মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

English Version

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের অর্জন

No icon লেখালেখি

ডা. অপূর্ব পন্ডিত ।।

সরকার এর পাশাপাশি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় রুপান্তর করার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রায় সকল ধরণের স্বাস্থ্য-পুষ্টি সেবা এখন মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে, ডিসি অফিসের অধিনে ই-সার্ভিসের মাধ্যমে, ১৪৭ টি উপজেলার অধিনে ই-সেন্টার এবং গ্রাম্য পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। এছাড়াও ২২৪ টি কৃষি তথ্য কেন্দ্রের ই-সেন্টারের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে  স্বাস্থ্যসেবা।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে—

সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ:

ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস), ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে উপজেলা পর্যায়ে সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ( ৮০০ জায়গায়) সর্বপ্রথম ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে যা এখনো চলমান।  

ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা:

এমআইএস-হেলথ, ডিজিটাল ট্রেইনিং সুবিধা প্রদান করছে যা সারাদেশে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

বাল্ক এসএমএস এর মাধ্যমে জরুরী বার্তা প্রদান:

নতুন প্রবর্তিত বাল্ক এসএমএস পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিকট দ্রুত জরুরী বার্তা প্রদান করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী যেমন: কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার, হেলথ এসিস্ট্যান্ট, এসিস্ট্যান্ট হেলথ ইন্সপেক্টর, হেলথ ইন্সপেক্টর, স্বাস্থ্য কল্যাণ কর্মী, পরিবার পরিকল্পনা ইন্সপেক্টরদের মোবাইল ফোন নম্বার ইন্টারনেটে দেয়া আছে।

অনলাইন হেলথ বুলেটিন:

স্থানীয় স্বাস্থ্য বুলেটিন তৈরীর লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধিনে প্রতিটি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১২ সালে এমআইএস একটি ডাটা বেইজ নির্মাণ করেছে। এটি খুবই সাধারণ এবং সকলের জন্য ব্যবহার উপযোগী।

ডিএইচআইএইচ-হেলথ ডাটা:

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহের নিয়মিত স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ডিস্ট্রিকট হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম (ডিএইচআইএইচ, ভারসন- ২) নামে এমআইএস- ডিজিএইচএস চালু করেছে একটি ইন্টারনেট নির্ভর তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি।

এসএমএস এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য জরিপ:

মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়ন কর্মী, স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপক, পরিকল্পনাবিদ, নীতিনির্ধারণী ব্যাক্তি, সাংবাদিক এবং অন্যান্য পেশাজীবি সংগঠনের যে কোন সময় স্বাস্থ্য জরিপের প্রয়োজন হতে পারে। সকলে যাতে খুব সহজেই এসএমএস এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক যে কোন তথ্য পেতে পারেন সে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনলাইনে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট:

পছন্দের চিকিৎসককে দেখানোর জন্য বেশ কিছু অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিক ওয়েবসাইট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে রোগি পছন্দের চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন অনলাইনে। এ বিষয়ে ডক্টরোলা ডটকম উল্লেখযোগ্য।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি:

রোগিরা মোবাইলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন সিমেড, আরএক্স৭১ ইত্যাদি সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান থেকে। এ স্বাস্থ্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মূলত: প্রতিরোগমূলক স্বাস্থ্য সেবার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।

জরুরী স্বাস্থ্যসেবা:

বেশ কিছু সেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে কতিপয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এসএমএস এবং মোবাইল এলার্টের তথ্যে, তাদের কর্মীরা জরুরী ভিত্তিতে যে কোন দুর্ঘটনার শিকার মানুষকে স্বল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের নিকট পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। ক্রিটিকালিংক এ ধরণের একটি উল্লেখযোগ্য জরুরী স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

মানসিক এবং নারী স্বাস্থ্য:

সামাজিক, মানসিক, স্বাস্থ্য এবং আইনি বিষয়ে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা প্রদান করছে বেশ ক’টি প্রতিষ্ঠান। এমনি একটি প্রতিষ্ঠান মায়া আপা। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার ব্যাপারে এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে  নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে প্রশ্ন করা যায় ২৪ ঘণ্টা।

