতন করা যায়।

হাঁটা এমনি একটি মহৎ কাজ যার মাধ্যমে আমরা প্রকৃতির কাছে যেতে পারি। প্রকৃতি যেন মায়ের মতো। প্রকৃতির সাথে আমাদের জীবনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম নিয়ামক হলো ‘শরীরচর্চা’ যার মধ্যে ‘হাঁটা’ অন্যতম। হাঁটা অনেক রোগের প্রাকৃতিক ঔষুধ।

কীভাবে হাঁটবেন:

হাঁটার উপকারিতা পেতে ধীরে নয়, বরং একটু দ্রুত হাঁটা উচিত। দ্রুত হাঁটা শুরু করার পূর্বে ধীরে হাঁটার অভ্যাস করতে হয়। অর্থাৎ প্রথম প্রথম স্বাচ্ছন্দে যতোটা হাঁটা যায়, ততোটাই। তারপর কয়েক দিন পর পর বাড়াতে হয় হাঁটার গতি ও সময়। পরিশ্রান্ত শরীরকে আরামপ্রদ করতে হাঁটা শেষে শবাসন ও ডিপ ব্রিথিং এক্সারসাইজ করা ভালো।

কখন হাঁটবেন:

দিনের যে কোনো সময় হাঁটা যায়। সকালে হাঁটার সুবিধা বেশি। এ সময় প্রকৃতি নীরব থাকে। হাঁটতে ভালো লাগে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় কোনো ক্লান্তি আসে না। মনত্ত প্রফুল্ল থাকে। সর্বোপরি গাছের বিশুদ্ধ অক্সিজেন অধিক পাওয়া যায়। শীতকালেও শীত অধিক না হলে সকালে হাঁটাই ভালো। হাঁটতে গিয়ে অসুস্থবোধ হলে ওই দিন আর না হেঁটে বিশ্রাম নেয়াই ভালো। হাঁটা উচিত কাপড়ের জুতা কিংবা নরম কেডস পায়ে দিয়ে। খালি পায়ে নয়।

কতক্ষণ হাঁটবেন:

নিজের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট।

হাঁটার উপকারিতা:

হাঁটলে নানাবিধ সুফল পাওয়া যায়। যেমন--

  • ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নি:সরণ যথাযথ হয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়।
  • হাড়গুলো থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হওয়া কমে যায় এবং হাঁড় সবল থাকে। ফলে বয়সজনিত বাত-ব্যাথা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এজন্য ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর মহিলাদের অবশ্যই হাঁটা উচিত।
  • মাংসপেশীর জড়তা দূর হয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। ফলে মাংসপেশী শক্তিশালী হয়।
  • রক্তে চর্বি ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।
  • হৃদপিন্ড ও ফুসফুসের কার্যাবলী যথাযথ হয়।
  • মানসিক চাপ কমে।
  • স্ট্যামিনা অর্থাৎ পরিশ্রম সহ্য করার শক্তি বেড়ে যায়।
  • ঘুম ভালো হয়।
  • আত্মবিশ্বাস জন্মায়।
  • চেহারায় বয়সের প্রভাব কমানো যায়। ৬০ বছর বয়সেও নিজেকে ৪০ বয়সের মতো সজীব মনে হয়।
  • দেহের কোষসমূহের শ্বসন অঙ্গানুর সংখ্যা বেড়ে যায় যেগুলো হলো জীবকোষের শক্তি উৎপাদক কেন্দ্র।

রোগ প্রতিরোধে হাঁটা:

নিয়মমতো হাঁটলে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতেও সহায়ক হয়। যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ট্রোক, বন্ধ্যাত্ব, হাইপারলিপিডেমিয়া, ও জনাধিক্য, মনোরোগ, ধূমপান ও মাদকাশক্তির প্রবণতা, বয়স জনিত বাত-ব্যাথা ইত্যাদি।

রোগ চিকিৎসায় হাঁটা:

যেসব রোগে হাঁটা আবশ্যক সেসব রোগ হচ্ছে: ডায়াবেটিস, মেদবাহুল্য, উচ্চ রক্তচাপ, পলিসিস্টিক ওভারি সিনডেধাম, অস্টিওর্থাইটিস, এনকোলাইজিং স্পোনডাইলাইটিস, ফাইবেধামায়ালজিয়া, পেরিফেরাল আরটারিয়াল ডিজিজ ইত্যাদি।

উপসংহারে বলা যায়, নিয়মমতো হাঁটলে বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কল্যাণ হয় সমাজ তথা রাষ্ট্রের। কারণ সুস্থসমাজই সুস্থ রাষ্ট্রের পরিচালক। ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও এগিয়ে যায় দেশ।

 

লেখক: ডা. বিমল কুমার আগরওয়ালা, সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

 

সর্বাধিক পঠিত খবর



ডায়াবেটিস হবে না যা করলে

শরীরের হাড় ক্ষয় করে যেসব খাবার

শরীরের চুলকানি দূর করার উপায়


শরীরের হাড় ক্ষয় করে যেসব খাবার

বুকে কফ? দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে