বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭

English Version

কোন এক হাসপাতালের বদলে যাওয়ার গল্প …

No icon লেখালেখি

শেখ অনিন্দ্য মিন্টু, ১৫ জুলাই, ২০১৬: মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এ কথা আজ যেনো কথার কথা, অনেকটাই ভিত্তিহীন! সত্যি কি তাই?

জগতে কিছু মানুষ থেকেই যায়। যারা খুব প্রচার বিমুখ। যারা চান নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে। যারা বিনিময়ে চান না কিছুই। শত বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে অবিচল গতিতে এগিয়ে চলেন নিজ মহিমায়। তাদেরই একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক- ব্রিগ্রেডিয়ার নাছির উদ্দীন আহমদ।

এই মানুষটি অল্পদিনেই এই হাসপাতালের কিছু শুভবুদ্ধি সম্পন্ন চিকিৎসক, কর্মকতা, কর্মচারীর সহযোগিতা নিয়ে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন হাসপাতালের সার্বিক কর্মকান্ডের।

চিকিৎসা প্রদানে অকেজো যন্ত্রপাতি সারিয়ে তুলেছেন। কিনেছেন অনেক নতুন যন্ত্রপাতি। দ্রুত সঠিক রোগ নিরূপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। হৃদরোগীদের জন্য ক্যাথল্যাব স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের বিদ্যামান অস্বাস্থ্যকর-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাল্টে দিয়ে ঝকঝকে তকতকে করে তুলেছেন হাসপাতালের চারপাশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য চালু করেছেন বাধ্যতামূলক আইডি কার্ড পরিধান ও ড্রেসকোড। উন্নত হয়েছে রোগীর খাদ্যমান। পূর্বে যেসব খাতে দুর্নীতি-অনিয়ম ছিলো, বিভিন্ন খাতে ব্যায়ভার বেশী ছিলো- এই মানুষটিই দক্ষ হাতে, পরিকল্পিতভাবে এসব দমন করেছেন। কমিয়ে এনেছেন বিভিন্ন কর্মখাতের সামগ্রিক ব্যয়। সরকার প্রদত্ত শতভাগ ওষধ বিনামূল্যে যথাযতভাবে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালে ঢুকলেই এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র চোখে পড়বে।

এরপরও হাসপাতালে কিছু সমস্যা রয়েই গেছে। যেগুলো সারানোর জন্য তিনি আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের মতে, তিনি একজন চেঞ্জমেকার, উন্নয়নের রূপকার।

বিগত দিনে হাসপাতালের পরিবেশ, সেবাদানের অবকাঠামো এতটাই পিছিয়ে পড়েছিলো যে, ২০০০ সাল থেকে, ২০১৫ অবধি সেবাদানে মানসম্মত হাসপাতালের তালিকায় এই হাসপাতালটি দেশের ১০ নম্বর অবস্থানেও ছিলো না। মাত্র ৭ মাসে পরিচালক মহোদয় হাসপাতলটিকে ঢেলে সাজিয়েছেন নতুনরূপে। তিনি প্রতিদিন রুটিন মাফিক বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন, রোগীর খোঁজ-খবর নেন। কোন অবহেলা, অসংগতি, অনিয়ম দেখলেই নেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

হাসপাতালটি এখন পুরোপুরি দালালমুক্ত। নির্দিষ্ট সময়ছাড়া রিপ্রেজেনটিটিভগণ হাসপাতালে ঢুকতে পারেন না। কঠোর নজরদারীর জন্য হাসপাতালের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অন্যান্য স্থানে ক্যামেরা বসানোর কাজও চলছে।

হাসপাতালে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালটি ডিজিটালাইজ করার জন্যে নেয়া হয়েছে নতুন পদক্ষেপ ।দ্রুত চালু হবে ই-হেলথ, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা ও অটোমেশন পদ্ধতি। অল্পদিনেই আমূল পরিবর্তনের জন্য সেবা প্রদানের দিক দিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালকে এখন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল বলা যেতে পারে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রিগ্রেডিয়ার নাছির উদ্দীন আহমদ বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই অগ্রগতি আমার একার নয়। সবকিছু ময়মনসিংহবাসীর সহযোগিতার ফল। হাসপাতাল উন্নয়নে, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বরাবরের মত অসহযোগিতা করে চলছেন, তবে অনেক ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী হাসপাতালটির সেবারমান বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন।

বিশেষ করে, তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক সাংবাদিক কষ্ট করে প্রতিদিন হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, অসংগতি, সমস্যা সংবাদপত্রে তুলে ধরছেন। তাই আমার জন্য সহজ হচ্ছে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে।

তিনি আরও বলেন- হাসপাতালের উন্নয়নে বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ, জেলাপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষ যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এই হাসপাতালকে দেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব | সবশেষে তিনি বলেন-আমি বিশ্বাস করি, মানুষের কল্যাণ কামনার কোন উদ্যোগ ব্যর্থ হবে না-হয় না।

সর্বাধিক পঠিত খবর

রক্তনালীর ব্লক রোধে ৭ খাবার

পানপাতার আশ্চর্যজনক উপকারিতা!



মারা গেল ভিনগ্রহী সেই শিশু