বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

English Version

‘কোটার আওতায় প্রবাসী সংরক্ষিত আসন চাই’

No icon লেখালেখি

মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান

আমি প্রবাসী বাঙ্গালী। প্রতিটি প্রবাসীর পক্ষ থেকে বলছি। ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের জনগনের নিজস্ব প্রচেষ্টায় আর সচেতনতার  কারনে, বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পা রাখতে শুরু করেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আর পরবর্তী কালে কিছু প্রবাস থেকে দেশে ফেরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম।

পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত সেই স্বাধীন সূর্য উদয়ের জন্য, বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা আর মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছেন প্রাণ দিচ্ছেন। ১৯৪৭ সালে পাক সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশভাগ, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯, ৭০ আন্দোলন হাজারো জনগনের আত্মাহুতি, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন আর যারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাঁদের হাজারো সালাম। তাঁদেরকে যথাসম্ভব সুযোগ সুবিধা দেয়া অবশ্যই জরুরী এবং যুক্তিসঙ্গত। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ভালভাবে যাচাই বাছাই জরুরী।

প্রবাসীদের মাঝেও ৭১ এর অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা ডবল সম্মানের অধিকারী। ১৯৭৪ সালে দূর্ভিক্ষ,  ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা সহ শত শত নেতা কর্মীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে গুপ্তহত্যার রাজনীতি চালু হয়। এর ধারাবাহিকতা ছিলো বহুদিন। ১৯৯০ সালে গনআন্দোলনের আবারও বাংলার মানুষকে তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। তখন পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন হয়নি। কারণ, আমাদের বাড়তি রোজগার ছিল না, নিজের দিনের খাবার জোগার করতে হিমশিম খেত বাংলাদেশের সাধারণ জনগন। অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি তখনও।

প্রবাসীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যেদিন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে যেতে শুরু করল তখন থেকেই মূলত বাংলাদেশের উন্নয়ন শুরু, পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশেকে। এতে কোন রাজনৈতিক দল বা সরকারের হাত নেই- না গার্মেন্টস শিল্প উন্নয়নে না বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠানোতে। আমরা প্রবাসে ১ কোটি ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। আর এইসব শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সে আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত থেকে মজবুত অবস্থান নিয়েছে। সারা দুনিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার বিরাট ঝড় বয়ে গেল আমরা কিন্তু যক্ষের ধনের মত বাংলা মা কে আগলে রেখেছি বিন্দু মাত্র অর্থনৈতিক কষ্ট পেতে দেই নি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যে কোন উন্নত দেশের কাছাকাছি, শুধু আমাদের জন্য।

হিসেব করলে আসল মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়াতে পারে । বাংলাদেশের মানুষ কি জানেন প্রবাসীরা কতটা অভাগা ? কতটুকু শান্তিতে আছে প্রবাসীরা? জানতে ইচ্ছা করে কি? শুনুন বাঙালী প্রবাসীর শ্রমিকের কাহিনী: সকালে ঘুম থেকে টেলিফোনের এলার্মে ঘুম ভাঙল তারপর তড়িঘড়ি করে সকালের নাস্তা না খেয়েই কাজের উদ্দেশ্যে ছুটা। কাজের ফাঁকেই দুটো মুখে দিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না। একটু বেশী কাজ করলেই দু’টা পয়সা দেশে বেশী পাঠানো যাবে।  দেশের মানুষগুলো ভাল থাকবে। বিকাল তিনটা পর্যন্ত কাজ করে আবার ২ ঘন্টা বাধ্যতামূলেক বিশ্রাম নিয়ে, সন্ধায় আবার কাজে যোগ দিয়ে রাত দশটা এগারটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই এইভাবে দেশ মাতৃকার জন্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কোন বিনোদন নেই।

যেই বয়সে আমাদের বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিয়ে মজা করে মা বাবা ভাই বোন পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে কাটানোর কথা, সেই সময়টা আমরা দেশের দশের কল্যাণে দিয়ে গেলাম, জেলখানার কয়েদীদের মত। বাঙ্গালী মন্ত্রী এমপিগন কি জানতে চেয়েছেন আমরা প্রবাসীরা কেমন আছি, কেমন থাকি? নাকি জাতীয় সংসদে আমাদের নিয়ে কেউ আলোচনা করেছেন? মোটেও না । তাহলে কি সত্যি সত্যি আমরা কলুর বলদ? বাংলাদেশের জনগন কি জানে তাদের জন্য অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে আমরা কত মানুষ শহীদ হয়েছি, প্রাণ দিয়েছি? আমাদের কোন শখ নেই, আমরা টাকা কামানোর মেশিন।

মূলত সিস্টেমেটিক আন্দোলনের মূল উদ্দোক্তা প্রবাসীরা, যারা বাংলাদেশের মানুষকে আধুনিক চিন্তা চেতনায় বাঁচতে শিখিয়েছে। প্রবাসীদের কেনা সম্পত্তি সকলেই দখল করতে চায়- নিজের আপনজনেরাও । দেশে ভুমি দস্যুদের যে জমানা পড়ছে প্রবাসী কেন, দেশীরাও তাদের শয় সম্পত্তি এমনকি পৈত্রিক সম্পত্তি ধরে রাখতে পারছেন না।  আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বিনিয়োগের ১০০% নিরাপত্তা চাই,  কে দিবে সেই নিরাপত্তা ? আমরা চাই আমাদের মৃত লাশটা সম্মানের সাথে দেশে পাঠানো হয়- আমাদের জন্য দেশে নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করা হয়, যারা বিদেশে সারা জীবন শ্রম দিয়ে বৃদ্ধ হয়েছেন তাদের দেখভালের  অত্যাধুনিক ব্যবস্থা করতে হবে- আমাদের অর্থ সম্পদের নিরাপত্তা চাই- আমাদের দেশে (ভাই, বোন, ছেলে-মেয়েদের) অবস্থানরত পরিবারের কোটার আওতায় এনে চাকুরী সহ সকল প্রকার সরকারী সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কথা বলার জন্য দেশের মোট জনসংখ্যা আর আমাদের প্রবাসীদের সংখ্যার আনুপাতিক হারে, প্রবাসী সংরক্ষিত আসন চাই। আমরা প্রবাসীরা আমাদের মনের সুখ দুঃখ আবদার সবকিছু বলার জায়গা চাই-যারা আমাদের প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। যাকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি।

লেখক: ফ্রান্স প্রবাসী

সর্বাধিক পঠিত খবর

ফলে স্টিকার থাকার কারণ



সায়াটিকার ব্যথা ও চিকিৎসা




ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বন্ধে করণীয়