শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

English Version

ভাগ্য ভাল, রোগটি ‘চিকুনগুনিয়া’!

No icon লেখালেখি

ডা.অপূর্ব পন্ডিত।। ১৭ জুলাই ২০১৭: ভাগ্য ভাল বলতেই হয়। রোগের নাম- চিকুনগুনিয়া। যে রোগে মৃত্যু ঝুঁকি প্রতি ১০ হাজারে ১ জন বা এর চেয়েও কম।

তবে এডিস মশা কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছে- মশা নিধনের  কয়েল, স্প্রে, ম্যাট, লিকুইড রিফিল কোম্পানিগুলো কতো নিম্নস্তরের অপব্যবসায়ী। এ বিষয়ে টেলিভিশনের বাহারী বিজ্ঞাপন যেন আমাদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং একইসঙ্গে হাস্যস্পদ। পাশাপাশি এমন প্রশ্নও সামনে আসছে- আমাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাব্যুহ কত ভংগুর?

চিকুনগুনিয়া ভর করেছে ঢাকায়, এডিস মশার আতঙ্কে শহর। ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। মিডিয়া, টকশো, সিটি কর্পোরেশনসহ দেদারসে চলছে ফগারমেশিন।

ধূম পড়েছে মশার কয়েল, স্প্রে, মশারি কেনায়। স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বাড়ার কারণে, ঐ সমস্ত পণ্যের দাম বাড়ছে- বাড়ছে ব্যবসা। হাইকোর্টে রীট করেছেন ১ ব্যক্তি। অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্যে নির্দেশ প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস জনিত রোগ। ‘এডিস ইজিপ্টি’  এবং ‘এডিস এলবোপিকটাস’ মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। শুধু স্ত্রী মশা দিনের বেলা কামড়ায়। এই প্রজাতির মশা একইসঙ্গে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। একবার রক্ত খাওয়া শেষে, ডিম পাড়ার পূর্বে ৩ দিন বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এদের ডিম পানিতে ১ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। এডিস মশা স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতি স্থানে যেন পানি জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়া এবং মোজাম্বিকে বসবাস ম্যাকওনেড উপজাতির মানুষের। চিকুনগুনিয়া নামটি এসেছে, এই ম্যাকওনেড ভাষা থেকে। এর মানে- ‘যা বাঁকিয়ে দেয়’। এই জ্বরে শরীরে এত বেশি ব্যথা হয় যে, রোগী ব্যথায় বেঁকে যায়। তা থেকেই উৎপত্তি ‘চিকুনগুনিয়া’ নামের।

হঠাৎ জ্বর আসার সঙ্গে প্রচন্ড গিঁটে গিঁটে ব্যথা। উপসর্গ হিসাবে দেখা দেয়- মাথাব্যথা,শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি,বমি বমি ভাব অথবা বমি,চামড়ায় লালচে দানা এবং মাংসপেশিতে ব্যথা।

সাধারণত রোগটি এমনি এমনিই সেরে যায়। তবে কখনও কখনও গিঁটের ব্যথা কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরের বেশি সময় থাকতে পারে।

প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা পরপর অথবা ৩ বেলা প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর সরবত ইত্যাদি খেতে হবে।

জ্বরে আক্রান্তরা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে। অথচ এই ভাইরাসটি শনাক্তে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই। ফলে রোগ নির্ণয় ছাড়াই শুধু লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ‘টোগা’ গোত্রের। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে ‘আরবো ভাইরাস’ও বলে। ডেঙ্গুও জিকা ভাইরাস এবং একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় হুবহু লক্ষণ দেখা যায়। ডেঙ্গুতে রোগের চরম পর্যায়ে মৃত্যুহার ৩৪%। জিকা ভাইরাসে গর্ভবতী মায়ের সন্তানের মাইক্রোসেফালি বা ছোট মাথা হয়।

ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে-  ডেঙ্গু জ্বর  পোলিওমাইলিটিস , জন্ডিস , রেবিস,  এনকেফালাইটিস। কিছু ক্যানসারও ভাইরাসজনিত বলে মনে করা হয়।

তাই ভংগুর নিরাপত্তাব্যবস্থায় চিকুনগুনিয়া না হয়ে অন্য কোন ঘাতক ভাইরাস যদি সমাজে জেঁকে বসতো, তাহলে যে কী হতো, ভাবলেই গা শিউরে উঠে!

ঘরে ঘরে মৃত্যু, অঙ্গহানি বা অন্য কোন জটিল রোগে যে আমরা আক্রান্ত হইনি--- এই বা কম কীসের? স্বাভাবিকভাবেই মহামারী আকার ধারণ করতে পারতো, অন্য কোন ভাইরাসের আক্রমণ। কিন্তু বলতেই হয়- আমাদের ভাগ্য ভাল, রোগটি- চিকুনগুনিয়া!

লেখক: সম্পাদক, আমারহেলথ ডটকম। আবাসিক সার্জন, নাক-কান-গলা বিভাগ, ন্যাশনাল হাসপাতাল, ঢাকা।

 

সর্বাধিক পঠিত খবর



মারা গেল ভিনগ্রহী সেই শিশু


টনসিল থেকে দূরে থাকার উপায়

থাইরয়েড ক্যানসারে উপসর্গগুলি জেনে নিন




সাবধান: ঘন ঘন গ্যাস হচ্ছে?