google-site-verification=pleBAPcUT-HwHq3xSe6nAu868BfTgpgJAuvqe5HWCsM

বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

English Version

আল্ট্রাসনোলজি প্রকৃত রোগ নির্ণয়ে অনন্য: ডা. গুলশান আক্তার

No icon লেখালেখি

আল্ট্রাসনোলজি​ প্রকৃত রোগ নির্ণয়ে অনন্য

ডা. গুলশান  আক্তার

_______________________

প্রযুক্তির এ স্বর্নযুগে উন্নত দেশের মানুষ যখন উদ্যম গতিতে মহাবিশ্ব আবিষ্কারের নেশায় উড়ে চলছে, তখন থেমে নেই চিকিৎসা শাস্ত্রও। দুর্বার গতিতে আর সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছে আমাদের আবিষ্কার। কিন্তু সব আবিষ্কার তো আর সমানভাবে তাল মিলিয়ে তার যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ জ্বালতে পারে না; যেমন এক মহাবিপ্লব ঘটেছে আল্ট্রাসাউন্ড আবিষকারের ক্ষেত্রে!

আজকের যুগে উন্নত বা অননুন্নত যেকোন দেশেই হোক, হোক গ্রামে কিংবা শহরে, যেকোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা বলতে একজন চিকিৎসকের কলমের ডগায় সর্বপ্রথম যে নামটি চলে আসে তা হলো আল্টাসনোগ্রাফী।

এর মানে এই নয় যে চিকিত্সকরা তাদের জেনারেল ফিজিক্যাল এক্সামিনেশের মাধ্যমে রোগ নির্নয় ক্ষমতা হারিয়ে পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পডছে। একজন চিকিৎসকের কাজ হলো তার রোগীর রোগ নির্নয় করে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করে রোগীদের সুস্থ করে তোলা। আর এ জন্য চিকিৎসকদের নিতে হয় নানাবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষার আশ্রয়, এর একমাত্র কারন হলো “Better Safe than Sorry” আমরা জানি আমাদের আপামর জনগনের আর্থিক অবস্থা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা অনেক রোগীর বিনা চিকিৎসায় করুন অকাল মৃত্যুর কথাও; যা সত্যিই বড় বেদনাদায়ক!

সবকিছু বিবেচনায় এনে একজন চিকিৎসককে তাই হতে হয় অদুরদর্শী। তাই তাঁরা হাতে তুলে নেন পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজ আর কলম, আর একজন চিকিৎসকের কাছে রোগ নির্নয় পরীক্ষা বলতে যা সর্বপ্রথম তাঁর কলমের ডগায় উকি দেয় তা হলো আল্ট্রাসাউল্ড।

এর অনেকগুলি কারনও রয়েছে আর তা হলো:

১) আল্ট্রাসাউন্ড এর যাদুকরী রোগ নির্নয় ক্ষমতা

২) আল্ট্রাসাউন্ড মডালিটির সহজলভ্যতা

৩) আল্ট্রাসাউন্ড এ ক্ষতিকারক কোন রন্জন রশ্মি নেই

৪) আল্ট্রাসাউন্ড মনিটরে রোগীর রোগের কন্ডিশন বা অন্তস্বত্তা মায়ের শিশুর অবস্থান সরাসরি পর্যবেক্ষন, যেখানে রিপোর্ট এর জন্য সময় নষ্ট না হওয়া।

৫) আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা তুলনামূলক ভাবে অনেক সস্তা

৬) পরীক্ষা পরবর্তী কোন ক্ষতি বা ঝুঁকির সমুক্ষীন না হওয়া

৭) আধুনিক চিকিৎসা পেশায় আল্ট্রাসাউন্ডকে ইমার্জেন্সী বিভাগের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

উপরের আলোচনা থেকে এটাই ধরে নেওয়া যায় যে আল্ট্রাসাউন্ড ছাড়া আজকের চিকিৎসা শাস্ত্র প্রায় অচল।

এখন জানা যাক আল্ট্রাসাউন্ড এর রোগ নির্নয় করার এক অশেষ তালিকা সম্বন্ধে:

১) পেটের যাবতীয় রোগ নির্নয়, তা হতে পারে কোন ক্রনিক রোগ অথবা একিউট জীবনঘাতি রোগ। লিভার, কিডনি, প্যানক্রিয়াস, গলব্লাডার, বাইলডাক্ট অথবা গ্রেট ভেসেলএর কোন রোগ নির্নয়ে আল্ট্রাউন্ড রীতিমত অন্যান্য ব্যয়বহুল মডালিটিকেও হার মানিয়েছে।

