বুধবার, ০৩ জুন ২০২০

English Version

দেশে প্রতিবছর ১৬ হাজার কোটি টাকার ওষুধ তৈরি হয়

No icon লেখালেখি

বাংলাদেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে গত মাসেই ২০টি ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। সেই সঙ্গে আরো ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করে তাদের সতর্কতা দেয়া হয়েছে।কিন্তু একজন রোগী কিভাবে বুঝবে কোন ওষুধটি ভেজাল, নকল বা নিম্নমানের?

বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ক্ষতিকর প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে কয়েক হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল। সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাবে সংখ্যাটি দুই হাজারের বেশি।

ঢাকার পুরনো অংশের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের আড়াই বছরের শিশুটিও ছিল তাদের একজন।একদিনের জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে, প্রেসক্রিপশনে যে প্যারাসিটামল সিরাপটি লিখে দিয়েছিলেন চিকিৎসক, সেটি খাওয়ানোর পরপরই বমি করেছিল বাচ্চাটি, আর তিনদিনের মাথায় কিডনি বিকল হয়ে মারা গিয়েছিল।পুরো আশির দশক জুড়েই কয়েকটি কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত একটি ব্যপার ছিল।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হতে থাকলে এক পর্যায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কয়েকটি কোম্পানির প্যারাসিটামল সিরাপ পরীক্ষা করে। তাতে ধরা পড়ে ক্ষতিকারক ড্রাই-ইথিলিন গ্লাইকল নামের বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি, যা সেবনে কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে।এরপর ১৯৯২ সালে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পাঁচটি মামলা করে। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তার কয়েকটি ঘটনার বিচার হয়। এখনো কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

কিন্তু বাংলাদেশে এই মূহুর্তে ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধের ব্যাপকতা কতটা?

এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজির অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের বলেন, অনেক সময় ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব ধীরে বা দীর্ঘসময় পরে পড়লে ধরাও যায় না সেটি ভেজাল ওষুধের কারণে হয়েছে কি না।“বাংলাদেশে বছরে উৎপাদন হয় পচিশ হাজার রকমের ওষুধ, এর মধ্যে মাত্র চার হাজার ওষুধ পরীক্ষা করে দেখার সামর্থ্য আছে সরকারের। আর এর দুই থেকে তিন শতাংশ ওষুধ ভেজাল, নকল বা নিম্নমানের। বাকি একুশ হাজার ওষুধ কখনো পরীক্ষাই করা হয় না।”কিন্তু সরকার বলছে, কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সারা বছরই নজরদারি করা হয় এবং ভেজাল বা নকল বন্ধে অভিযান চালানো হয়।

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিনের জানান, এই অপরাধের দায়ে গত মাসেই কুড়িটি ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। সেই সঙ্গে আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি করে ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করে তাদের সতর্কতা দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রোগী নয়, অনেক সময় চিকিৎসকদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, কোনটি ভেজাল ওষুধ ফলে ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অল্পই রয়েছে। ভেজাল বন্ধে সচেতন না হলে সাধারণ মানুষ হয়ত আবারো আমদানি করা ওষুধের ওপর নির্ভর করতে শুরু করবেন।তাতে দেশের ১৬ হাজার কোটি টাকার ঔষধের বাজার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেজন্য সরকারকে এখুনি কঠোর নজরদারি নিশ্চিত এবং মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সূত্র: বিবিসি

সর্বাধিক পঠিত খবর




করোনার বিরুদ্ধে একা লড়াই