 সমন্বিত স্বাস্থ্য সেবা:

মাসিক একটি নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে স্বাস্থ্য সেবা, ফোনে পরামর্শ সেবা, অ্যাপয়েন্টম্যান্ট বুকিং এবং ইনস্যুরেন্স সুবিধাসহ নানা সেবা প্রদান করছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। টেলিনর হেলথ কর্তৃক পরিচালিত ‘টনিক’ এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। রয়েছে আমারহেলথ ডটকমের অামারচেম্বারের সমন্বিত সেবা।

স্বাস্থ্য সেবায়- জিআইএস:

বাংলাদেশে বর্তমানে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম তথা জিআইএস এর ব্যাবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ  জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যায় কোথায় প্রয়োজনীয় কি কি স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে।

অনলাইন জনসংখ্যা স্বাস্থ্য রেজিস্ট্রি:

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্যের একটি স্থায়ী অনলাইন রেজিস্ট্রির কাজ অনেকটা সম্পন্ন হওয়ার পথে। কম্পিউটারে তথ্য সংযোজনের জন্য এতে ইন্টেলিজ্যান্ট ক্যারেক্টার রিকগনিশন (আইসিআর) নামক একটি  উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে । এটি ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ডেশ বোর্ডের মাধ্যমে অতি সহজে জনসংখ্যাতত্ত্ব, জন্ম-মৃত্যু হার এবং রোগ সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করবে।

অফিসে উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি:

বায়োমেট্রিক আঙুল প্রিন্ট সনাক্তকরণের মাধ্যমে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি চালু করেছে। যদি এটিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়, তাহলে আশা করা যাচ্ছে অফিসে উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ আগের চেয়ে আরো জোরদার হবে।

গর্ভবতী সেবা পরার্শ:

এমআইএস পরিচালিত মোবাইল ফোন নির্ভর গর্ভবতী পরামর্শ সেবা কেন্দ্রে এসএমএসের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোন সন্তান সম্ভবা নারী উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা ডিনেট কর্তৃক পরিচালিত আপনজন থেকেও পরামর্শ সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এ সেবা পেতে তাকে শুধু এখানে একটি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

এসএমএসের মাধ্যমে অভিযোগ-পরামর্শ:

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যাক্তিদের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার জন্য কমপ্লেইন্ট-সাজেশন্স সেবা চালু করা হয়েছে। যে কোন রোগি, রোগির আত্মীয় স্বাজন বা হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা ব্যাক্তিরা এখানে এসএমএসের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারবেন। সেই সাথে সু-পরামর্শের ও ব্যাস্থা রাখা আছে এখানে।  

টেলিমেডিসিন সেবা:

জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের ভর্তি রোগিরা বিশেষায়িত হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ বা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এ ক্ষেত্রে ওয়েব ক্যামেরা ব্যাবহারের মাধ্যমেও সরাসারি ডাক্তারকে দেখাতে পারছেন। টেলিমেডিসিন সেবা ইউনিয়ন তথ্য এবং সেবা কেন্দ্র তথা ইউআইএসসি কর্তৃক পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য সেবা। দেশে প্রতি ৬ হাজার লোকের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সর্বমোট ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে যেখানে টেলিমেডিসিন সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও জিয়ন বাংলাদেশ লি:, ভালো থাকুন এবং ফার্মা ৭১- টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করছে।

মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা:

নাগরিকরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়োজিত চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে একটি করে মোবাইল ফোন সরবরাহ করা হয়েছে যেখানে ডাক্তারগণ ২৪ ঘন্টা ফোনে রোগিদের সেবা দিচ্ছেন।

লেখক: সম্পাদক, আমারহেলথ ডটকম।

 

সর্বাধিক পঠিত খবর

পিসিওএস ও বন্ধ্যাত্ব

মানসিক চাপ দূর হবে এক টুকরো বরফে!


রক্তচোষা জোঁকের লালায় ক্যানসার মুক্তি!





এবার ওষুধ ছাড়াই দূর হবে মাইগ্রেন !

মনের রোগে দেশের দুই কোটি মানুষ: জরিপ