২) একিউট এপেনডিসাইটিস, একিউট স্ট্রাংগুলেটেট হার্নিয়া, একিউট কোলিসিস্টাইটিস, অ্যাবডোনিনাল এওরটিক এনুরিজম, একিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস, এমনি অনেক এবডোমিনাল কারন।

৩) পুরুষ কিংবা মহিলাদের বিভিন্ন রকম পেলভিক রোগ।

৪) গর্ভবতী মায়েদের শিশুর বৃদ্ধি, বিকাশ, অবস্থান, গর্ভফুলের অবস্থান, পানির পরিমান থেকে শুরু করে শিশুর নানা বিকলাংগতা সবই আল্ট্রাসাউন্ড এর মাধ্যমে নির্নয় করা যায়।

৫) মাসল, টেন্ডন, লিগামেন্ট, নার্ভ ইনজুরি নির্নয় আল্ট্রাসাউন্ড যুগের এক ভুবনজয়ী অবিষ্কার!!!

৬) হৃদপিন্ড, রক্তনালী ও লিম্ফনোডের রোগ নির্নয় এনে দিয়েছে একিউট হার্ট এটাক, পালমোনারী এম্বোলিসম কিংবা লিম্ফনোড ক্যানসারের মতো রোগের সুষ্ঠ চিকিৎসার নিশ্চয়তা।

৭) ব্রেইন ইনজুরি, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, এদের নানাবিধ রোগ নির্নয়, শিশুদের নানারকম কলজেনিটাল বিকলাংগতা নির্নয়ে আল্ট্রাসাউন্ডের অবদান অস্বীকার্য।

এমনি অনেক, অনেক এবং অনেক বড় তালিকার এক আশ্চর্য যাদুর কাঠি হিসেবেই ব্যাবহার করা যেতে পারে আল্ট্রাসাউন্ডকে; কিন্তু তা যদি পড়ে সঠিকভাবে পরিচালনাকারী কোন যাদুকরের হাতে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাইলে, আমাদের চিকিৎসা অনুষদেও তাদের মত যুগান্তকারী সংযোজন করতে চাইলে, সর্বোপরি আমাদের আপামর জনতাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করে তাদের এক বিশাল অংশকে বিদেশমুখী হওয়ার হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে, আমাদের চিকিৎসক সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।

পৃথিবীর সামনের সারির দেশগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ডকে সম্পুর্ন একটি আলাদা ডিপার্টনেন্ট, স্পেশালাইজড একটি ফ্যাকাল্টি হিসেবে বিবেচনা করে তার যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হয়, এটা সম্পূর্নই একটা রেগুলেটরী বিভাগ এবং যেহেতু এসব দেশে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে মেডিকেল রেকর্ড প্রিজার্ভ করা হয়, যা যেকোন সময় রিভিউ/অডিটযোগ্য তাই ভুল রিপোর্ট প্রদান করার পরবর্তী শাস্তির ভয়ে কিংবা হিপোক্রটিস্ এর ওথকে রক্ষা করে আত্ন সম্মান ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর। সবচেয়ে আশ্চর্য ও মজার বিষয় হলো যারা দেশে থাকতে সামিল ছিলো ওইসব কিছু নিয়ম ভাংগার দলে, এসব দেশে এসে তারাও ঢুকে গিয়েছে একই ছাতার তলে। Cuz we all know that “Law is Respected” এবং এসব দেশে সবাইকে তা মেনে চলতে হয়। এটা আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের সাথে সাথ আমাদের দেশের জন্য এক বড় সম্মান।

আমাদের লিমিটেড রিসোর্স এর কারনে ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড কিপিং করা হয়তো সম্ভব হয়ে উঠবে না কিন্তু রেন্ডম ক্রস চেক করার ব্যাবস্থা তো করা উচিত।

মোদ্দা কথা আল্ট্রাসাউন্ড কে অন্যকোন ফ্যাকাল্টির ছোট্ট একটি লেজ হিসেবে না রেখে একটি পরিপূর্ন বিভাগ হিসাবে গন্য করলে এবং একে চাহিদা মোতাবেক ডেভেলপ ও মনিটরিং করতে পারলে সঠিক রোগ নির্নয়ের মাধ্যমে আমাদের রোগীর বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবনতা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারব কারন যাঁরা পার্শ্ববর্তী দেশ গুলিতে চিকিৎসা নিতে যান তাঁদের সিংহভাগেরই অভিযোগ” বাংলাদেশের চিকিৎসকরা রোগনির্নয় করতে সক্ষম নন” কিছু অংশ যান ক্যান্সার এক চিকিৎসা করাতে।

আল্ট্রাসাউন্ডকে আরো উন্নত ও গ্রহনযোগ্য করে তুলতে এবং সার্কভুক্ত দেশগুলির কাছে আমাদের দেশকে “রোল মডেল”

হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলে আমাদের উচিত সমন্বিত ভাবে এগিয়ে আসা এবং সকলের অভিজ্ঞতাকে যতটুকু ভাবে পারা যায় শেয়ার করা। নতুন নতুন প্রযুক্তির সম্নবয় ঘটানো।

জনসংখ্যা বিষ্ফোরন ঠেকাতে পরিবার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাসিক নিয়মিতকরন এর নামে অনেক সুস্থ্য

শিশুর অকাল নিপাত আর সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় এর অভাবে “Down syndrome, Edward’s diseases or Patau syndrome” এর মত ভয়াবহ রোগগসমাহারে জর্জরিত শিশুর আগমনে ফেলছি গভীর দীর্ঘশ্বাস!

বাংলাদেশে বর্তমানে শুধুমাত্র Down syndrome এর রোগীর সংখ্যা ২০০,০০০. কারন ডাউন সিন্ড্রোমের রেট ১:৮০০ প্রেগনান্সী । Pretty much Alarming for our total budget for health sector!

এরপরেও আমরা জানিনা যে আরো কত শিশু বা এডাল্ট রোগীবহন করছে

Silent Translated Down syndrome or mosaic Down syndrome.

Edward’s diseases or Patau syndrome এর পরিসংখান আমাদের জানা নেই।

But;

The American College Of Obstetricians and Gynecologists recommends that all pregnant women regardless of age be offered screening for Down syndrome.

Screening for Down syndrome comprises of blood lab markers from maternal or placental blood and by an ultrasound of Nuchal Translucency (NT) to check NT, NB an few supplementary images from respected organs between 11w6d to 13w6d within a range of millimetres of CRL.

If a fetus is diagnosed with Down syndrome or with an associated disease the parents will have the liberty to think about it and make an informed choice whether to keep the baby or would go for

a therapeutic abortion! If they choose to welcome the baby they will be well prepared with proper arrangement of a team of Pediatric surgeon, Pediatric cardiologist if they could afford or find proper government assistance!

আমরা লিভার ফাইব্রোস্কান, Transient Elastography or Shear Wave Elastography কেও আরো available করতে পারি। সারাবিশ্বে এখন ৫০০ মিলিয়ন এরও বেশী ক্রনিক লিভার ডিজিজের রোগী আছে যাদের সিংহভাগই আবার আমাদের এশিয়া অন্চলের।লিভার ফাইব্রোস্কান প্রিক্যানসারাস স্ট্যাটাস থেকে লিভার ক্যান্সার এবং আরলি ফাইব্রোসিস থেকে লিভার সিরোসিস পর্যন্ত নির্নয় করে হতে লিভার ডিজিজ/সিরোসিস/ক্যান্সার নির্নয়ের গোল্ড স্টান্ডার্ড লিভার বায়োপসির সাবস্টিটিউট পর্যন্ত। লিভার বায়োপসি যে ব্যয়বহুল, ইনভেসিব, পেইনফুল এবং সহজলভ্য তো নয়ই এটাও আমাদের সবার জানা, এক্ষেত্রে ফাইব্রোস্কান এর সহজলভ্যতা লিভার ডিজিজের রোগীদের জন্য এনে দিতে পারে এক আলো ঝলমলে আশার সকাল!!

তাই এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এর অগ্রযাত্রার আলোর মিছিলের মশালটাই হলো “আল্ট্রাসাউন্ড”

আল্ট্রাসাউন্ডকে একটি সম্পূর্ন বিভাগ হিসেবে গন্য করে এটাকে বি এস এম এম ইউ ও বিএমডিসির আওতাভুক্ত করা এখন সময়ের ও আমাদের সকল সনোলজিষ্টদের হৃদয়ের দাবী!

 

লেখকঃ

ডা. গুলশান আক্তার

সনোলজিস্ট,

এমডি- কানাডিয়ান ইন্সটিটিউট ফর এডভান্সড এডুকেশান - বিডি,

প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও,

পিয়ারলেস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট- কানাডা।

সর্বাধিক পঠিত খবর








করোনায় আক্রান্ত অভিনেতা অপূর্ব